Naya Diganta

গোয়ালন্দে ৬ দিন আটকে রেখে যুবককে নির্যাতন, পলাতক ইউপি সদস্য

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অটোরিকশা চুরির ঘটনায় এক যুবককে ৬ দিন ধরে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী যুবকের নাম রাসেল শেখ (২০)। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সৈদাল পাড়ার নজরুল শেখের ছেলে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম ওসমান কাজী। তিনি দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার। শনিবার সকাল থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

গোয়ালন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা তায়াবীর জানান, ওই ইউপি সদস্যের নামেও থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। একই অভিযোগে তার ছোটভাইকে আটক করা হয়েছে।

নির্যাতিত যুবক শনিবার দুপুরে রাজবাড়ীর আমলি আদালতের বিচারকের কাছে জবানবন্দি দেবার পর তাকে তার আত্মীয়-স্বজনের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় শনিবার রাসেলের নানী জহুরা খাতুন (৭০) ও খালা শুকুরজান (৫০) গোয়ালন্দ ঘাট থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন। মামলায় ইউপি সদস্য ওসমান কাজী, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীসহ মোট ১০ জন ও অজ্ঞাতনামা আরো ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ইতোমধ্যে মকবুল কাজী (২৮) নামের একজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে। তিনি ইউপি সদস্য ওসমান কাজীর ছোটভাই। এ ঘটনার পর ওসমান কাজীও গ্রেফতার আতঙ্কে পলাতক রয়েছেন।

জানা গেছে, দৌলতদিয়ার সৈদাল পাড়া এলাকায় প্রায় ৩ মাস আগে সোনামুদ্দিন নামে একজনের একটি অটোরিকশা চুরি হয়। ভুক্তভোগী যুবক রাসেল ঢাকায় অটোরিকশা চালান। তার মায়ের বিদেশে যাওয়া উপলক্ষে তিনি কিছুদিন আগে বাড়ি আসেন। মাকে বিদায় দেয়ার পর গত ১৯ নভেম্বর ঢাকার উদ্দেশ্যে তিনি বাড়ি হতে বের হন। কিন্তু দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছালে ইউপি সদস্য ওসমান ৭-৮ জন যুবকসহ গিয়ে তাকে পাকড়াও করেন। তারা রাসেলকে সোনামুদ্দিনের অটো চুরির দায় দিয়ে বাস কাউন্টার ও তেলের পাম্পের দোতলায় নিয়ে দু’দফা মারপিট করেন।

রাতে রাসেলকে ওসমান কাজী তার বাড়িতে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করেন। এ সময় নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে চুরির কথা স্বীকার করতে বাধ্য করে। পরদিন ২০ নভেম্বর তাকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে শালিসে নিয়ে যাওয়া হয়। চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে শালিস বৈঠকে তিনি অটো চুরির কথা স্বীকার করেন ও তার সাথে কয়েকজন জড়িত থাকার কথা বলেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেম্বার ওসমান আমাকে বেদম মারপিট করে ও প্রাননাশের হুমকি দেয়। যে কারণে আমি ভয়ে তার শেখানো মতো শালিসে অটো চুরির কথা স্বীকার করি। আসলে আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি ঢাকায় থাকি। এলাকার এসব বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।’

রাসেলের নানী জহুরা খাতুন (৭০) জানান, আমরা রাসেলকে ওসমান মেম্বারের বাড়িতে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখার ঘটনা জানার পর শুক্রবার রাতে ৯৯৯-এ ফোন করি। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ এসে রাসেলকে ওসমানের ভাই মকবুলের ঘর থেকে উদ্ধার করে অসুস্থ্য অবস্থায় গোয়ালন্দ হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাত সারে ১১টার দিকে আমরা বাড়ি ফেরার পথে ওসমানের লোকজন তাদের উপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি নিজে, তার মেয়ে শুকুরজান ও নাতনি হাজেরা আহত হন।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল জানান, শালিসের পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত তিনি রাসেলকে তার স্বজনদের জিম্মায় থাকার পরামর্শ দেন। ঘরে আটকে রাখার বিষয়টি তার জানা নেই।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ওসমান কাজী মোবাইল ফোনে জানান, রাসেলের কোনো আত্মীয়-স্বজন তাকে জিম্মায় নেয়নি। ফলে উপস্থিত সকলের অনুরোধে তাকে তার হেফাজতে নেন। তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, কাউকে ঘরে আটকে রাখা বা কোনো অভিযোগে নির্যাতন করা আইনত অপরাধ। এ ঘটনায় ভিকটিম রাসেলের পরিবারের পক্ষ হতে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অটো চুরির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।