Naya Diganta

তিন বছর পর মুক্তি পেলেন হুয়াওয়ের মেং ওয়াংজো

টানা তিন বছরের কূটনৈতিক টানাপড়েন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিদের সাথে করা সমঝোতার পর মুক্তি মিলেছে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মেং ওয়াংজোর। ভ্যাঙ্কুভার বিমানবন্দরে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে গ্রেফতার হন ৪৯ বছর বয়সী মেং। অভিযোগ ছিল, ইরানে হুয়াওয়ের ব্যবসা সম্পর্কে এইচএসবিসিকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে ব্যাংক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, স্কাইকম নামের এক অনানুষ্ঠানিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইরানের টেলিকম কোম্পানির সাথে ব্যবসা করছে হুয়াওয়ে। এতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেয়া নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা হয়েছে। মুক্তি পেয়ে এরই মধ্যে তিনি চীনে ফিরে গেছেন।
হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন জেনফেংয়ের মেয়ে মেং ওয়াংজো। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আনা অভিযোগে বলা হয়, ওয়াংজো ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে হুয়াওয়ের ব্যবসা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোকে মিথ্যা বলেছিলেন। যদিও মেংও হুয়াওয়ে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা মামলা স্থগিতের একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন। চুক্তি অনুযায়ী মেং ওয়াংজো স্বীকার করতে রাজি হয়েছেন যে তিনি এইচএসবিসি ব্যাংককে মিথ্যা বলেছিলেন। গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মেং ওয়ানঝু বলেন, আমার জীবন পুরোপুরি উল্টেপাল্টে গেছে। এটি আমার জন্য একটি বিপর্যয়কর সময় ছিল।
অন্য দিকে তার মুক্তির পর দুই কানাডীয় নাগরিক মাইকেল স্পেভার ও মাইকেল কোভরিগকে মুক্তি দিয়েছে চীন। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ২০১৮ সালে স্পেভার ও কোভরিগকে আটক করেছিল চীন। চলতি বছরে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্পেভারকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল চীনের আদালত। সাবেক কূটনৈতিক কোভরিগকেও আদালতে তোলা হয়। তবে সাজা ঘোষণা হয়নি। মুক্তি পাওয়ার পর স্পেভার ও কোভরিগ কানাডার উদ্দেশে চীন ছেড়েছেন।