Naya Diganta

চি ঠি প ত্র

এ পাগলা সাঁকো ঝোঁকাইস না!
সেই ৫০ এর দশকে প্রাইমারি স্কুলে মদনমোহন তর্কালঙ্কার প্রণীত ‘শিশু শিক্ষা’ নামের ছোট্ট পুস্তিকায় পড়েছিলাম, রাম জল ছাড়িল, আপদ গেল; বিবিসির সান্ধ্য অনুষ্ঠান ‘প্রবাহে’ শুনলাম, বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা ও সুরক্ষার অজুহাতে যৌনতা বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষা পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি কার্টুনের মাধ্যমে তা শিক্ষা দেয়া হবে। যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আর কিছু না হোক আমার মতো, জ্ঞানান্ধদের বিবেচনায় জান আর প্রাণ বিনাশী ধর্ষণ আর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে হয় না। এভাবেই সম্ভবত এক দিকে অভিভাবক যেমন লাজলজ্জার হাত থেকে বেঁচে যাবে, অপর দিকে, রাষ্ট্রও এসব বিচার আচারের বালাই হতে বেঁচে যাবে। সেই রামের (মেঘের) জল ছেড়ে আপদমুক্ত হওয়ার মতো। কে না জানে যে, জন্তু জানোয়ারের যৌনক্রিয়ায় শরমের বালাই না থাকায় তারা তাদের চাহিদা মতো যৌন সাথী বেছে নিয়ে প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ করে থাকে।
কিন্তু মহান স্রষ্টা সৃষ্টির সেরা মানবজাতিকে শরম, লেহাজ, আক্কেল, হুঁশ, বিবেক বিবেচনা, ন্যায়-অন্যায় বোধ সৃষ্টিগতভাবে দান করেছেন, আর সেই প্রতিবন্ধক থাকাতেও দেশে ধর্ষণ নামের পশু প্রবৃত্তির মহা মড়ক শুরু হয়েছে। আর আমাদের দেশে সর্বস্তরে মহিলা দ্বারা শাসনব্যবস্থা চালু থাকলেও আমাদের সম্ভ্রমহারা মায়েরা-মেয়েরা ধর্ষিতা-লাঞ্ছিতা হয়ে কেউ সম্ভ্রম ও প্রাণ পর্যন্ত হারিয়ে তার সব স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে দুনিয়া ছাড়ছে। আবার কেউ মহামূল্যবান সম্পদ সতীত্ব হারিয়ে জানে বেঁচে গেলেও সারা জীবন আত্মীয় পরিজনসহ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে গ্লানির জগদ্দল পাহাড়। কেউবা রাষ্ট্রের কাছে বিচার চেয়ে আরো নির্যাতিতা, আর সেই রাখঢাকের বাজারেও তা একেবারে তুলে দিয়ে শিশু-কিশোর, কিশোরীদের সুপ্ত যৌনতাকে কেন খুঁচিয়ে উসকে দেয়া? ওই যেমন- এক পাগল নদীর পাড়ে বসে আছে তার ধ্যানে, আর এক পথিক সাঁকোর উপরে উঠে বলছে-
এ পাগলা! মুঁই সাঁকোৎ চড়নু, খবরদার সাঁকো ঝোঁকাইসনি। আত্মভোলা পেয়ে গেল নাই কামের কাম, শুরু হলো ঝাঁকানি; পথিক খালে। তেমনি পাগলারা নাই কামের কাম যদি পেয়েই যায়, আর পিতৃতুল্য-মাতৃতুল্য শিক্ষক শিক্ষিকার সামনে যদি শরমের পর্দা উঠে যায়, ধর্ষণ তাহলে আর অপরাধ অপকর্ম বলে গণ্য হবে না। তখন তা হবে নিছক খেলা গায়ে গায়ে শোধ ‘কানের পানি কানে কানে বিদায়।’ শঙ্কা জাগে, দেশ হাঁটি হাঁটি পা পা করে পাশ্চাত্যের পশ্চাচারীর মতো ফ্রি সেক্সের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে কি না!
মো: হাফিজুল্লাহ
শান্তিপুর, মিঠাপুকুর, রংপুর

 

সরু ব্রিজটির সংস্কার জরুরি
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ১ নম্বর ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ছাতারপাইয়া কমিউনিটি ক্লিনিক হাসপাতাল-চিলাদি স্কুল রোড (তাজু পুকুরপাড়-চিলাদি মোল্লøাবাড়ি সংলগ্ন) ইসলাম বেপারী বাড়ির দরজার পুলটির রেলিং ভেঙে পড়ে আছে খালে। এতে যান ও পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলতে হচ্ছে। এই কারণে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এখানে। সরু ব্রিজটি সংস্কার জরুরি। এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা।
৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালে ব্রিজের দক্ষিণ পাশে পুকুরে রাতে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আবার এই রাস্তা দিয়ে চিলাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিলাদি বালিকা দাখিল মাদরাসা, চিলাদি দাওয়াতুল কুরআন ইসলামিয়া মাদরাসা, তেমুহনী আবদুুর রশিদ ভুঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়, তেমুহনী শাপলা কিন্ডার গার্টেন কেজি স্কুল যেতে হয়। অথচ এমন অবস্থায় ব্রিজ রয়েছে দুই-তিন বছর ধরে। ব্রিজ দিয়ে এখন রিকশা ও বাইসাইকেল ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচলই ঝুঁকিপূর্ণ। এলাকাবাসী মনে করে, সরু ব্রিজটি সংস্কার করা জরুরি।
মো: গিয়াস উদ্দিন গেসু (হৃদয়)
প্রতিষ্ঠাতা, ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন উন্নয়ন ফোরাম, নোয়াখালী


মূল্যস্ফীতি রোধ করতে হবে
লাগামহীনভাবে দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলেছে। ফলে মুদ্রামান হ্রাস পাচ্ছে। সরকারের কর্তব্য, জনস্বার্থে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা। সর্বদা ব্যয় সঙ্কোচন নীতি গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসবহুল খাতে অর্থ বরাদ্দ করা যাবে না। বিশেষত রাষ্ট্রীয় কৃচ্ছ্র অবলম্বন করা অতীব জরুরি। তবুও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে ধীরগতি অবলম্বন করাই সমীচীন। সরকারের প্রয়োজনে মাত্রাতিরিক্ত করারোপের দরুন সর্বক্ষেত্রে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার পরে আছে সর্বত্র সীমাহীন দুর্নীতি। একশ্রেণীর লোক জনগণের অর্থ লুটপাট করে বিলাসী জীবন যাপন করছে। আশা করি, সরকার মূল্যস্ফীতি রোধে কার্যকর ও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেবে।
আবদুল জলিল মোড়ল
কেশবপুর, যশোর