১৪ জুলাই ২০২০

এথেন্সের সব মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে : এরদোগান

-

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের সব মসজিদ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। একটি মসজিদও অবশিষ্ট নেই। তিনি রোববার রাতে ইস্তাম্বুলে একটি হাসপাতাল উদ্বোধনের সময় এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এক শতাব্দী আগে আমরা যেসব মসজিদ ও স্থাপনা রেখে এসেছিলাম সেগুলোকে অল্প সময়ের মধ্যে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।
এরদোগান বলেন, অতীতে মুসলমানেরা কখনোই দেশ দখল করার চেষ্টা করেনি বরং মুসলমানেরা মন জয় করেছে। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলের আয়াসোফিয়া মসজিদে কুরআন পাঠের সমালোচনা করে গ্রিস সরকার বক্তব্য দেয়ার পর এরদোগান এসব কথা বললেন। এরদোগান গ্রিকদের মনে করিয়ে দেন তারা মুসলমানদের মসজিদগুলোকে কিভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু মুসলমানেরা তা করেনি। খ্রিষ্টান সম্রাট দ্বিতীয় কনস্টান্টিন গ্রিকদের মন্দির ভেঙে আয়াসোফিয়া স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। ৩৬০ খ্রিষ্টাব্দের ১থ৫ ফেব্রুয়ারি ‘হাজিয়া সোফিয়া’ গির্জা নামে নতুন এই স্থাপনা খ্রিষ্টানদের উপাসনার জন্য খুলে দেয়া হয়। ৪০৪ খ্রিষ্টাব্দে কনস্টান্টিনোপলে সৃষ্ট দাঙ্গায় এই গির্জার একাংশ ভস্মীভূত হয়। পরে খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে এটিকে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এরপর প্রায় এক হাজার বছর এটি খ্রিষ্টানদের উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে তৎকালীন বাইজান্টাইন সম্রাটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়ে কনস্টান্টিনোপলের নিয়ন্ত্রণ নেন দ্বিতীয় মুহাম্মাদ খ্যাত ওসমানীয় শাসক সুলতান মোহাম্মাদ ফাতেহ। তিনি কনস্টান্টিনোপলের নাম পরিবর্তন করে ইস্তাম্বুল রাখেন এবং ‘হাজিয়া সোফিয়া’ গির্জাকে ‘আয়া সোফিয়া’ মসজিদে রূপান্তর করেন।
১৯৩৫ সালে তৎকালীন তুর্কি প্রেসিডেন্ট কামাল আতাতুর্ক মসজিদটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করেন। এর পর থেকে এখানে নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ ছিল। ২০০৬ সালে তুর্কি সরকার মুসলমানদের নামাজ আদায় এবং খ্রিষ্টানদের উপাসনার জন্য জাদুঘরের একটি অংশ বরাদ্দ দিয়েছেন।

 


আরো সংবাদ