Naya Diganta

নিঝুম দ্বীপের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ হাইকোর্টের

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নিঝুম দ্বীপের ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চলের’ সীমানা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক, পরিবেশ সচিব ও বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষককে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

নিঝুম দ্বীপের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা নির্ধারণ ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ।

রুলে নিঝুম দ্বীপের ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চলের’ সীমানা নির্ধারণে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার সচিব, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক, নির্বাচন কমিশনের সচিব প্রধান বন সংরক্ষকসহ ১৪ বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

ব্যারিস্টার পল্লব বলেন, ‘এখনও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা নির্ধারণ না করার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় ভূমিখেকোরা নিঝুম দ্বীপের সংরক্ষিত বনের জমি অবৈধভাবে দখল করছে। এমনকি জমি দখলে নিয়ে তারা সেখানে বিভিন্ন কাঠামোও নির্মাণ করছে। এতে নিঝুম দ্বীপের প্রাকৃতি-পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ। সীমানা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এ নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়েছিল। আদালত সে বিষয়ে আদেশ দেননি।

রিট আবেদনে বলা হয়, ৪০ এর দশকে নোয়াখালীর হাতিয়ায় দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠে নিঝুম দ্বীপ। ১৯৭৪ সালে বন বিভাগ এই দ্বীপটিতে বনায়ন শুরু করে। পরবর্তীতে দ্বীপটির প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় সরকার এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে বন আইন, ১৯২৭ এর ২০ ধারায় সরকার পুরো নিঝুম দ্বীপকে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করে। আইনানুযায়ী সংরক্ষিত বন নিঝুম দ্বীপে জনসাধারণের অবাধ প্রবেশ, কাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ। কিন্তু ২০০৮ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নিঝুম দ্বীপের সংরক্ষিত বন নিয়ে ১১ নং নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

পরবর্তীতে ২০১২ সালে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় দুটি গেজেটের মাধ্যমে নিঝুম দ্বীপকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সংরক্ষিত বনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি। যে কারণে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদকে আলাদা করে সীমানা নির্ধারণ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে নোটিস পাঠান স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী রফিক উদ্দিন এনায়েত। কিন্তু বিবাদীরা কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় রফিক উদ্দিন বাদী হয়ে গত রোববার হাইকোর্টে জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন।

সূত্র : ইউএনবি