Naya Diganta

কুমিল্লায় প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

ইউপি নির্বাচন ঘিরে কুমিল্লার বরুড়ায় প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশের এসআইকে আহত করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সোমবার বরুড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন ওই কেন্দ্রের একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরুড়া থানার ওসি ইকবাল বাহার। তবে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে কতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে এবং সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের মধ্যে কে মামলা করেছেন তা বলা যাচ্ছে না।

এদিকে প্রিজাইডিং অফিসারের পকেট থেকে ৪৪ হাজার টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। এতে ভাতা বঞ্চিত হন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন কার ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

স্থানীয়রা জানান, তালা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে এই হামলা হয়।

স্থানীয়, পোলিং অফিসার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরুড়ার ঝলম ইউনিয়নের ডেউয়াতলী কেন্দ্রে নির্বাচনের আগের দিন শনিবার রাতে ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়। নির্বাচনের দিন রোববার সকাল ৮টা থেকে ৬টি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল ৯টার দিকে তালা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী মোখলেছুর রহমান প্রিজাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়ার কাছে ব্যালট বই দেয়ার দাবি করেন। প্রিজাইডিং অফিসার তাকে ব্যালট বই দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ ঘটনার প্রায় ২ ঘণ্টা পর ভোট কেন্দ্রের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মেম্বার প্রার্থী মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। আত্মরক্ষার্থে প্রিজাইডিং অফিসার কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ফেলে।

হামলাকারীরা প্রিজাইডিং অফিসারকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করলে বাধা দেন পুলিশের এসআই আবু হানিফ। এতে লাঠি ও রামদা দিয়ে আঘাত করে তাকে মাটিতে ফেলে দেয় ছয়-সাতজনের একটি দল। মাটিতে ফেলে তার কোমরে ছুরি ও রামদা দিয়ে কোপানো হয়। তার পিস্তল ছিনতাই করা হয়। পরে সেটি উদ্ধার করা হয়।

তালা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী মোখলেসুর রহমান তিনবার প্রিজাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ারকে ছুরিকাঘাত করেন। হামলাকারী মোখলেছ নিজেকে পাসপোর্টের কাজ করেন বলে দাবি করেন। এদিকে স্থানীয়রা তাকে আইনজীবী সহকারী বলে জানেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রার্থী মোখলেছুর রহমান বলেন, `আমি একজন প্রতিবন্ধী ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। প্রতিপক্ষের লোকজন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার করছে। আমি এ ঘটনার সময় ভয়ে পালিয়ে যাই। হামলা করতে যাব কেন?‘

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো: কামরুল হাসান জানান, এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হামলাকরীরা কেউ রেহাই পাবে না।