১৪ জুলাই ২০২০

লিবিয়ায় ফের শান্তি আলোচনা শুরু করতে রাজি যুদ্ধরত পক্ষগুলো

-

লিবিয়ায় বিরামহীন গৃহযুদ্ধে লড়াইরত পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। সম্প্রতি বিদ্রোহী নেতা পূর্বাঞ্চলভিত্তিক জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে কয়েকদিনের তুমুল লড়াইয়ের মাধ্যমে ত্রিপোলির সরকারের বাহিনী কর্তৃক হটিয়ে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পরে এই সম্মতি এলো।
লিবিয়ার মার্কিন মিশন বলেছে, তারা আশা করছে নতুন দফার আলোচনার মাধ্যমে লিবিয়ার মাটিতে শান্তির সূচনা হবে। এতে বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে করোনভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। জাতিসঙ্ঘের উদ্যোগে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াইরত প্রতিপক্ষদের মধ্যে সংলাপ ও মৈত্রী প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে আসছিলেন কূটনীতিকরা।
মহামারীজনিত কারণে ভিডিওকলের মাধ্যমে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনায় পূর্বাঞ্চলভিত্তিক জেনারেল খলিফা হাফতারের বাহিনী এবং ত্রিপোলিতে জাতিসঙ্ঘের সমর্থিত সরকারের সাথে জোটবদ্ধ মিলিশিয়াদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবে বলে সোমবার গভীর রাতে এক ঘোষণায় জানিয়েছে মার্কিন মিশন। তবে আলোচনাটি কবে থেকে আবার শুরু হবে বা এ সম্পর্কে আরো বিশদভাবে কবে জানাবে তা বলেনি মার্কিন মিশন।
লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতা জেনারেল খলিফা হাফতারের অনুগত বাহিনী ত্রিপোলি বিমানবন্দরের আশপাশে অবস্থান নেয়ার পর তাদের ওপর গোলাবর্ষণ করে দেশটির সরকারি সেনারা। লিবিয়ার সেনারা অপারেশন ‘ভলকানো অফ রেইজ’ নামে অভিযান চালায় এবং ত্রিপোলি বিমানবন্দরের দক্ষিণাংশে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করে। এ অভিযানে হাফতার বাহিনীর তিনটি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়। পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১২ জন আহত হয়। সরকারি সেনাদের ছোড়া কয়েকটি গোলা ত্রিপোলির একটি পার্কে আঘাত হানলে এসব মানুষ হতাহত হয়। লিবিয়ার শাসক কর্নেল গাদ্দাফি ২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর দেশটির রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়েছে, চলছে গৃহযুদ্ধ, যাতে জড়িয়ে পড়েছে বিদেশী শক্তিগুলোও। ত্রিপোলিতে জাতিসঙ্ঘসমর্থিত প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সেরাজের সরকার বর্তমানে ক্ষমতাসীন হলেও লিবিয়ার নানা অংশ নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাদের।
গত বছর থেকেই লিবিয়ার পূর্বাংশ নিয়ন্ত্রণকারী সামরিক নেতা জেনারেল খলিফা হাফতার ত্রিপোলি দখল করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন কিন্তু তার বাহিনী এখন ত্রিপোলির সরকারের আক্রমণের মুখে পিছু হটছে। লিবিয়ার শহরগুলো এখন এক একটি নগররাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হানান সালেহ বলছেন, গৃহযুদ্ধরত সব পক্ষই বেসামরিক মানুষদের প্রতি একই রকম নির্মম আচরণ করেছে। তবে বিশেষ করে খলিফা হাফতারের বাহিনী এমন সব অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে যা, যুদ্ধাপরাধ বলেও বিবেচিত হতে পারে। লিবিয়ার দ্বিতীয় প্রধান শহর বেনগাজির উগ্রপন্থীদের তাড়িয়ে জেনারেল খলিফা হাফতারের উত্থান ঘটে ২০১৪ সালে। জেনারেল হাফতার কর্নেল গাদ্দাফির সাথে তার বৈরিতার জন্য লিবিয়ায় সুপরিচিত। তিনি নির্বাসিত হিসেবে অনেক বছর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ল্যাংলিতে কাটিয়েছেন। এ শহরেই মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএর প্রধান দফতর। সেখানে বসেই গাদ্দাফির পতনের ছক কষতেন জেনারেল হাফতার। এখন তিনি বেনগাজির নিয়ন্ত্রক এবং ত্রিপোলিতে অভিযান চালিয়ে তিনি চেয়েছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফায়েজ আল সেরাজের সরকারকে উৎখাত করে লিবিয়াকে আবার এক রাষ্ট্রে পরিণত করতে।

 


আরো সংবাদ