Naya Diganta

মোবাইল চুরির অপবাদে বিবস্ত্র করে যুবককে নির্যাতন!

মাজহারুল ইসলাম পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। প্রতিদিনের মতো ভোরে চা খেতে বসেন বাসার পাশের একটি চায়ের দোকানে। সেখান থেকেই মেম্বারের ছেলে মুন্নাসহ ৫ জনের নেতৃত্বে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় পাশের একটি কলাবাগানে। এরপরই শুরু হয় পাশবিক নির্যাতন। এ নির্যাতন যেন মধ্যযুগীয় কায়দাকেও হার মানায়।

পরনের লুঙ্গি খুলে পুড়িয়ে দেয় পাষণ্ডরা! এরপর বিবস্ত্র অবস্থায় মোটা তার ও লোহার পাইপ দিয়ে বেধড়ক পিটুনি দিয়ে গুরুতর জখম করে দিনমজুর মাজহারুল ইসলামকে।

আহত মাজহারুল ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার চরআলগি ইউনিয়নের চরমসলন্দ গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। তিনি প্রায় এক যুগ ধরে শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামের রঙিলাবাজার এলাকায় ভাড়া থেকে দিনমজুরের কাজ করছেন।

শনিবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামে এ পাশবিক অত্যাচারের ঘটনা ঘটে।

দুপুর ১২টার দিকে মুলাইদ গ্রামের জপ্তার পুকুরের পূর্বপাশে একটি পিলারের সাথে মাজহারুলকে দুই হাত বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। এ সময় তিনি তার ওপর রোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

নির্যাতিত মাজহারুল জানান, আমি সকালে চা খেতে বাড়ির পাশের দোকানে গেলে মুলাইদ গ্রামের মৃত আমির মেম্বারের ছেলে মুন্নার নেতৃত্বে স্থানীয় জাহিদুল ও ইমরানসহ মোট ৫ জন আমাকে একটি কলাবাগানে নিয়ে বিবস্ত্র করে আমার পরনের জামাকাপড় খুলে পুড়িয়ে দেয়। তারা আমার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেছিল। আমার কাছে অল্প কিছু টাকা ও একটি মোবাইল ছিল, সেগুলো তারা ছিনিয়ে নেয়। পরে আমাকে এই পিলারের সঙ্গে বেঁধে রেখে চলে যায়।

এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজীব হাসান বলেন, খবর পেয়ে ভুক্তভোগী মাজহারুলকে দুপুর ২টার দিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।