০১ অক্টোবর ২০২০

সেনাদের বিচারে প্রস্তুত সামরিক বিচার বিভাগ : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধ
-

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিচার ব্যবস্থায় সেনাদের বিচারের সামর্থ্যরে বিষয়ে গতকাল রোববার আস্থা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এস্পার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে ক্ষমা করার দু’দিন পরে এই মন্তব্য করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত মার্কিন সেনারা ক্ষমা পাওয়ার পরে তিনি কিভাবে আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো দেশগুলোকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে আশ্বস্ত করবেন জানতে চাইলে এস্পার বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত কার্যকর একটি সামরিক বিচারব্যবস্থা রয়েছে।’ ব্যাংকক সফরকালে ট্রাম্পের ক্ষমা করে দেয়ার সংবাদ প্রকাশের পর এ বিষয়ে দেয়া প্রথম বক্তব্যে এস্পার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামরিক বিচার ব্যবস্থায় আমার যথেষ্ট বিশ্বাস আছে।’
এস্পার বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা প্রথম থেকেই সশস্ত্র সংঘাতের আইন এবং যুদ্ধকালীন সময়ে কিভাবে নিজেকে পরিচালনা করতে হবে সে সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পেয়েছে এবং তারা সে অনুযায়ী আচরণ করার বিষয়ে তাদেরকে জোরালো নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি তারা তা না করে তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের জবাবদিহি করেছে কি না তা নিশ্চিত করতে (সামরিক বিচারের ইউনিফর্ম কোড অনুসারে) পদক্ষেপ নেবে।’
সমালোচকরা বলেছেন যে ট্রাম্পের ক্ষমা করা সামরিক বিচার ব্যবস্থাকে অবমূল্যায়ন করবে এবং একটি বার্তা দেবে যে যুদ্ধক্ষেত্রের নৃশংসতা সহ্য করা হবে। ট্রাম্প তিনজনের বিচারের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করেন। সেনাবাহিনীর ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট ক্লিন্ট লরেন্স, সেনা মেজর ম্যাথিউ গোলস্টেইন এবং নেভি সিলের চিফ পেটি অফিসার অ্যাডওয়ার্ড আর গালাগার। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদফতর পেন্টাগনের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে যুদ্ধপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন সেনা সদস্যকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাবলে সম্পূর্ণরূপে ক্ষমা করে দিয়ে পূর্ণ ক্ষমার আদেশে গত শুক্রবার সই করেন ট্রাম্প।
২০১৩ সালে ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট ক্লিন্ট লরেন্স দুই আফগানের ওপর তার সেনাদের গুলি করার আদেশ দেন। বিষয়টি নিয়ে সেই সময় তুমুল সমালোচনা হয়। একজন আফগান বন্দী মুক্তি পাওয়ার পর মেজর ম্যাথিউ গোলস্টাইনর হাতে নিরস্ত্র অবস্থায় খুন হন। এ কথা তিনি নিজে স্বীকারও করেছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ অপারেশন প্রধান অ্যাডওয়ার্ড গ্যালাঘারকেও এর বিরুদ্ধে ইরাকে নিরস্ত্র বেসামরিক লোকদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা ও এক বন্দীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার মতো অভিযোগ ছিল। এদের পাশাপাশি আরো কয়েকজন সেনা ট্রাম্পের ক্ষমার তালিকায় আছেন। কিন্তু তাদের নাম গোপন রাখা হয়েছে।
গোলস্টেইন বিচারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। লরেন্স আগে থেকে কারাগারে ছিলেন। আর পদচ্যুত হওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর সিল এডি আর গালাঘেরেকে নিজ পদে ফিরিয়ে আনার নির্দেশে দেন। গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সাড়ে ১০টায় ক্যানসাসের ফোর্ট লেভেনওয়ার্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিসিপ্লিনারি ব্যারাক থেকে মুক্তি দেয়া হয় লরেন্সকে। মুক্তির সময় তিনি সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত ছিল।
প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এস্পার ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এর আগে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমা সামরিক বিচার বিভাগের সুশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হতে পারে।

 


আরো সংবাদ