Naya Diganta

মিনিটে করোনা শনাক্ত ৮ জন

দেশে ১ মিনিটে করোনা শনাক্ত সাড়ে সাতজন ছাড়িয়েছে অর্থাৎ প্রায় আটজন। অপরদিকে করোনা পরীক্ষা করতে ১ মিনিটে এসেছে প্রায় ২৯ জন (২৮.৬৮ জন) মানুষ। গতকাল নমুনা পরীক্ষায় দেশে শনাক্তের হার হয়েছে ২৬.৩৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ২৬.৩৭ জন শনাক্ত হয়েছে।
করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট দুর্বল ধরনের বলা হলেও ভাইরাসটি মানুষকে আক্রান্ত করছে সর্বোচ্চ গতিতে। দেশে গত বছরের ২৮ জুলাই এক দিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জন করোনা শনাক্ত হয়েছিল। সেদিন ১ মিনিটে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১১ জনের একটু বেশি। বর্তমানে সংক্রমণের গতি যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে তাতে এক সপ্তাহের মধ্যে গত বছরের ২৮ জুলাইয়ের সংক্রমণকে ছাড়িয়ে যাবে।
সংক্রমণ শুরুর এত কম সময়ের মধ্যে এত বেশিসংখ্যক করোনা শনাক্ত আগের দুটো ঢেউয়ে দেখা যায়নি। তবে কিছুটা আশার কথা হলো- সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হলেও সে তুলনায় মৃত্যু কম। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে মৃতু্যু ডেল্টার তুলনায় কম। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার ওমিক্রন ধরনটি কোনো একটি এলাকায় বেশি দিন তার সংক্রমণ ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে না, দুর্বল হয়ে কমতে শুরু করে। যেমন বিশ্বে প্রথম ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের ডেইলি মেইলের রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। অপরদিকে যুক্তরাজ্যেও সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। ডেইলি মেইল বলছে, সেখানে ১৮ বছর অথবা নিচের বয়সীদের ছাড়া অন্য বয়সী মানুষের মধ্যে সংক্রমণ কমে যাচ্ছে। সেখানে গত পঞ্চম সপ্তাহ থেকে ওমিক্রনের সংক্রমণ কমছে, যদিও সেখানে দৈনিক এক লাখ ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ এক দিনে শনাক্ত হচ্ছে।
এদিকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৮৮৮ জনের। মৃত্যু হয়েছে চারজনের। একই সময়ে করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন ৪১ হাজার ২৯২ জন। এই হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন এক হাজার ৭২০ জনের বেশি মানুষ। অপরদিকে রাজধানী ঢাকা শহরে গতকাল ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে সাত হাজার ৩৭৯ জনের। এই হিসাবে ঘণ্টায় গড়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৯৬ জনের কিছু বেশি এবং প্রতি মিনিটে রাজধানীতে শনাক্ত হয়েছে ১৮.২৭ জনের।
রাজধানী ঢাকার পর দেশের প্রতিটি জেলায় ধীরে ধীরে করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। গতকাল ঢাকা বিভাগে সাত হাজার ৮৪৩ জন করোনা শনাক্ত হলেও চট্টগ্রাম বিভাগে এক হাজার ৫৬৬ জন, রাজশাহীতে ৫৬৮ জন, খুলনায় ২৮৭ জন, বরিশালে ১১৭ জন, সিলেটে ৩৫৮ জন, রংপুরে ৮৮ জন এবং ময়মনসিংহে ১৬১ জন শনাক্ত হয়েছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে ঢাকা ছাড়া অন্যান্য বিভাগে সংক্রমণ ১০০ নিচে ছিল।
ঢাকার সাথে দেশের অন্যান্য জেলার যোগাযোগ থাকায় আক্রান্ত মানুষজনের চলাচলের কারণেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। ওমিক্রন সংক্রমণ ঢাকায় শুরু হয় দেশের নারী ক্রিকেটারদের আফ্রিকা থেকে ফিরে আসার পর।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত সংক্রমণ ওমিক্রনে হচ্ছে বলে জানান। এই ক’দিনে সংক্রমণ আরো বেড়েছে মনে করা হচ্ছে। এদিকে চিকিৎসকরা আবারো মাস্ক পরার ওপর জোর দিতে বলেছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং মন্ত্রণালয় থেকেও মাস্ক ব্যবহারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। আক্রান্তদের আঁটসাঁট মাস্ক পরার জন্য গত ১৯ জানুয়ারি করোনা বিষয়ক সরকারের কারিগরি পরামর্শক কমিটি জোর দিয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে ডিসি সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ওমিক্রন সংক্রমণ কমিয়ে আনতে ডিসিদের সহায়তা চেয়েছেন। গণপরিবহনে চলাচলের সময় অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং মাস্ক পরতে বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
চট্টগ্রামে দুই দিন ধরে শনাক্ত ৯ শতাধিক
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, করোনার ‘রেড জোন’ চট্টগ্রামে শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে শঙ্কাজনক হারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শনাক্তের এই ঊর্ধ্বগতির ধারা অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্য খাতে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রামে পরপর দ্বিতীয় দিনের মতো ৯ শতাধিক করোনা রোগী শনাক্তের খবর জানিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। একই সময়ে নগরে একজন করোনা রোগীর মৃত্যুর খবরও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে তিন হাজার ৫৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৯৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ৩০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে ৭৫৭ জন নগরের ও ১৭৩ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। চট্টগ্রামে এ নিয়ে এক লাখ আট হাজার ৩৭৬টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৪২ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
জুলাইয়ের পর রাজশাহী বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্ত
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলায় নতুনভাবে ৪৬৮ জন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মধ্যে তারা শনাক্ত হন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৮৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। অর্থাৎ এটি মহামারী চলাকালে গত জুলাইয়ের পর এই বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্ত। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা: নাজমা আক্তার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী জেলায় ১৫৬ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চারজন, বগুড়ায় ১৩৭ জন, নওগাঁয় ৪১ জন, নাটোরে ১৯ জন, জয়পুরহাটে ৯ জন, সিরাজগঞ্জে ৩০ জন ও পাবনায় ৭২ জন করোনা পজিটিভ রোগী নতুনভাবে শনাক্ত হয়েছেন। সংক্রমিত ৪৬৮ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫৬ জন রাজশাহীর বাসিন্দা।