Naya Diganta

বেলাবতে আখচাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

এক সময় আখচাষের জন্য বিখ্যাত ছিল নরসিংদী বেলাব উপজেলা। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছিল। সেচ প্রকল্পের আবির্ভাব হওয়ায় এক সময় খাদ্যচাহিদার জন্য ধান আবাদে ঝুঁকে পড়েন কৃষক। কিন্তু ধান আবাদে ব্যয়ের তুলনায় লাভের অঙ্ক কম হওয়ায় এখন আবার আখচাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। বর্তমানে এক বিঘা জমিতে ধানের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ লাভ পাওয়া যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবার উপজেলায় মোট ৩৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। আটটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়ন বাজনাব, পাটুলী, আমলাব, বেলাব ও নারায়ণপুরের মাটি আখচাষের উপযোগী। সবচেয়ে বেশি আখচাষ হচ্ছে বাজনাব ইউনিয়নে। এখানকার প্রতিটি গ্রামেই কম বেশি আখচাষ দেখা যায়। আখের মধ্যে আবার বিভিন্ন প্রকার জাত আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ঈশ্বরদী-২৮ ও টেনাই (বোম্বাই)। টেনাই সরাসরি বাজারে বিক্রি করা হয় খাওয়ার জন্য। অন্য দিকে ঈশ্বরদী-২৮ গুড় ও চিনি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এক সময় আখ মাড়াইয়ের মেশিন ঘুরাতে ব্যবহৃত হতো গরু-মহিষ। কিন্তু বর্তমানে শ্যালো ইঞ্জিনের সাহায্যে আখ মাড়াই হয় বলে কাজে তেমন বেগ পেতে হয় না। উপজেলার বাজনাব গ্রামের সৈয়দ পাড়ার আখচাষি পারভেজ জানান, এক বিঘা জমিতে টেনাই চাষে মোট খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা এবং বিক্রি হয় লাখ টাকার ওপরে। বিক্রির জন্য চাষিদের কোথাও যেতে হয় না। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে জমি থেকে আখ কিনে নিয়ে যায়। তা ছাড়া সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন সবজি চাষ করে অনেক লাভবান হওয়া যায়। অন্য দিকে ঈশ্বরদী-২৮ জাতের আখ উৎপাদনে এক বিঘাতে ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ হয় এবং যা থেকে উৎপাদিত গুড় ৭০-৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এ দিক থেকে তিনি মনে করেন বর্তমানে যেকোনো ফসলের চেয়ে আখচাষ অনেক লাভজনক।
উপজেলা কৃষি উপসহকারী সালাহ উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, আখচাষের জন্য ক্ষার মাটির প্রয়োজন, যা এ এলাকার মাটিতে আছে।
অন্যান্য ফসলের মতো আখচাষিদের কোনো প্রশিক্ষণ দেয়া হয় কিনা জনতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিম উর রউফ জানান, সরকারিভাবে আখচাষিদের প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা স্থানীয়ভাবে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তা ছাড়া কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক তা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় চাষিদের দাবিÑ সরকার যদি আখচাষিদের বিভিন্ন রকম প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু করে তবে এ উপজেলায় আখচাষ পুনরায় তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।