২৯ মার্চ ২০২০

কাবুলের শিখ গুরুদুয়ারায় আইএস হামলায় নিহত ২৫

কাবুলে হামলাস্থল পরিদর্শন করছেন ন্যাটো সৈন্যরা : এএফপি -

আফগান নিরাপত্তা বাহিনী আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হামলাকারীদের হত্যার মাধ্যমে শিখদের একটি গুরুদুয়ারায় ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের অবসান ঘটিয়েছে। এতে কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। বন্দুকধারীরা আত্মঘাতী বোমা ও বন্দুক হামলা চালিয়ে গুরুদুয়ারাটি অবরোধ করেছিল। আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বন্দুকধারীদের হামলাটি শুরু হয় বলে মন্ত্রণালয়টির মুখপাত্র তারিক আরিয়ান সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছিলেন। আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী কাবুলের পুরনো অংশে অবস্থিত ওই গুরুদুয়ারাটি ঘিরে রেখে হামলা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করতে থাকে। বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর জানানো হয়।
আফগানিস্তান পার্লামেন্টের সংখ্যালঘু প্রতিনিধি নারিন্দ্র সিং খালসা জানিয়েছেন, হামলা শুরু হওয়ার সময় তিনি গুরুদুয়ারার কাছেই ছিলেন এবং দৌড়ে সে দিকে যান। অন্তত চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। তার লাশ কাবুল হাসপাতালে আনা হয় বলে জানায় জরুরি সেবা ও হাসপাতাল কর্মীরা।
হামলার সময়ে গুরুদুয়ারায় অবস্থান করছিলেন মোহন সিং। তিনি বলেছেন তিনি প্রথমে বন্দুকের গুলির শব্দ শুনে একটি চেবিলের নিচে লুকিয়েছিলেন। তারপর তিনি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। তিনি আরো বলেন, তার বিশ্বাস এগুলো ছিল হ্যান্ডগ্রেনেড। এতে ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়লে তিনি আহত হন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিবেশিত ছবিতে দেখা যায়, আফগান বিশেষ বাহিনী এক ডজনের মতো শিশুকে গুরুদুয়ারা থেকে বের করে আনে। তাতে অনেকেই ছিল খালি পায়ে এবং তারা তখন কাঁদছিল। খালসা পরে রয়টার্সকে জানান, ভবনের অভ্যন্তরে কখনো অনেক মানুষ ছিল। তিনি বলেন, বন্দুকধারীরা যখন হামলা শুরু করে, তখন ধর্মশালাটি (গুরুদুয়ার অভ্যন্তরে একটি বিশেষ এলাকা) পুণ্যার্থীতে পরিপূর্ণ ছিল। সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানায়, আইএস তাদের মিডিয়া শাখা আমাকে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
চলতি মাসের প্রথম দিকে কাবুলে শিয়া মুসলিমদের এক অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছিল আইএস। ওই হামলায় ৩২ জন নিহত হয়েছিল। কাবুলে শিখদের গুরুদুয়ারায় এমন সময়ে হামলাটি হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্য কমিয়ে দেবে। গত সোমবার আফগানিস্তান সফর থেকে ফেরার পরপরই এ ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে মার্কিন সাহায্য কমানোর এ ঘোষণা এলো।
গনি ও আব্দুল্লাহর মধ্যকার মতবিরোধ নিরসনের উদ্দেশ্যে সোমবার একদিনের অঘোষিত সফরে আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন। পম্পেও এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে আরো এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের সহায়তার পরিমাণ কর্তনে প্রস্তুত এবং আরো কিছু সহায়তা কমানো যায় কি না তা নির্দিষ্ট করতে আফগানিস্তান বিষয়ক আসন্ন দাতা সম্মেলনে আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবেচনা করার জন্য সব কার্যক্রম এবং প্রকল্পের একটি পর্যালোচনা করা হবে।


আরো সংবাদ