Naya Diganta

খবরের কাগজ বিক্রি করে চলে না ইয়ামিনদের জীবিকা

কলেজছাত্র ইয়ামিন ইকবাল কমলাপুর শেরেবাংলা রেলওয়ে কলেজে দ্বিতীয়বর্ষে অধ্যয়ন করে। পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকা অর্জনের জন্য তাকে রাস্তায় নামতে হয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের পাশে ফুটপাথে সে পত্রিকা বিক্রি করে। কথা প্রসঙ্গে সে জানায়, আগের মতো খবরের কাগজ বিক্রি হয় না এখন। তাই পত্রিকার সাথে বিকল্প হিসেবে ফেস মাস্ক রেখেছে দোকানে। কিন্তু মাস্কও এখন আর তেমন একটা চলে না। তবে দিনে হাজারখানেক টাকা বিক্রি হলে আড়াই থেকে তিন শ’ টাকা আয় হয়। এভাবে টেনেটুনে চলছে জীবন। কিন্তু সম্প্রতি দেখা দেয় আরেক বিপদ।
ইয়ামিনের বাবা হয়ে যান পঙ্গু। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বদলপুর গ্রামে তিনি এখন শয্যাশায়ী। সংসারে নেমে এসেছে অভাবের অমানিশা। ইয়ামিনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বাবার পায়ের ইনফেকশন জটিল আকার ধারণ করায় ডাক্তার তার পা কেটে ফেলেছে। এখানেই শেষ নয়। ইদানীং দেখা দিয়েছে আরেক কঠিন সঙ্কট। ইয়ামিনের বাবার চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে গেছে। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে দৃষ্টি হারানোর। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, চোখের রেটিনা হলো মস্তিষ্কের অংশ। সময় মতো রেটিনার চিকিৎসা না করালে রয়েছে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি। সেই সাথে রেটিনা যেহেতু মস্তিষ্কের অংশ তাই দ্রুত অপারেশন না করলে মানসিক ভারসাম্য হারানোর ভয়ও আছে। রেটিনা অপারেশন করাতে কমপক্ষে এক লাখ টাকা প্রয়োজন। ইয়ামিনের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব। ইয়ামিন জানায়, এতদিন ধরে তার বাবার চিকিৎসায় প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে এখন তারা নিঃস্ব । এক দিকে সংসারে অভাব। অন্য দিকে ঢাকায় থেকে পড়ালেখার খরচ। তাই তারুণ্যের চোখে-মুখে এখন বিবর্ণ হতাশার ছাপ। এভাবে আর কত দিন? ইয়ামিনের করুণ আকুতিÑ কেউ কি নেই তার এই বিপদে একটু সাহায্যের হাত বাড়ানোর? তার মোবাইল নাম্বার : ০১৪০৩৯০০৪২।