Naya Diganta

কাশ্মিরে ৯ ভারতীয় সেনা নিহত

চলমান অভিযানে ৯ সেনা সদস্যকে হারালো ভারতীয় বাহিনী।

ভারতশাসিত কাশ্মিরে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযান চালাতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার নিখোঁজ হওয়া একজন জুনিয়র কমিশনড অফিসারসহ (জেসিও) দুই সেনা সদস্যের লাশ উদ্ধার করেছে সামরিক বাহিনী। শনিবার এ দুটি লাশ উদ্ধারের মাধ্যমে চলমান অভিযানে সেনা সদস্য নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ জনে। খবর এনডিটিভির।

খবরে প্রকাশ, জম্মু-কাশ্মিরের পুঞ্চ জেলায় এ অভিযান চালানো হয়। সেখানে ‘সন্ত্রাসী’দের সাথে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধ হয়।

সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে রয়েছেন সন্দেহে ওই এলাকার ভারী বনাঞ্চলে দেশটির সামরিক বাহিনী বড় ধরনের চিরুনি অভিযান শুরু করে। অভিযান শুরুর ৪৮ ঘণ্টা পর সেখান থেকে ওই দুই সেনা সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ভারতীয় এ গণমাধ্যমটি বলছে, জম্মু-কাশ্মিরে একক বন্দুকযুদ্ধে প্রাণহানির এই সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ।

তবে কাশ্মিরে চলমান এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কতজন বেসামরিক এবং ‘সন্ত্রাসী’র প্রাণহানি ঘটেছে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি সংবাদমাধ্যমটি।

দেশটির সেনাবাহিনীর সূত্র বলছে, বৃহস্পতিবার পুঞ্চ জেলায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা ‘সন্ত্রাসী’দের ব্যাপক গুলিবর্ষণের কবলে পড়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন ওই জেসিও ও অন্য সেনা সদস্য। একই এলাকায় অভিযানের সময় পাঁচ সেনা সদস্য নিহত হওয়ার চার দিন পর পুঞ্চ-রাজৌরির বনাঞ্চলে যোগাম্বর সিং এবং বিক্রম সিং নেগি নামে আরো দুই সেনার প্রাণহানি ঘটে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বৃহস্পতিবার সামরিক বাহিনীর সদস্যরা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ওই জেসিওর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

শনিবার সকালের দিকেও জম্মু-কাশ্মিরের মেনধরের নার খাস বনাঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। গভীর বনের ভেতরে আত্মগোপনে যাওয়া ‘সন্ত্রাসী’দের উচ্ছেদে শুরু হওয়া এই অভিযানে ব্যাপক গোলাগুলি ও প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

‘সন্ত্রাসী’দের উপস্থিতির গোপন খবরে গত সোমবার ডেরা কি গালি এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করে ভারতের সামরিক বাহিনী। অভিযানে ‘সন্ত্রাসী’দের সাথে গোলাগুলিতে সামরিক বাহিনীর একজন জেসিও-সহ মোট পাঁচ সৈন্যের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হয় এবং তারপর থেকেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম দীর্ঘ ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ এই অভিযান এখনো চলছে।

পুঞ্চ-জম্মু মহাসড়ক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই বন্ধ রয়েছে।