২৭ অক্টোবর ২০২০

ভারতে বিতর্কিত কৃষি বিলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর

বিক্ষোভ আরো জোরালো করার হুঁশিয়ারি কৃষকদের
-

দেশজুড়ে কৃষকদের বিক্ষোভ এবং বিরোধী দলগুলোর অনুরোধ উপেক্ষা করে কৃষি সংস্কার সংক্রান্ত বিতর্কিত তিনটি বিলে সই করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। কৃষি সংক্রান্ত বিল তিনটি লোকসভায় পাস হয়েছিল আগেই। গত রোববার বিরোধী দলের চরম আপত্তি এবং হট্টগোলের মধ্যে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় সেগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিরোধীদের শেষ আশা ছিলেন রাষ্ট্রপতি। রোববার তিনিও বিল তিনটি অনুমোদন দেয়ায় এখন সেগুলো আইনে পরিণত হয়েছে।
গত রোববার কৃষি সংস্কার সংক্রান্ত দু’টি বিল ঘিরে রাজ্যসভা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দীর্ঘদিনের মিত্র পাঞ্জাবের প্রভাবশালী শিরোমণি আকালি দল ওই বিল দু’টির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ‘কৃষিপণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন’ এবং ‘কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করতে কৃষকদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন চুক্তি’ বিষয়ক বিল দু’টি কণ্ঠভোটে পাস হওয়ার আগে বিরোধী এমপিরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়েছিল এবং নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলতে ও স্পিকারের মাইকের দখল নেয়ায় চেষ্টা করেছিল। যে কারণে আট সংসদ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়।
তাদের বরখাস্তের প্রতিবাদে রাজ্যসভা বয়কট করেন বিরোধী এমপিরা। বিরোধীশূন্য রাজ্যসভাতেই পাস হয়ে যায় তৃতীয় কৃষি বিল। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যসভায় তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় গায়ের জোরে বিল পাস করিয়েছে মোদি সরকার। রাজ্যসভায় বিল পাস হওয়া নিয়ে ভারতজুড়ে কৃষকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। কৃষকদের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে রোববার বলা হয়, ওই তিনটি আইনের একটির অধীনে সরকার ন্যায্যমূল্যে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কেনা বন্ধ করে দিতে পারবে। যার ফলে পাইকারি বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।
রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ বিল তিনটিতে সই করায় তারা বিক্ষোভ আরো জোরদার করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টি কৃষকদের বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছে। গত রোববার রাজ্যসভায় কৃষি সংস্কার বিল নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করে কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুর্যওয়ালা বলেছিলেন ‘সরকার যেন এ দেশের কৃষক সম্প্রদায়ের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে, তা নিশ্চিত করব আমরা। এখানে এক পাশে কৃষকদের আর অন্য পাশে বড় বড় ব্যবসায়ীদের রাখা হয়েছে। তারা (কৃষক) লড়বে কিভাবে?’
ভারতের পার্লামেন্টের রীতি অনুযায়ী কোনো বিল পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি তাতে সই না করে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন। সেই সাথে সরকারকে বিলে সংশোধনের পরামর্শও দিতে পারেন। তার পর সেই বিল আবার পাস করিয়ে রাষ্ট্রপতিকে পাঠাতে হয়। তবে দ্বিতীয়বার পার্লামেন্টে পাস হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে গেলে তখন তিনি বিলে সম্মতি দিতে বাধ্য থাকেন।


আরো সংবাদ