Naya Diganta

‘আমানত শাহ’ উদ্ধারে ব্যর্থ ‘হামজা’, পৌঁছায়নি ‘প্রত্যয়’

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া ফেরি আমানতশাহ উদ্ধারে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চলছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ উদ্দার কাজ চালিয়ে এখনো সফল হতে পারেনি। অপর একটি জাহাজ ‘প্রত্যয়’ উদ্ধার কাজে যোগ দিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে রওনা দিয়েছে। তবে এখনো সেটি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি।

ডুবে যাওয়া রো রো ফেরি আমনত শাহর ওজন বেশী হওয়ায় তা হামজার সক্ষমতার বাইরে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, তাহলে অন্যসব রো রো ফেরি যদি দুর্ঘটনায় পড়ে তাহলে তখন উদ্ধার কাজ কিভাবে হবে? এসব সেক্টরে কেনো এতো দুর্বলতা?

বিআইডব্লিউটিএ-র পরিচালক মো: শাহজাহান বলেন, আমাদের যতটুকু সক্ষমতা আছে তাই দিয়েই উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করে থাকি। আমাদের উদ্ধার কাজের সক্ষমতা আছে ২৫০ টনের মতো, আর হামজার ওজন ৬০ টন। আমরা জানতে পেরিছি আমানত শাহর আউট অফ লোড হচ্ছে ৪৮০ টন। ডুবে যাওয়ার পর এ ওজন আরো বেড়েছে। যা আমাদের সক্ষমতার বাহিরে।

তিনি বলেন, প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ ঘটনাস্থলে আসতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া আরেকটি উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভিক’ রয়েছে বরিশালে। এখান থেকে নায়ায়ণগঞ্জের দূরুত্ব হলো ১৫০/১৬০ কিলোমিটার, আর বরিশালের দূরত্ব ২৫০ কিলোমিটার। দূরত্ব বেশী থাকায় আসতে দেরি হচ্ছে। আমরা উদ্ধার কাজে আরো কৌলশ অবলম্বন করছি।

অভিযানের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত একটি কাভার্ডভ্যান টেনে তুলেছে হামজা। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নদীতে ডুবে যাওয়া পাঁচটি ট্রাক ও দুইটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

পদ্মায় নিমজিত কভার্ডভ্যানের মালিক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী গার্মেন্টে চাকরি করে কিছু টাকা জমা করেছিলাম। সেই জমানো টাকা ও কিস্তির সুবিধা নিয়ে একটি ট্রাক কিনি। এই ফেরিডুবিতে আমার জীবনের সব সম্বল শেষ হয়ে গেল। কাভার্ডভ্যানের আয় দিয়ে কিস্তি দেই ও সংসার চালাই। চোখের সামনেই সেটা শেষ হয়ে যাচ্ছে কিছুই করতে পারছি না। উদ্ধারের জন্য দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি, কেউ পাত্তা দিচ্ছে না।’

পটুয়াখালির দক্ষিণ সবুজবাগের কাভার্ডভ্যানের মালিক সোয়েবুর রহমান বলেন, অনেক আশা করে একটি গাড়ি কিনেছিলাম। তাও শেষ হয়ে গেলো। এখন কিভাবে চলবো?

জানা গেছে, বুধবার সকালে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটের কাছে রো রো ফেরি শাহ আমানত কাত হয়ে পদ্মায় ডুবে যায়। বেলা ১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা উদ্ধার কাজে অংশ নিয়ে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কাজ করে।

বুধবার রাত পর্যন্ত ৪টি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভাসমান কারখানা মধুমতির পাশে ৫টি ট্রাক ভেসে যাওয়ার আগেই শনাক্ত করা হয়েছে।