Naya Diganta

আজানের পর ফজিলতপূর্ণ ৪ আমল

আজানের পর ফজিলতপূর্ণ ৪ আমল

ইসলামে মানবজীবনের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। খুব ছোট ছোট আমলকেও অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তারই একটি আজানের পর বিশেষ চারটি আমল। সেগুলো পালন করলে অফুরন্ত সওয়াব পাওয়া যায়। আমল চারটি তুলে ধরা হলো-

১. দরুদ শরিফ পাঠ করা।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হচ্ছে। আবদুল্লাহ ইবনে ‘আমর ইবনে আস রা: থেকে বর্ণিত, তিনি প্রিয় নবী সা:-কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মুয়াজজিনকে আজান দিতে শোন, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বল। অতঃপর আমার ওপর দরুদ পাঠ কর। কেননা, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময়ে তার ওপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৩৫)

২. দরুদ পাঠের পর আজানের পরের প্রসিদ্ধ দুয়াটি পাঠ করা।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। ‘জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা:- বলেছেন, যে ব্যক্তি আজান শুনে (নিচের) দুয়া পাঠ করে, কিয়ামাতের দিন সে আমার শাফায়াত লাভের অধিকারী হবে। দোয়াটি হলো-

اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ،

অর্থ : হে আল্লাহ, এ পরিপূর্ণ আহ্বান ও শ্বাশত নামাজের তুমিই প্রভু, মোহাম্মাদ সা:-কে দান কর সর্বোচ্চ মর্যাদা ও অসিলাহ এবং তাঁকে অধিষ্ঠিত করো শ্রেষ্ঠতম প্রশংসিত স্থানে। (বুখারি, হাদিস : ৬১৪)

৩. কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করা।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মুয়াজজিনকে (আজান দিতে) শোনে এবং তখন কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে, (রাসূল সা: বলেন) তার সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
(নাসাঈ, হাদিস : ৬৭৯) কালিমায়ে শাহাদাত হলো-

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই এবং তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। মোহাম্মদ সা: তাঁর বান্দা ও রাসূল।

৪. তারপর এই বাক্যগুলো পড়া।

রাসূল সা: বলেন, যে এটা পড়বে তার সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে। দোয়াটি হলো-

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا, وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا

অর্থ : আমি স্বতস্ফূর্তভাবে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন, মুহাম্মদ সা:-কে রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। (নাসাঈ, হাদিস : ৬৭৯)

-লেখক : শিক্ষার্থী-উলুমুল হাদিস বিভাগ, মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়্যাহ ঢাকা।