Naya Diganta

সবই গেল মুরাদের

মুরাদ হাসান

গাজীপুরের সদ্য বরখাস্ত হওয়া মেয়র জাহাঙ্গীর আলম সরকারের পথেই হাঁটছেন সদ্য পদত্যাগী তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসান। সম্প্রতি তার কিছু বক্তব্য ও অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। ওই বক্তব্য ও অডিও ক্লিপটি খোদ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। এ বিষয়টি ভালোভাবে নেননি প্রধানমন্ত্রী। এ পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। গতকাল মঙ্গলবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন ডা: মুরাদ হাসান। রাতে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ ছাড়া দলীয় পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দলটির প্রাথমিক সদস্য পদও খোয়াতে পারেন আলোচনায় থাকা এ প্রতিমন্ত্রী। দলের আগামী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় প্রাথমিক সদস্য পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে বলে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা আভাস দিয়েছেন।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র সারসংক্ষেপ আকারে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ নয়া দিগন্তকে বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তার মধ্যে আমি কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করেছি। তার কিছু বক্তব্য ও ঘটনা সরকার ও দলকে বিব্রত করেছে। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করার জন্য বলেছেন এবং সে অনুযায়ী তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র তার জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি ইতোমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিয়ে গেছেন।

ডা: মুরাদ হাসানকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ বিষয়ে দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তিনি যেহেতু জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক, দলীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেটি জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ বলতে পারবে। সংসদ সদস্য পদ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি একজন সংসদ সদস্য এবং বিষয়টি জাতীয় সংসদের।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি তার সুস্থতা এবং মঙ্গল কামনা করি। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার এই ঘটনাগুলো আসলে দুঃখজনক। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমাদের কোনো কাজে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াননি বরং ডা: মুরাদ হাসান আমাকে সবসময় সহযোগিতা করে এসেছেন। সেজন্য তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

ডা: মুরাদ হাসান বলতেন, ‘তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেই বিভিন্ন মন্তব্য করেন’ এ বিষয়টি সাংবাদিকরা তুলে ধরলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসান প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে কিছু বলেছেন বলে আমার জানা নেই। আমি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেও কাজ করেছি। দল বা সরকার বিব্রত হয় এমন কোনো কথা বা কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রী কখনো কারো জন্যই অনুমোদন করেন না।

পদচ্যুত ডা: মুরাদ হাসানের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নয়া দিগন্তকে বলেন, ডা: মুরাদ হাসানের বিষয়ে আমরা বিব্রত ও লজ্জিত। কোনো পর্যায় থেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। এটা তার প্রাপ্য ছিল। প্রধানমন্ত্রী যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি বলেন, নারীর সম্মান রক্ষার্থে সরকার ও আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের আবাসিক হল নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এটা সমাজের জন্য, সবার জন্য একটি মেসেজ। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মুরাদ হাসানের চূড়ান্ত পরিণতি সময়ই বলে দেবে।

জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের কারণে ডা: মুরাদ হাসান সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু অডিও-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। বিতর্কিত বক্তব্যের পাশাপাশি সম্প্রতি চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সাথে টেলিফোনে তার কথোপকথনের একটি অডিও ভাইরাল হয়। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে দল ও সরকার। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে না পারলেও সারা দেশে দলের নেতাকর্মীরা তার ওপর বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। বিষয়টি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দল ও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরই ডা: মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।

গতকাল পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরই বিকেলে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ অনুমোদিত হয়। এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ গতকাল সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে বলেন, সম্প্রতি ডা: মুরাদের কিছু বিতর্কিত বক্তব্যের অডিও-ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। ঢালিউডের এক নায়িকার সাথে তার অসৌজন্যমূলক একটি ফোনালাপও ফাঁস হয়েছে। এসব কিছু আমাদের দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, এ সিদ্ধান্ত রেজুলেশন আকারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে ইতোমধ্যে মেইলে পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে তার প্রাথমিক সদস্যপদ যাবে কিনা এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই এখতিয়ার আমাদের নেই।

