২৮ অক্টোবর ২০২০

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বিশ্ব

-

ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের জাতিসঙ্ঘ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে এককভাবে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা পরিষদের বাকি স্থায়ী সদস্য দেশগুলো ভিন্নমত পোষণ করলেও এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। তবে আইনগত কোনো ভিত্তি না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ইরান।
গতকাল রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে হুমকি দিয়ে বলেছেন, জাতিসঙ্ঘের কোনো সদস্য দেশ যদি এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সাথে একমত পোষণ না করে তাহলে তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সাথে ইরানের স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয় শর্ত মেনে চললে তেহরানের ওপর আরোপিত জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তা আবার আর বাড়ানো হবে না। তবে দুই বছর আগে ওই চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে জাতিসঙ্ঘের সদস্য দেশগুলোকে রোববার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। এ ছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত আরো একটি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে এর সব নিষেধাজ্ঞাই ইরানের ওপর পুনর্বহাল হোক।
রোববার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, জাতিসঙ্ঘের সদস্য দেশগুলো যদি এসব নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয় তাহলে ওই ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলোর পরিণতি ভোগ করাতে এবং ইরান যেন জাতিসঙ্ঘের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড ফের শুরু করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কর্তৃপক্ষগুলোকে ব্যবহার করতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ওপর জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে প্রায় এক মাস আগে থেকেই উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিরাপত্তা পরিষদের অপর চারটি স্থায়ী সদস্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাতে সাড়া দেয়নি। নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ২০১৫ সালের চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন ইউরোপীয় দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘ নিষেধাজ্ঞার শিথিলতা অব্যাহত থাকা উচিত।


আরো সংবাদ