Naya Diganta

অর্থের অভাবে সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না মোমিন

নিজের লেখাপড়া আর সংসার চালাতে রাজমিস্ত্রীর কাজ নেন মোমিন। বয়স এখন ১৮ বছর। বাবা থাকেন প্রথম স্ত্রী সন্তানের সাথে। মোমিনের সংসারে আছে তার মা ও চার ভাই বোন। এর মধ্যে মোমিন সবার বড়। এখন তার কাধে পুরো সংসারের বোঝা। তাই জীবন চালাতে স্যু রাজমিস্ত্রীর কাজ নেয় সে। মাত্র দুই বছরেই পুরো কাজ আয়ত্ব করেছে। একমাত্র তার আয়ে সংসার ভালোই চলছিল। ছোট তিন ভাই-বোনের পাশাপাশি কাজের অবসর সময়ে মোমিনও পড়াশুনা করে। এ বছর সে কারিগরি শাখা থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী। তবে বিধি বাম। ১০ মাস আগে কাজে যাওয়ার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় মোমিন। এতে তার ডান পায়ের পুরো হাড় ভেঙ্গে যায়। সংসারে যা গচ্ছিত ছিল তা শুরুতেই চিকিৎসায় শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে অর্থ সঙ্কটে সুচিকিৎসা করাতে পারছেন না তার মা। ছেলের চিকিৎসার খরচ যোগাতে ঘুরছেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে।

মোমিন হোসেনের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে। তার বাবার নাম
আব্দুল কুদ্দুস। আর মায়ের নাম মর্জিনা বেগম।

মোমিন বলেন, সংসারের আমিই একমাত্র উপার্জনকারী। সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ মাস থেকে
ঘরে পড়ে আছি। এখন অর্থাভাবে পুরো পরিবার খেয়ে না খেয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। ডান পায়ের হাড়ের দুটি স্থানে কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে।

চিকিৎসক বলেছেন, হাড় যদি বৃদ্ধি পায়, তবে পা টিকে যাবে। নয়তো কেটে ফেলতে হতে পারে। এ অবস্থায় পায়ে এখন ইলিজারোব রিং পরানো আছে। কিন্তু এখন যে অবস্থা তাতে সুচিকিৎসা করানোর মত টাকা আমাদের নেই। এ বছর আমি কারিগরি শাখা থেকে এসএসসি পরিক্ষাথী। সামনে পরীক্ষা শুরু হবে। জানি না অংশগ্রহণ করতে পারবো কিনা।

মা মর্জিনা বেগম বলেন, আমার স্বামীর দুটি সংসার। তিনি বেশিরভাগ সময় ওই সংসারে থাকেন। আমাদের কোনো খরচাপাতি দেন না। আর বাড়ির ভিটা ছাড়া কোনো জমিজমাও নেই। যার কারণে আমার বড় ছেলে মোমিন খুব ছোট থেকে পুরো সংসার দেখে। মোমিন সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ মাস থেকে ঘরে পড়ে আছে। ছেলের চিকিৎসার জন্য কত মানুষের কাছে হাত পেতেছি তার কোনো হিসেব নেই। কিন্তু কেউ আমার ছেলের চিকিৎসায় এগিয়ে আসেনি। আমি সবার সহযোগিতা চাই।