মুরাদের পদত্যাগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের গতকাল বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, কে কোথায় কী করছেন, সব খবর দলীয় প্রধানের কাছে রয়েছে। কোনো অনিয়ম, অপকর্মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। যেটা দেশবাসী এরই মধ্যে প্রমাণ পেয়েছে। অপরাধী যেই হোক, অপকর্ম যেই করুক, তিনি যেই হোন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। সেটা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আবার প্রমাণ করেছেন। তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, অপরাধী দলীয় পরিচয় দেয়। কিন্তু সরকার কিংবা আওয়ামী লীগ কখনো কোনো অপরাধীর পক্ষে দাঁড়ায়নি, কখনো কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি। বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও খুনের ঘটনায়ও কিন্তু ছাত্রলীগের জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আবরার হত্যায় জড়িত প্রায় সবাই ছাত্রলীগ করত, সেখানেও কিন্তু সরকার কাউকে ছাড় দেয়নি। স্পষ্টভাবে বলছি, অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না।

চট্টগ্রাম থেকে পদত্যাগ : চট্টগ্রাম থেকে গতকাল ই-মেইলে পদত্যাগপত্র পাঠান ডা: হাসান। তারেক রহমানের কন্যাকে নিয়ে অশালীন ও বর্ণবাদী বক্তব্য দেয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধী দল বিএনপি। তারা প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। বেসরকারি সংগঠন নারীপক্ষ এবং ৪০টি নারী অধিকার কর্মী আলাদা বিবৃতিতে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায়।

জানা গেছে, নিজের বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে মুরাদ হাসান গত সোমবার চট্টগ্রামে যান। সেখান থেকেই তিনি তার দফতরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে গতকাল সকালে পদত্যাগপত্র তৈরি করেন। পরে সেটি সই করে ই-মেইলে তার দফতরের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান। কিন্তু ওই পদত্যাগপত্রে তিনি তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের তারিখ ২০২১ সালের ১৯ মে উল্লেখ করেন। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা তারিখটি ঠিক থাকলেও সালটি ভুল। তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে আসলে ২০১৯ সালের ১৯ মে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পরে অবশ্য সেটি সংশোধন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেয়া হয়।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ২০১৯ সালের মে মাসে মুরাদ হাসানকে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। মুরাদ হাসান জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক। তবে তিনি দলীয় এই পদও হারাচ্ছেন। কারণ, জেলা আওয়ামী লীগ তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে।

পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন : এ দিকে ডা: মো: মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ। গতকাল রাতে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। এ পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
রেহাই পেতেন না মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও : মুরাদ হাসানের বাড়াবাড়ি থেকে রেহাই পেতেন না মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। কারণে-অকারণে তিনি অশ্রাব্য গালাগালি করতেন তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিমন্ত্রীর দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, তার ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ ছিল। সব সময় সাথে পিস্তল রাখতেন। তার কোনো কিছু পছন্দ না হলে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন। মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘তোকে লাথি মারব’।
অন্য একটি ঘটনার ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা বলেন, আরেকজনকে ফাইল দিয়ে মারার জন্য উদ্যত হন তিনি। বলেন, তোকে আজ শেষ করে দেব। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। কিন্তু তিনি সীমা লঙ্ঘন করেছেন। এজন্যই তার এমন পরিণতি মনে করেন ওই কর্মকর্তা।
একান্ত সচিব (পিএস) ও সহকারী একান্ত সচিবের (এপিএস) দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও ছাড়তেন না ডা: মুরাদ। এসব কারণে দায়িত্বও ছেড়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। কর্মচারীদের গালাগালি করলেও ভয়ে মুখ খুলতেন না তারা।

