Naya Diganta
নি ত্যো প ন্যা স

আকাশের ওপারে আকাশ

নি ত্যো প ন্যা স

একশ’ চার

রিয়াজ ফিসফিস করে বলল, বেলাল ভাই, এদিকে এসো। গাছের গুঁড়ির এই গর্তের মধ্যে লুকিয়ে যাই। পরীরা উড়তে থেকে তো সহজে দেখতে পাবে না।
যতই পায়ে ডাইনির জুতো থাক না কেন উড়তে থাকা পরীদের নাগালের বাইরে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। রিয়াজের বুদ্ধিটাই বেলালের পছন্দ হলো। আপাতত লুকিয়ে থাকা যাক। পরীরা চলে গেলে তখন না হয় বের হওয়া যাবে। আর যদি ধরা পড়েই যায় তাহলে কী আর করা! থাকতে হবে বাক্সবন্দী হয়ে!
গাছের গুঁড়ির মধ্যে ওরা নিঃশ্বাস বন্ধ করে বসে রইল। পরীরা মানুষের গন্ধ পেলে এখানে চলে আসবে। যেভাবেই হোক গন্ধটা ঢেকে ফেলতে হবে। ডাইনির দেয়া ফুলের গন্ধ রিয়াজ ছড়িয়ে দেয় চার পাশে। তারপর গাছের গুঁড়ির মুখটা লতাপাতা দিয়ে ঢেকে দেয়।
মাথার উপর দিয়ে শোঁ শোঁ করে দুষ্ট পরীদের পাখা ঝাপটিয়ে চলার শব্দ শুনতে পায় ওরা। কিন্তু বুঝতে পারে পরীরা এই গাছের কাছে থামেনি। গাছের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। তার মানে মানুষের গন্ধ পায়নি ওরা।
পরীদের দূরে চলে যাওয়া নিশ্চিত হতেই রিয়াজ বলল, বেলাল ভাই, আমাদের এখানে এভাবে চুপ করে বসে থাকলে হবে না। আমার ছায়া দুনিয়ায় আমার মাকে খুঁজতে গেছে। আমাকেও দুনিয়ায় যেতে হবে। আমার ছায়া বড়জোর মাকে খুঁজে বের করতে পারবে। কিন্তু ছায়াদের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো ক্ষমতাই নেই। কাজেই আমার ছায়া মাকে খুঁজে পেলেও মাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবে না। আমাকেই নিয়ে যেতে হবে।
(চলবে)