Naya Diganta

আমরা কিভাবে শুনি

মহান রাব্বুল আল আমিনের পক্ষ থেকে আমাদেরকে দান করেছেন মানবশরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ ‘কান’। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিকে এমন জায়গায় প্রতিস্থাপন করেছেন যাতে করে মানুষ সঠিকভাবে শব্দ শুনতে পারে। এটি আল্লাহ তায়ালার একটি বড় নিয়ামত। মুয়াজ্জিনের সুমধুর কণ্ঠে যখন আজান শোনা যায় তখন পুরো পৃথিবীটা হয়ে ওঠে শব্দময়। একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান যদি আমরা যথাযথভাবে না শুনি তাহলে নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হয়, অন্তঃসারশূন্য মনে হয়। যারা জন্মগতভাবে বধির তারা পৃথিবীর কোনো শব্দ, আল-কুরআনের কোনো আওয়াজ, জন্মদাতা মা-বাবার কোনো উপদেশ, শিক্ষকমণ্ডলীর কোনো শিক্ষণীয় নির্দেশনা শুনতে পায় না। এটি মানবজীবনের সবচেয়ে কষ্টকর অধ্যায়।

প্রতিটি কর্ণে রয়েছে তিনটি অংশ- বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ এবং অন্তঃকর্ণ। বহিঃকর্ণে আবার দু’টি অংশ রয়েছে- 1. auricle ev pinna, 2. external auditory canal. বাতাসে শব্দের উৎপত্তি হলে বহিঃকর্ণের এই দু’টি অংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উৎপত্তিস্থল থেকে যে শব্দটি বের হয় তা ধঁৎরপষব গ্রহণ করে, পরে সেই শব্দতরঙ্গের বীঃবৎহধষ ধঁফরঃড়ৎু পধহধষ মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে কানের পর্দা বা বধৎ ফৎঁসকে আঘাত করে । এখানে বলে রাখা ভালো- বীঃবৎহধষ ধঁফরঃড়ৎু পধহধষ ২৪ মিলিমিটার লম্বা একটি পধহধষ। এই পধহধষ-এর শেষপর্যায়ে থাকে একটি পাতলা স্বচ্ছ পর্দা- আর এটি হচ্ছে ঃুসঢ়ধহরপ সবসনৎধহব। শব্দতরঙ্গ মধ্যকর্ণে প্রবেশ করে এতে অবস্থিত তিনটি অস্থি বা হাড়- যাদেরকে বলা হয় যথাক্রমে সধষষবঁং, রহপঁং ও ংঃধঢ়বংকে আঘাত করে। ঃুসঢ়ধহরপ সবসনৎধহব, যেটি সধষষবঁং-এর সাথে যুক্ত থাকে- শব্দতরঙ্গের আঘাতে পর্দা কেঁপে ওঠার সাথে সাথে উপরোক্ত তিনটি হাড়ও কেঁপে ওঠে।

সবার শেষে কম্পিত হয় ংঃধঢ়বং। এখানে মজার ব্যাপার হলো- আমাদের দেহে সবচেয়ে ছোট হাড় হচ্ছে এই ংঃধঢ়বং। এটির কম্পনের ফলে একটি তরঙ্গমালা সৃষ্টি হয়। সেই তরঙ্গমালা অন্তঃকর্ণে অবস্থিত কিছু পানিজাতীয় তরল পদার্থ থাকে, যাদের বলা হয় ঢ়বৎরষুসঢ়য ও বহফড়ষুসঢ়য- তাতে কম্পন সৃষ্টি করে। সেখান থেকে ড়ৎমধহ ড়ভ পড়ৎঃর- যেটিকে বলা হয় আমাদের দেহের ধঁফরঃড়ৎু ৎবপবঢ়ঃড়ৎ- শব্দতরঙ্গকে রিসিভ করে। ড়ৎমধহ ড়ভ পড়ৎঃর- সেই শব্দ অনুভূতি পড়পযষবধৎ হবৎাব-এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায়। মস্তিষ্ক এই শব্দকে বিশ্লেষণ করে তার অর্থ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আর এই ঘটনাগুলো ঘটে যায় মুহূর্তের মধ্যেই।

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর দেয়া মহান নিয়ামত শব্দ শুনতে পাই নিমিষেই। আর এই জটিল প্রক্রিয়া যতই আমরা বর্ণনা করছি ততই মহান রাব্বুল ইজ্জতের কাছে মাথা নুয়ে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আর মনে মনে বিড় বিড় করে বলি, কী নিখুঁত সৃষ্টি আমার আল্লাহ তায়ালার! এবং আমরা আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার মধ্যেই জানতে পেরেছি- শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গেরই নির্ধারিত কাজ আছে।

কোনো কিছুই অযথা নয়। সেই বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী, আসমান-জমিনের একচ্ছত্র মালিক আমার আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। আর তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইমরানের ১৯০ ও ১৯১ নং আয়াতে বলছেন, ‘নিঃসন্দেহে আসমানসমূহ ও জমিনের (নিখুঁত) সৃষ্টি এবং দিবা-রাত্রির আবর্তনের মাঝে জ্ঞানবান লোকদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে এবং আসমানসমূহ ও জমিনের এ ই সৃষ্টি (নৈপুণ্য) সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে (এবং এসব দেখে তারা বলে), হে আমাদের রব, (সৃষ্টি জগত)-এর কোনো কিছুই আপনি অযথা পয়দা করেননি, আপনি পবিত্র, অতঃপর আপনি আমাদের জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে নিষ্কৃতি দিন।’ আর এই মহামূল্যবান অঙ্গ যদি জন্মগতভাবে কোনো কাজ না করে তবে পৃথিবীটা হয়ে ওঠে বিষাদময়।

বিভিন্ন কারণে শ্রবণশক্তি লোপ পায়, যেমন 1. head trauma, 2. advanced age (presbycusis), 3. Physiological congenital defects, D) prolonged exposure to loud noises, 4. ototoxic medications (i.e. aspirin, certain antibiotics, and chemotherapy), 5, autoimmune diseases, 6. menire’s disease, 6. ear infections, 7. tumors of the inner ear and cochlear nerve (acoustic neuroma). এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের যথাযথ ব্যবহার না করার ফলে কাল কিয়ামতের কঠিন ময়দানে আল্লøাহ তায়ালার কাছে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, ‘তাদের কাছে যদিও (বুঝার মতো) দিল আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা চিন্তা করে না, তাদের কাছে (দেখার মতো) চোখ থাকলেও তারা তা দিয়ে (সত্য) দেখে না, আবার তাদের কাছে (শোনার মতো) কান আছে, কিন্তু তারা সে কান দিয়ে (সত্য কথা) শোনে না; (আসলে) এরা হচ্ছে জন্তু-জানোয়ারের মতো, বরং (কোনো কোনো ক্ষেত্রে) তাদের চেয়েও এরা বেশি পথভ্রষ্ট; এ লোকেরাই হচ্ছে উদাসীন।’ (সূরা আল আ’রাফ- ১৭৯) হ
লেখক : সভাপতি, রাউজান ক্লাব
সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি),
জেনারেল হাসপাতাল, রাঙ্গামাটি