Naya Diganta

পেটে আড়াই কেজি টিউমার রেখেই অপারেশন সম্পন্ন, রোগী সঙ্কটাপন্ন

পেটে আড়াই কেজি টিউমার রেখেই অপারেশন সম্পন্ন, রোগী সঙ্কটাপন্ন

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা চৌরাস্তায় অবস্থিত আলহেরা হাসাপাতালের বিরুদ্ধে আড়াই কেজি ওজনের টিউমার পেটে থাকার বিষয় গোপন রেখেই সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে শ্রীপুর থানায় এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বামী মো: নুরুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড এলাকার মৃত উসমান আলীর ছেলে নূরুল ইসলাম তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী তৃণা আক্তারকে আগস্ট মাসে আলহেরা হাসপাতালে গাইনি কনসালটেন্ট ডা: আয়েশা সিদ্দিকার অধীনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে একাধিকবার তার স্ত্রীকে আল্ট্রাসনোগ্রাফ করানোর পর ৬০ হাজার টাকার চুক্তিতে ২৫ আগস্ট সিজার করানো হয়।

কয়েকদিন পরেই তার স্ত্রীর শরীরে অস্ত্রোপচারের জায়গা দিয়ে পানি পরে পচন ধরা শুরু হয়। টের পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালের মালিক ডা: আবুল হোসেনকে জানালে তিনি বলেন যে তার স্ত্রীর পেটে আড়াই কেজি ওজনের টিউমার রয়েছে।

টিউমারের কথা আমাদের আগে কেনো জানানো হলো না? এটি পেটে রেখেই কিভাবে সিজার করা হলো? এ ছাড়া আগে কয়েকবার আল্ট্রাসনোগ্রাফ করে কী দেখেছেন- এসব প্রশ্নে টালবাহানা শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগকারী নূরুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রীর সিজারের স্থান এখানো শুকায়নি। পানি পরছে, অবস্থা ভালো না। হাসপাতালের মালিক আবুল হোসেনের কাছে গেলে অপমান করেন। ঘা শুকানোর দায়িত্ব তার নয় বলে জানান। বাধ্য হয়ে সুবিচার পেতে থানায় অভিযোগ করেছি।

অভিযোগের বিষয়ে আলহেরা হাসপাতালের মালিক ডাক্তার আবুল হোসেন বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। নবজাতকের সমান টিউমার পেটে আছে। আবার এদিকে সন্তান হওয়ার সময় হয়ে গেছে। তাই সন্তান ডেলিভারি করা হয়েছে। এখন সন্তান ও সন্তানের মা উভয়ে সুস্থ আছে। আগে টিউমারের অপারেশন করলে সন্তান মারা যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কয়েক মাস পরে টিউমারের অপরাশেন করলেই ভালো হবে। এটা তেমন কিছুই না।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম হোসেন জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।