Naya Diganta

বিশ্বসাহিত্যের টুকিটাকি

ইন্দোনেশিয়ার আউই চিনের ডেব্যু উপন্যাস পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে
লেখক আউই ও তার বইয়ের প্রচ্ছদ ইন্দোনেশিয়ার তরুণ লেখক আউই চিন তার ডেব্যু নভেলের মাধ্যমে পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছেন। এমনটা কমই ঘটে। আউই চিন কিশোর বয়স থেকেই একজন ভালো পাঠক ছিলেন, যখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে জাভাকে ঘটনাস্থল করে লেখা কতগুলো স্থানীয় উপন্যাসে সেখানকার অনেক সত্যই তুলে ধরা হয়নি। তার প্রথম উপন্যাস ‘ইয়াং তাক কুনজুং উসাই ‘ (নেভার এন্ডিং) এ আউই চিন প্রমাণ করেছেন যে একটি ইন্দোনেশিয়ান গল্পের জন্য বিদেশী সেটিংস ভালো হওয়ার প্রয়োজন নেই। নেভার এন্ডিং একটি প্রেমকাহিনী, যে প্রেমের কোনো শেষ বা এন্ডিং নেই। এটি একটি ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী, যাতে যুক্ত আছে দুই পুরুষ ও এক নারী। এক নারীর প্রতি দুই পুরুষের ভালোবাসার কাহিনী নয় এটি, বরং এটি একজন পুরুষের এক নারী এবং এক পুরুষের প্রতি ভালোবাসার কাহিনী। ঘটনার ঘনঘটা একটু বিচিত্র বৈকি! প্রকৃতপক্ষে, উপন্যাসটি এমন একটি ইস্যু সম্পর্কিত ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরেছে যা খুব কমই আলোচিত হয়েছে। সাহিত্যে চীনা-ইন্দোনেশিয়ান প্রতিনিধিত্বের অভাব রয়েছে বলে আউই এর অভিমত। ১৪ নভেম্বর, ১৯৬৭ ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তাক্ত মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। যখন দায়াক গ্রুপগুলো পশ্চিম কালিমান্তানের গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী চীনা-ইন্দোনেশিয়ান সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ করেছিল। হামলায় প্রায় ৩০০০ লোক মারা গেছে। তার ছাপ আছে বাহাসা ইন্দোনেশিয়ায় প্রকাশিত এ উপন্যাসে। আউই চিনের জন্ম জাকার্তায় ১২ নভেম্বর, ১৯৯১ এ। সে সময় তার নাম ছিল আগুং উইজায়ন্তো। ১৯৯৮ সালের দাঙ্গা থেকে বেঁচে যাওয়া একজন আগুং। তিনি পেশায় একজন ফিল্ম এডিটর। তার লেখা একটি শর্ট ফিল্মের স্ক্রিপ্ট ২০১৩ সালে ফিল্ম ফেস্টিভালে শর্ট ফিল্ম ফান্ডিং প্রোগ্রামে স্থান পায়। দ্য নেভার এন্ডিং উপন্যাস ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়। একই বছরে তিনি মিনিস্ট্রি অব ট্যুরিজম অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ ইকোনমি আয়োজিত ছোটগল্প প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। তার নিসকালা নাকুলা শিরোনামের ছোটগল্প মেসেজ পেনিন্টাস সিয়াং নামের ছোটগল্পের সঙ্কলনে প্রকাশিত হয়েছিল।