Naya Diganta

নোয়াখালীতে হাসপাতালে হামলা-ভাংচুর : ৪৩ আ’লীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

নোয়াখালীতে হাসপাতালে হামলা-আওয়ামী লীগ-যুবলীগ

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মো: হেলাল উদ্দিনকে মারধর ও ভাংচুর ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় সুধারাম মডেল থানায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৪৩ জন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (অরএমও) সৈয়দ মহি উদ্দিন আব্দুল আজিম বাদি হয়ে এজাহারনামীয় আটজনসহ আরো ৩০/৩৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

তার আগে সকালে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মো: খোরশেদ আলমের সভা কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ বিএমএ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় প্রশাসন তত্ত্বাবধায়কের উপরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের আশ্বাস দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের পূর্ব ঘোষিত কর্মবিরতি স্থগিত করেন।

উল্লেখ্য, রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ের দরপত্র টেন্ডার সিডিউল সংগ্রহ করতে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন ও তার অর্ধশত লোক। এ সময় তার লোকজন পুরো হাসপাতালের ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। তিনি সিডিউল চাইলে প্রক্রিয়া শেষ করে সিডিউল দিতে কিছুটা দেরি হলে তার নেতৃত্বে লোকজন তত্ত্বাবধায়ককে মারধর করে, তারা অফিসের অন্যান্য কর্মচারীকেও মারধর করে এবং হাসপাতালে ভাংচুর চালায়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালের মূল ফটকে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরএমও’র নেতৃত্বে হাসপাতালের ডাক্তার, ওয়ার্ড বয় ও নার্সসহ হাসপাতালের কর্মচারীরা বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীরা অ্যাড. শিহান উদ্দিন শাহীনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হেলাল উদ্দিনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্মবিরতি পালন করবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়।

এদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে তার অনুসারী কর্তৃক হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা: হেলাল উদ্দিনের উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানায় বিএমএ নোয়াখালী শাখা। সংগঠনটির নোয়াখালী শাখার দফতর সম্পাদক ডাক্তার মো: মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার মদদদাতা শিহাব উদ্দিন শাহীন ও হামলার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে সোমবার সকাল ১০টা থেকে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।