Naya Diganta

চিলমারীতে জিআরে নিম্নমানের চাল, ওজনেও কম

প্রায় এক মাস পর বিতরণ হলো জিআর বরাদ্দের চাল। তবে চাল পেলেও ওজনে কম এবং নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেছেন সুবিধাভোগীরা।
জানা গেছে, বন্যাকালীন বরাদ্দের পরিপ্রেক্ষিতে অসহায় দুস্থদের বিভিন্ন সময় ভিজিএফ ও জিআরের চাল বিতরণ করা হয়। এরই পরিপেক্ষিতে কুড়িগ্রামের চিলমারীতেও বিভিন্ন তারিখে ভিজিএফ ও জিআরের বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দ এলেও ত্রাণের নামে প্রায় সময় চলে লুটপাট আর অনিয়ম। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় অপরাধীরা। করোনা ছাড়াও বন্যা চলাকালীন বিভিন্ন বরাদ্দ ছাড়াও অসহায় দুস্থদের জন্য সর্বশেষ জিআরের ১৫ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে। বরাদ্দ আসার কয়েক দিন পর ছয়টি ইউনিয়নে বিভাজন করে ইউনিয়ন-প্রতি ২৫০টি পরিবারের জন্য আড়াই টন চাল বরাদ্দ দিয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ডিও দেয়া হয়। কিন্তু বরাদ্দ দেয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা চাল বিতরণে শুরু করে টালবাহনা। অবশেষে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা বিতরণ শুরু করলেও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও চাল নিম্নমানের এবং ওজনও কম দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সুবিধাভোগীদের।
সরেজমিন থানাহাট ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, শুরু হয়েছে চাল বিতরণ এবং ৩০ কেজির বস্তা দেয়া হচ্ছে তিন নামে। পরিবারপ্রতি ১০ কেজি করে দেয়ার কথা থাকলেও ওজনে কম এবং চালের মান খুবই খারাপ বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর, মমিনুল, মাজেদাসহ অনেকে। এ সময় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা উপসহকারী কৃষি অফিসার সাঈদ হোসেন আনছারী অভিযোগকারী ব্যক্তিদের চালের বস্তা ওজন করে অভিযোগের সত্যতা পান এবং বস্তাপ্রতি চার থেকে ছয় কেজি করে কম পান। তবে সরকারি গুদাম থেকে আসা সেলাইযুক্ত বস্তায় কেন চাল কম হলো সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বিতরণে থাকা দায়িত্বরতরা। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলএসডি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক মিলন।
এ দিকে বরাদ্দ পাওয়ার প্রায় এক মাস পর অষ্টমীরচর ইউনিয়নে চাল বিতরণ নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। ব্যস্ততার কারণে বিতরণে দেরি হয়েছে জানিয়ে অষ্টমীরচর ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব বলেন, শনিবার চাল বিতরণ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুর রহমান সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।