Naya Diganta

বাংলাদেশ সরকারের দরপত্রে স্বচ্ছতা চায় যুক্তরাষ্ট্র : রাষ্ট্রদূত মিলার

গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচ্যাম, বাংলাদেশ) ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের দরপত্রে আরো স্বচ্ছতা চায় যুক্তরাষ্ট্র। একইসাথে সব ব্যবসায়ীর জন্য ন্যায্য ও সমান সুযোগ আশা করে। এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে বেসরকারি খাত ও বিনিয়োগবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বিনিয়োগ ও উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করছে অ্যামচ্যাম ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। অ্যামচ্যাম উন্নত ব্যবসা পরিবেশের জন্য স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়া ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে সফলতার ভিত্তি হবে মেধা, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নয়।
তিনি বলেন, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৯০ কোটি ডলার। ২৫ বছর আগে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ১৬০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ২৫ বছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়েছে ৫০০ শতাংশ। বাংলাদেশ থেকে মূলত রফতানি হয়েছে তৈরী পোশাক। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রফতানি হয়েছে কৃষিপণ্য ও যন্ত্রপাতি। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে লোকোমোটিভ (রেলইঞ্জিন), বাণিজ্যিক এয়ারক্র্যাফট, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নদীখননের যন্ত্রপাতি আসছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি, অনলাইন শপিংয়ের সাথে জড়িত অর্থনৈতিক সেবাদাতা কোম্পানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো বাংলাদেশকে বিশ্বের সাথে যুক্ত করছে।
রাষ্ট্রদূতের ‘দরপত্রে স্বচ্ছতা’ প্রসঙ্গের দিকে না গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা খুব তাড়াতাড়ি শিখতে পারে। এখানে জ্বালানি খাতে খরচও তুলনামূলকভাবে কম। বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের সব উপাদানই বাংলাদেশে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা এই সুবিধাগুলো নিতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার খুবই ব্যবসাবন্ধব। আমরা বিনিয়োগ সুরক্ষার গ্যারান্টি দিয়ে থাকি। বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দেয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অনুবিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দিতে এই অনুবিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।
রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং করোনা মহামারী মোকাবেলায় বাংলাদেশকে দেয়া সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।