Naya Diganta

কচ্ছপ ও কৃষক

কচ্ছপ ও কৃষক

একজন কৃষক প্রতিদিন কোদাল কাঁধে মাঠে যেত। এক দিন এই জমির আইল কাটত তো, পরদিন অন্য জমির আইল কাটত। আর মাটি হতে ঘাসগুলো বাম হাত দিয়ে আলাদা করে রাখত। কাজ শেষে প্রতিদিন ঘাসগুলো বস্তায় ভরে বাড়ি নিয়ে আসত। আর ঘাসগুলো শুকিয়ে রাখত জ্বালানি করার জন্য।
একদিন একটা কচ্ছপ বস্তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন অর্ধেক বস্তায় ঘাস ছিল। তার ওপর গামছায় বাঁধা ছিল গমের একটা শুকনা রুটি। এমন সময় কচ্ছপটি রুটির ঘ্রাণ পেল। সে এদিক-ওদিক চাইতে লাগল। আর খুঁজতে লাগল কোথা হতে খাবারের ঘ্রাণ আসছে। খুঁজতে খুঁজতে সে অনুমান করল, খাবারের ঘ্রাণ এই বস্তার ভেতর হতেই আসছে। তখন বস্তার চারদিকে গাড়ির চাকার মতোন বনবন করে ঘুরতে লাগল কচ্ছপটি। কিন্তু কোনোভাবেই নাগাল পাচ্ছিল না খাবারের। কচ্ছপটি বস্তার গায়ে বারবার গুঁতো মারাতে এক সময় বস্তাটা কাত হয়ে পড়ে গেল। তখন কচ্ছপটি তড়িঘড়ি ঢুকে পড়ল বস্তার ভেতর। গামছায় বাঁধা রুটিটা ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে লাগল।
এদিকে কৃষকের ক্লান্তি চেপে আসায় সেদিনের মতো কাজ বন্ধ করে দিলো। খাবার যে এনেছে সে-ই কথাও ভুলে গেছিল। কৃষক এক পাঞ্জা ঘাস নিয়ে বস্তার কাছে এলো। মাটিতে পড়ে থাকা বস্তাটা দাঁড় করিয়ে ঘাসগুলো ত্বরিত ভরল। তারপর দড়ি দিয়ে বস্তার মুখে শক্ত করে গিঁট বসালো। কচ্ছপটি একমনে রুটি ছিঁড়ে খাচ্ছিল। যখন কৃষক ঘাসগুলো বস্তার ভেতর রাখছিল তখন কচ্ছপটি কিছুটা টের পেয়েছিল। কিন্তু কি না কী ভেবে খেয়েই গেল সে। কৃষক বস্তাটি মাথায় নিয়ে বাড়ি গেল। বাড়ি গিয়ে বস্তাটি মাথার ওপর হতে ধড়াম করে ফেলে দিলো। এবার ভালোভাবে টের পেল কচ্ছপটি। বস্তার ভেতর হতে পালানোর চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু পালানোর পথ তো বন্ধ ! বস্তার ভেতর ছটফট করতে লাগল কচ্ছপটি।
বস্তার ভেতরে নড়াচড়া দেখে কৃষক বস্তাটার গিঁট খুলল। এরপর ঘাসগুলো বের করতেই বেরিয়ে এলো কচ্ছপটি। কৃষক ভীষণ অবাক হলো! কচ্ছপটি কৃষকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলল, ভাই, আমার খুব খিদে পেয়েছিল। আর বাচ্চাগুলোও খাবারের জন্য কাঁদছিল। কোনও জায়গাতে খাবার না পেয়ে তোমার খাবারগুলো নিচ্ছিলাম। দয়া করে আমাকে মাফ করে দাও।
কৃষক বলল, ওহ ! কিন্তু আমার তো মনেই ছিল না খাবারের কথা। যা খেয়েছিস, ভালো করেছিস। তোর বাচ্চারা কই?
কচ্ছপটি বলল, আখক্ষেতের ভেতর আমার বাসাতে আছে।
কিন্তু তুই কি যেতে পারবি? এখন তো আমার বাড়িতে তুই। তোকে না দেখেই তো বস্তায় ভরে নিয়ে এসেছি। এখান হতে তো তোর বাসা অনেক দূর।
বাসা অনেক দূরে শুনেই কচ্ছপটি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। আর কাকুতি-মিনতি করে বলল, কৃষক ভাই, আমাকে রেখে এসোনা। আমি না থাকলে বাচ্চাদের অনেক কষ্ট হবে।
কচ্ছপটির এমন কাকুতি-মিনতি ভরা কণ্ঠে কৃষকের খুব মায়া হলো। কিছু খাবারসহ একটা ঝুড়িতে ভরে কচ্ছপটিকে রেখে এলো কৃষক।