Naya Diganta

কুকুর-ইঁদুরের প্রস্রাব থেকে ছড়াচ্ছে মারণ অসুখ!

কুকুর-ইঁদুরের প্রস্রাব থেকে ছড়াচ্ছে মারণ অসুখ!

ভরা ভাদ্রেও অঝোরে বৃষ্টি। রাস্তায় জমে পানি। সেই পানি পেরিয়ে বাড়িতে ঢুকেই বিপত্তি! অসাড় হয়ে গিয়েছে পায়ের পেশি, চোখ টকটকে লাল, ঘাড় এতটুকু নড়াচড়া করছে না। শরীরে বাসা বাধেনি তো লেপটোস্পাইরোসিস?

ভারতের স্বাস্থ্য দফতর থেকে জারি করা নয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাস্তায় জমা পানিতেই মিশে আছে সারমেয় কিম্বা ইঁদুরের প্রস্রাব। আর মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বাঁধাচ্ছে মারণ অসুখ।

ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ শিয়রে। এর মধ্যে অন্য অসুখ মাথাচাড়া দিলে সাড়ে সর্বনাশ। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর সতর্কতা জারি করেছে লেপটোস্পাইরোসিস নিয়ে। এ রাজ্যে এই মুহূর্তে অসুখ মাথাচাড়া না দিলেও লেপটোস্পাইরোসিসের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে যত্রতত্র। তাই সময় থাকতেই সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।

এই অসুখে মৃত্যুহার যথেষ্ট। অসুখ হওয়ার আগেই তাই সর্তকতা নিতে চায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।
ডায়রেক্টর অফ হেলথ সার্ভিস এবং ডায়রেক্টর অফ মেডিক্যাল এডুকেশন যৌথ অ্যাডভাইজরি বলছে, আদতে এই অসুখ চারপেয়েদেরই হয়। কুকুর–ইঁদুর বা গবাদি পশুর শরীরে একধরণের স্পাইরাল ব্যাকটেরিয়ার দেখা মেলে। তার নাম লেপটোস্পাইরা। এর থেকেই ছড়ায় অসুখ। আক্রান্ত পশুর প্রস্রাবে থিকথিক করে সেই ব্যাকটেরিয়া। যা শরীরে লাগলেই বিপদ। পশুর প্রস্রাব ত্বকের সংস্পর্শে এলেই অসুখ ছড়ায়। ইঁদুর প্রস্রাব করে যেখানে সেখানে। তা থেকেও ছড়াতে পারে অসুখ।

জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা অনির্বাণ দলুই জানিয়েছেন, বর্ষায় এবং বর্ষা পরবর্তী স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া এই অসুখ ছড়ানোর পক্ষে অনুকূল। শরীরে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের পর উপসর্গ দেখা দিতে ৫ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। কোনো কোনো সময় নোংরা প্রস্রাব মাড়িয়ে আসার এক মাস পরেও অসুখ দেখা দিতে পারে। রাজ্যের প্রতিটি চিকিৎসককে এই অসুখ নিয়ে সতর্ক হতে বলা হয়েছে।

কীভাবে চিকিৎসা হবে? তাও প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ভারতের স্বাস্থ্য দফতর। উপসর্গ কম থাকলে ডক্সিসাইক্লিন দিতে হবে। প্রসূতিদের ক্ষেত্রে প্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর অ্যামক্সিসিলিন দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। আট বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে শিশুর ওজন বুঝে অ্যামক্সিসিলিন সিরাপ দিতে বলেছে স্বাস্থ্যভবন। যারা নালা পরিষ্কার করেন, তাদেরই সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্য পরতে হবে পা ঢাকা জুতো।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন