Naya Diganta
নগরীর প্রতিটি খালই উদ্ধার করা হবে : মেয়র আতিক

হারিয়ে যাওয়া রামচন্দ্রপুর খাল উদ্ধার করে খনন করছে ডিএনসিসি

নগরীর প্রতিটি খালই উদ্ধার করা হবে : মেয়র আতিক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় লাউতলার রামচন্দ্রপুর খালটি দখলদারিত্বের কারণে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) গত তিন দিনের অভিযানে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খালের বেশির ভাগ অংশ উদ্ধার করেছে। সেখানে এখন পুনঃখননকাজ চলছে। অস্তিত্বহীন খালটি এখন দৃশ্যমান। ডিএনসিসি মেয়র জানিয়েছেন খালটি খনন করে বুড়িগঙ্গা নদীর সাথে সংযুক্ত করা হবে। গতকাল ডিএনসিসি মেয়রের এ কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, শুধু এ খালই নয় রাজধানীতে অবৈধভাবে দখল হওয়া প্রতিটি খালই উদ্ধার করা হবে। এরপর খালগুলো সংস্কার করে নগরবাসীকে একটি আধুনিক-দৃষ্টিনন্দন ও বাসযোগ্য নগর উপহার দেয়া হবে। একই সময়ে ডিএনসিসি মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম বলেন, যত প্রতিবন্ধকতাই থাকুক না কেন জনগণের সহায়তায় জিআইএস ম্যাপ অনুযায়ী নগরীর প্রতিটি খালই উদ্ধার করা হবে।
গত ২৩ জানুয়ারি থেকে লাউতলার রামচন্দ্র খালটি উদ্ধারে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। গত তিন দিনে খালের ওপর থাকা ট্রাকস্ট্যান্ড, বহুতলা মার্কেট, কাঁচাবাজার, ওয়ার্কশপ ও আবাসিক ভবন উচ্ছেদ করা হয়। এরপর সেখানে খাল খনন চলছে। উচ্ছেদ অভিযানের সময় বাধা দেয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এ কারণে চারজনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দু’জন আওয়ামী মহিলা লীগের মোহাম্মদপুর থানা কমিটির সদস্য।
অভিযান প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ আকতার মাহমুদ বলেন, বসিলার লাউতলা এলাকার রামচন্দ্র খালের এ অংশের ওপর ট্রাকস্ট্যান্ড ছিল, বহুতলা মার্কেট, কাঁচাবাজার ওয়ার্কশপ, আবাসিক ভবন ছিল। সিএস ম্যাপে সমান্তরাল দু’টি খাল ছিল। একটা মূল ধারা অন্যটা তার শাখা। এ উচ্ছেদের ফলে দু’টি খালই ফিরে পাওয়া যাবে। উচ্ছেদের পরপরই খাল খননের কাজও শুরু হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশন দৃঢ়ভাবে স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করছে। তাদের এ সাহসী উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
গতকাল খাল উদ্ধার অভিযান সরেজমিন পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম। তিনি পুরো এলাকা ঘুরে ঘুরে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, যারা সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই এখন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এর ফলে সব জায়গায় একটি মেসেজ চলে যাবে যে অবৈধভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র এখানকার খাল উদ্ধার হবে আর অন্যগুলো হবে না এমনটা ভাবা উচিত হবে না। ঢাকা শহরের যত জায়গা দখল করে অবৈধ নির্মাণ করেছেন বা করার পাঁয়তারা করছেন তারা সতর্ক হবেন। কোনো দখলবাজকে বরদাস্ত করা হবে না। জনগণের কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সবকিছু করবে সরকার।
তাজুল ইসলাম আরো জানান, রাজধানীর সব খালের একটির সাথে অন্যটির সংযোগ তৈরি করে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট চালু করা হবে। এ লক্ষ্যে বিদেশী বিনিয়োগ সংস্থার সাথে একাধিক সভা করে প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। ঢাকা শহরের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতেই হবে। জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণের জন্য দুই মেয়র আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদের সাথে সরকারের পূর্ণ সমর্থন আছে এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার পাশে থাকবে। মন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা শহরে এখনো ৫৩টি খালের অস্তিত্ব রয়েছে। এসব খাল উদ্ধার করে যদি নৌচলাচল ও দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন করা যায় তাহলে মানুষ ভেনিস ঘুরতে না গিয়ে ঢাকা শহরে আসবে।
রাজধানীর অন্য খালগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ওয়াটার বোর্ডের অধীনে থাকা খালগুলো হস্তান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন থাকা খালগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ সময় ডিএনসিসি মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম বলেন, যত প্রতিবন্ধকতাই থাকুক না কেন জনগণের সহায়তায় জিআইএস ম্যাপ অনুযায়ী নগরীর প্রতিটি খালই উদ্ধার করা হবে। ডিএনসিসি মেয়র কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবৈধ দখলদারদের নামে কোনো বৈধ নোটিশ ইস্যু করা হবে না, বিনা নোটিশেই তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে। তাই ইতোমধ্যে যারা অবৈধভাবে খাল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তাদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবৈধ দখল ছেড়ে দিতে হবে অন্যথায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় ডিএনসিসির আওতাধীন খালগুলোর সীমানা নির্ধারণকার্যক্রম চলমান রয়েছে, প্রতিটি খালে সীমানা পিলার স্থাপন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সব খালের উভয় পাশেই নির্ধারিত সীমানার কমপক্ষে ২০ ফুট পর্যন্ত কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।