Naya Diganta

জোছনার সাথে আড়ম্বর উদযাপন করি সে রাত

জোছনা আমি আড়ম্বর করে উদযাপন করি। মন ভরে চাঁদ দেখতে আমার বরাবরই ভাল্লøাগে! সেই চোখ ফোটার পর থেকে দেখছি, আজ অবধি আধা ছটাক একঘেয়েমি লাগেনি!
জোছনা রাতে আমার ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দার দোলনায় বসে অপলক চাঁদ দেখা আমার একটা পেশা। বহু রাত আমি আমার এনালগ আমলের কাঠের দোলনায় বসে আসমানের রুপার থালার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসেছি আবার সময় ভেদে হু হু শব্দে কেঁদে হয়রান হয়েছি। একই চাঁদ আর একই রাত, শুধু অনুভূতির উনিশ-বিশ হলেই কত ভিন্ন রকমের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয়!
মানুষ নাকি চন্দ্রাহত হয়! আমি চাঁদ দেখে শ্বাসরোধ হয়ে মরে গিয়েছিলাম এক বর্ষার রাতে। সে রাতে এত প্রচণ্ড বৃষ্টি হলো যে, আমি হকচকিয়ে গেলাম! এত মেঘ কখন জমল? মেঘ এত পানির জোগাড় কিভাবে করল? এর মধ্যে আবার রসগোল্লার মতো মিষ্টি আর ধবধবে একটা চাঁদ লক্ষ্মী মেয়ের মতো আকাশে বসে থাকল সমস্ত রাতজুড়ে। আর এদিকে এমন মাঝরাতে আমি আর আমার দোলনা-বন্ধু ভিজে একাকার! আরেকবার চাঁদ দেখে মরে ভূত হয়েছিলাম! পৃথিবীর সব বাঘা বাঘা চিত্রশিল্পীর হাতে সব চেতে দামি রঙ, কাগজ আর তুলি ধরিয়ে দিলেও সে রাতের আকাশ আর চাঁদ আঁকা সম্ভব বলে মনে হয় না। আটতলা বিল্ডিংটার বিরাট ছাদে কারা যেন ডজন খানেক চৌকি পেতে রেখেছিল। অনেক কাহিনী-কসরত আর অনুমতির ধাপ পেরিয়ে ছাদে গিয়ে একেকটা চৌকিতে বুক চিতিয়ে শুয়ে চাঁদ দেখেছিলাম আম্মু, আব্বু, আমি আর আমার ছোট ভাই! সে রাতের মেঘগুলো ছিল অবিকল সাদা হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো! মন চাচ্ছিল মেঘের এক পাশ থেকে ছিঁড়ে একটু মুখে পুরে দেখি কেমন মিষ্টি! আর চাঁদটা এত ভদ্র- এত চুপচাপ ছিল যে কী বলব! তুমুল বাতাসে তাবৎ হাওয়াই মিঠাই মেঘ তাদের পরিবারসমেত উড়ে বেড়াচ্ছিল আকাশময়! কিন্তু চাঁদের কোনো নড়াচড়া নেই।
মানুষের মুখে যতই অত্যাশ্চর্য চাঁদের রাতের গল্প শুনি না কেন, সেই চৌকিতে শুয়ে আকাশ দেখার মতো হৃদয়গ্রাহী অভিজ্ঞতার সাথে কোনো কিছুর তুলনা করতে আমি পারি না। সত্যি বলতে, এক জীবনে চাঁদের সাথে আলাপ করে বড় আরাম পেয়েছি। চাঁদ একটা টনিক। চাঁদ একটা বন্ধু।