০৯ ডিসেম্বর ২০২১
`

তালেবান ইস্যুতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেসবুক

ফেসবুক অফিস - ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিষ্ঠানগুলো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে যাওয়ায় পর নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

গতকাল ফেসবুক নিশ্চিত করেছে, তালেবানকে তারা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেই মনে করে। সে কারণে তালেবান বা তাদের সমর্থনে দেয়া পোস্ট ফেসবুকের সেবাগুলোতে নিষিদ্ধ।

বিশ্বের অনেক দেশেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত তালেবান। এখন তাদের দেয়া পোস্টের প্রসার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে কিভাবে হবে? সঙ্কটটা মূলত সেখানেই।

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তালেবান সদস্যরা ফেসবুকের মালিকানাধীন বার্তা আদান-প্রদানের সেবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ জারি রেখেছে।

ফেসবুকের এক মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তালেবান সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছে প্রমাণ মিললে তারা ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রতি মুহূর্তের খবর জানানোর জন্য টুইটার ব্যবহার করেছেন তালেবান মুখপাত্ররা। প্ল্যাটফর্মটিতে তাদের অনুসারিও কম নয়। সে ব্যাপারে টুইটারের কাছে জানতে চেয়েছিল রয়টার্স।

‘সহিংস সংগঠন এবং বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট–বিষয়ক নীতিমালা’ সম্পর্কে জানিয়েছে, তবে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয়নি টুইটার কর্তৃপক্ষ। টুইটারের নীতিমালায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ বা জনসাধারণের বিরুদ্ধে সহিংসতার বার্তা যারা ছড়ায়, তাদের জায়গা প্ল্যাটফর্মটিতে নেই।

ক্ষমতায় তালেবান ফিরে আসায় জনসাধারণের বাকস্বাধীনতা এবং মানবাধিকার, বিশেষ করে নারীদের অধিকার খর্ব হতে পারে বলে শঙ্কা অনেকের। সেই সাথে দেশটি আবারো সন্ত্রাসবাদের স্বর্গে পরিণত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তালেবান নেতারা অবশ্য শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক চান বলে বিবৃতিতে জানিয়েছেন। সে সাথে আফগানদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকারও করেছেন তারা।

ক্ষমতাসীন বিশ্বনেতাদের অ্যাকাউন্ট নিয়ে চলতি বছরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে উগ্রবাদীদের হামলায় উসকানি দেয়ায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে নিষিদ্ধ করাও সেগুলোর একটি।

মিয়ানমারে বিদ্বেষমূলক পোস্ট সরানোর ব্যর্থতায় বরাবরই সমালোচিত হয়েছে ফেসবুক। তবে সেনাবাহিনীকে নিষিদ্ধের কারণ হিসেবে তারা বলেছে, সেনা অভ্যুত্থানে মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় এবং এতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে নজির আছে, মূলত সেসব কারণে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সেনাবাহিনীকে নিষিদ্ধ করা হয়।

তবে সব ইস্যুতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান কিন্তু এক নয়। ইউটিউবে তালেবান নিষিদ্ধ কি না, জানতে চাইলে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় তারা। তবে ভিডিও শেয়ারের প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য তারা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এবং সে অনুযায়ী অপরাধী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে তাদের নীতিমালার প্রয়োগ করে থাকে।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় তালেবান নেই। তবে সংগঠনটিকে ‘স্পেশালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা।

এদিকে বেশির ভাগ দেশই তালেবানকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর তা বাস্তবায়িত হলে আফগানিস্তানে নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে তালেবানের অবস্থানেও পরিবর্তন আসতে পারে।

তাতে আরো সঙ্কটে পড়বে ফেসবুক বা টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। তখন তালেবান সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু বলার সুযোগও থাকবে না তাদের হাতে।


আরো সংবাদ