Naya Diganta

ভুল থেকে কবে শিক্ষা নেবে বাংলাদেশ?

ভারতের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ১০ জন নিয়ে ড্র করায় যতটা আনন্দের ঠিক এর বিপরীত নেপালের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও পরে ১০ জন হয়ে ড্র করা। যা আরেকটি সাফে বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতার কাহিনী। এ জন্য এখন উজবেক রেফারির কঠোর সমালোচনা করা হচ্ছে। বুধবার মালের স্টেডিয়ামে ৮৭ মিনিটে তার দেয়া পেনাল্টিতে সর্বনাশ বাংলাদেশের। কিন্তু এই পেনাল্টি কেন্দ্রিক ভুল ও এর আগে সুমন রেজা, রাকিবের ভুলগুলোই সর্বনাশের ভিত্তি রচনা করে। যার চড়া মূল্য দিয়ে হয়েছে বিতর্কিত পেনাল্টিতে। কিন্তু এই ভুলগুলো থেকে কবে শিক্ষা নেবে বাংলাদেশের ফুটবলাররা!

পেনাল্টি নিয়ে অনেক বিতর্ক। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে হেড করতে উঠেন নেপালি ফুটবলার অঞ্জন বিস্তা। বাংলাদেশের সাদউদ্দিনও লাফিয়ে উঠেন। তখন সাদউদ্দিনের হাতের ধাক্কা লাগে নেপালি ফুটবলারের পিঠ ও মাথায়। এই সামান্য ধাক্কাকেই মারাত্মক বানিয়ে চমৎকার অভিনয় করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পেনাল্টি আদায় করেন অঞ্জন বিস্তা।

তবে সাদউদ্দিনের হাত যদি অঞ্জনের গায়ে না লাগতো তাহলে কোনোভাবেই স্পটকিকের বাঁশি বাজাতে পারতেন না রেফারি। সাদদের জানতে হবে এই ধরনের ম্যাচে এমন কাজ করলে এর দণ্ড পেতেই হবে। অবশ্যই সতর্ক হতে হবে হাত আর পায়ের ব্যবহারে।

২০১৩ সালের কাঠমান্ডু সাফে অধিনায়ক মামুনুল শেষ মিনিটে অযথা ফাউল করে ভারতকে ফ্রি-কিক উপহার দেন। এরপর সুনীল ছেত্রীর শটে ১-১ এ ড্রতে জয় বঞ্চিত বাংলাদেশ।

দোষটা এখন সাদের ওপর গেলেও ভুলের মূলে সুমন রেজা। স্বার্থপরের মতো নিজে দুরূহ কোন থেকে গোলরক্ষক সোজা না মেরে ফাঁকায় থাকা ইব্রাহিমকে দিলে গোল হয়ে যেতে পারতো। তাহলে প্রথমার্ধেই ২ গোলে পিছিয়ে পড়া নেপালের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হতো। বিরতির পর নিজে একা যেমন নেপালি গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি, তেমনি আরেকবার ইব্রাহিমকে বল না দিয়ে নিজে পোস্টে মেরে নষ্ট করেন সুযোগ। এবারও ফাঁকায় ছিলেন ইব্রাহিম। উঠতি এই স্ট্রাইকার না কি সব সময়ই স্বার্থপরতায়, জানান সতীর্থরা।

এরপর রাকিবের ভুল ব্যাক পাসে গোলরক্ষক জিকোর লালকার্ড মারাত্মক ক্ষতি করে। জাতীয় দলে নিয়মিত এই মিডফিল্ডার কেন এই ভয়াবহ ভুলটি করবেন? ২০১১ ও ২০১৮-এর সাফে গোলরক্ষক সোহেলের ভুলে ছিটকে পড়া। কখনো সোহেল, কখনো মামুনুল, কখনো সুমন, রাকিব বা সাদউদ্দিনের ভুল, এই ভুলগুলো কি চললেই থাকবে? আর বারবারই স্বপ্ন ভঙ্গের কাহিনী? কবে এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেবে ফুটবলাররা। সাথে দ্বিতীয়ার্ধে কোচের রক্ষণাত্মক কৌশলও পূরণ হতে দেয়নি লক্ষ্য। আঘাত পাওয়া জামাল ভূঁইয়ার জায়গায় ফাহাদকে না নামিয়ে সোহেল রানাকে খেলানোর সিদ্ধান্তও সঠিক ছিল না।