জিজ্ঞাসাবাদ করবে ডিবি : সদ্যপদত্যাগী তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসানকে ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। সম্প্রতি মুরাদ হাসানের সাথে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। ওই ফোনালাপে মুরাদ হাসান মাহিকে তুলে আনার জন্য ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সংস্থার নাম উল্লেখ করেন। ডিবি পুলিশের নাম উল্লেখ করার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এ ব্যাপারে হারুন আর রশিদ বলেন, আমি অন্য কোনো বাহিনীর কথা বলব না। যেহেতু তিনি (মুরাদ হাসান) ওই ফোনালাপে ডিবির কথা উল্লেখ করেছেন, তাই প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একই সাথে এই ঘটনায় চিত্রনায়ক ইমনের কতটুকু সম্পৃক্ততা রয়েছে সে ব্যপারও খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুরো বিষয়টিই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো কিছু ভাইরাল হলে আমাদের ডিবির সাইবার ইউনিট দেখভাল করে ও তদন্ত করে থাকে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ যদি অভিযোগ দায়ের করে এবং আমাদের ডিবি সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ আসে তাহলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো। প্রয়োজন অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি বিভিন্ন বিতর্কের পাশাপাশি তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের মোবাইল ফোনের একটি কথোপকথন ফাঁস হয়। যেখানে তিনি চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে তার সাথে দেখা করার জন্য বলেন। ফোনে চিত্রনায়ক ইমনকে তিনি বলেন, ঘাড় ধরে যেন মাহিকে তার কাছে নিয়ে যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি সংস্থার সদস্যদের পাঠিয়ে মাহিকে তুলে আনারও হুমকি দেন তিনি।

শাহবাগ থানায় অভিযোগ : ঢাবি প্রতিবেদক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ও শামসুন্নাহার হলের নারীনেত্রীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের পক্ষে শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক এজিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার।
অভিযোগপত্রে ‘সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে ফেসবুক পেজে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে লাইভ অনুষ্ঠান করা, দেশের সর্বপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠকে সে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাচ্ছিল্য করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী রোকেয়া হল এবং শামসুন্নাহার হলের নারীশিক্ষার্থীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা, নারীর রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে নাগরিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ বিরোধী ন্যক্কারজনক বক্তব্য ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে তাদের মান ক্ষুণœ করেছে।’

শাহবাগ থানা সূত্র নয়া দিগন্তকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার কম্পোজ করা অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। এটি এখনো জিডি বা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

চিত্রনায়ক ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ : এ দিকে সদ্যপদত্যাগী তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসানের সাথে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির ফাঁস হওয়া ফোনালাপের বিষয়ে চিত্রনায়ক মামনুন হাসান ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র্যাব। গতকাল সন্ধ্যায় তাকে র্যাব সদর দফতরে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে এই ঘটনার সাথে তার কী সম্পর্ক রয়েছে এবং আনুষঙ্গিক অন্য বিষয় নিয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে গত সোমবার রাতে ডিবি কার্যালয়ে যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদের সাথেও দেখা করেন তিনি।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক মুরাদ ও মাহিয়া মাহির অডিও ক্লিপ ফাঁসের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিত্রনায়ক ইমনকে র্যাব সদর দফতরে ডাকা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। র্যাব জানায়, ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যায় মাহির সাথে কথা বলার আগে মুরাদ হাসান ইমনের সাথে কথা বলছেন। এসব বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানার জন্য তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতিক বিষয় নিয়ে র্যাবও তদন্তকাজ শুরু করেছে।

এর আগে সোমবার রাতে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয়ে ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সেখানে তার সাথে প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেন ডিবি কর্মকর্তারা। এরপর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। যদিও ইমন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ডিবি পুলিশ তাকে ডেকে পাঠায়নি। তিনি নিজেই বিভিন্ন বিষয়ে আইনি পরামর্শের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহি ও মুরাদ হাসানের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেই ফোনে অশ্লীল-আপত্তিকর ভাষায় মাহির সাথে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি মাহিকে তার সাথে দেখা করতে বলেন। এমনকি চিত্রনায়িকাকে ধর্ষণ ও মেরে ফেলার হুমকিও দেন।