Naya Diganta

উচ্চ শ্বেতকণিকা, কম হিমোগ্লোবিন করোনারোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়

করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর শ্বেতকণিকা ২৬ হাজার ১১০ দশমিক ৬ ঘনমিলিমিটারের বেশি হলে এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে মৃত্যুর আশঙ্কা বেড়ে যায় বলে মনে করছেন গবেষকরা। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত রোগীদের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা বিশ্লেষণ করে মৃত্যুঝুঁকির সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য ওঠে আসে।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সম্মেলন কক্ষে এ গবেষণার বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে চট্টগ্রামে আইসিইউতে থাকা ১৫৬ জন রোগীর মধ্যে ৬৬ শতাংশ রোগী মারা গেছেন। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ রোগীর বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব। এ ছাড়া আইসিইউতে মারা যাওয়া ৮৯ দশমিক ১ শতাংশ রোগী বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিলেন।
গবেষণায় আরো দেখা যায়, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ রোগীর রক্তে শ্বেতকণিকার মাত্রা ২৬ হাজার ১১০ দশমিক ৬ ঘন মিলিমিটারের বেশি হলে মৃত্যুর আশঙ্কা বেড়ে যায়। এ ছাড়া মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ রোগীর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম। যার গড় পরিমাণ ১০ দশমিক ৬ গ্রাম-ডেসিলিটার। আবার ৭২ শতাংশ রোগীর রক্তে অক্সিজেনের চাপ স্বাভাবিকের (৭০-৯০ মিলিমিটার) চেয়ে কম থাকায় মারা গেছেন বলে দাবি গবেষকদের। এ ছাড়া মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। ৭৫ শতাংশের রক্তে ফেরিটিনিন, ডি-ডাইমার ও ট্রপোনিনের স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চমাত্রায় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকরা বলছেন, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের যদি রক্তের বিভিন্ন উপাদানের বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা যায়Ñ তাহলে মৃত্যুঝুঁকি কমে আসবে।
চলতি বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের গবেষকরা। সিভাসুর ভিসি অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা: মো: ইসমাইল খান এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন।