১৮ মে ২০২২, ০৪ জৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩
`

মস্তিষ্ক ব্যবহার করে টুইট শয্যাশায়ী ব্যক্তির নজির

মস্তিষ্ক ব্যবহার করে টুইট শয্যাশায়ী ব্যক্তির নজির - ছবি : সংগৃহীত

‘হ্যালো, ওয়ার্ল্ড’। ছোট্ট একটা টুইট। সাদামাটা। দু’টি শব্দ ছাড়া কি-ই বা আছে তাতে। কিন্তু, প্রযুক্তির ইতিহাসে নয়া যুগের সূচনা করে দিলো সাদামাটা টুইটটিই। কারণ, এই প্রথম শুধুমাত্র মস্তিষ্ককে কাজে লাগিয়ে পোস্টটি করা হয়েছে। অর্থাৎ, কিছু টাইপ করা হয়নি। দরকার পড়েনি স্পিচ টু টেক্সট বিকল্পেরও। মস্তিষ্কে তৈরি ভাবনা সরাসরি ফুটে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে। সৌজন্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস সংস্থা সিনক্রন। তারা পেপারক্লিপের মতো একটি মাইক্রোচিপ তৈরি করেছে। পোশাকি নাম স্টেন্টরড ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস। সেটিকে মস্তিষ্কের সাথে জুড়ে দিয়েই অসাধ্যসাধন করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ওই চিপ ব্রেনের সিগন্যাল বা নির্দেশকে কম্পিউটার পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। ইতিমধ্যেই একাধিক ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ হয়েছে। তবে এই প্রথম টুইট করলেন শয্যাশায়ী কোনো ব্যক্তি। তৈরি হলো নয়া ইতিহাস।

অস্ট্রেলিয়ার ফিলিপ ও’ক্যাফে নামে এক ব্যক্তি বিগত কয়েক বছর ধরে জটিল স্নায়ুর সমস্যায় আক্রান্ত। শরীরের উপরে অংশ অসাড়। এর জেরে ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক নড়াচড়াও। বিছানায় শুয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এমনই সমস্যায় জর্জরিত ফিলিপের ওপর নতুন প্রযুক্তি স্টেন্টরড ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস ব্যবহার করেন বিশেষজ্ঞরা। তাতে ফলও মিলেছে হাতেহাতে।

নতুন এই ইতিহাসের অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বসিত ফিলিপও। তিনি বলেন, ‘প্রথমে এই প্রযুক্তির কথা শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ, প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও এটি আমাকে অনেক কাজ করতে স্বাধীনতা দেবে।’

তবে এই ইন্টারফেস ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণও নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই রোগী। তার কথায়, ‘এটা অনেকটা বাইক চালানো শেখার মতো। প্রথমে প্রচুর অভ্যাস দরকার। সড়গড় হয়ে গেলে আর কোনো সমস্যা থাকে না।’

বর্তমানে অন্যান্য কাজেও একটু একটু করে এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছেন ফিলিপ। তিনি জানান, ‘শুধু ভেবেই এখন আমি কম্পিউটারে ক্লিক করতে পারি। ইমেইল পাঠাতে পারি। এছাড়া ব্যাংক, দোকানে লেনদেন করতে সাহায্য করছে এই ইন্টারফেস। টুইটারে গোটা বিশ্বকে মেসেজও করলাম।’
সূত্র : বর্তমান


আরো সংবাদ


premium cement