Naya Diganta

রোডম্যাপ-২০২৩

রোডম্যাপ হলো- কার্যপরিকল্পনা। আমরা আজকাল ইংরেজিতে বিষয়গুলো ভালো বুঝি। রোডম্যাপ ভালো বোঝে ভালো শিক্ষিত লোকেরা। ছোট হোক বড় হোক, যেকোনো কাজ করতে গেলে রোডম্যাপ প্রয়োজন। আজকাল ব্যবসাবাণিজ্যের প্রসারের কারণে রোডম্যাপের কার্যকারিতা বাড়ছে। এই রোডম্যাপের অবশ্য আরেকটি কেতাবি নাম আছে- ‘প্রজেক্ট প্রোফাইল’ প্রকল্প পরিচিতি। রাজনীতি, সমাজনীতি ও অর্থনীতি- সর্বত্র রোডম্যাপ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের জন্য আগামী ২০২৩ সালের রোডম্যাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি দলের জন্য এটি ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করার বছর। বিরোধী দলের জন্য ক্ষমতায় আরোহণের সম্ভাবনার বছর। আর জনগণের জন্য উলুখাগড়া হওয়ার বছর। সেই যে কথা আছে, রাজা-রাজা যুদ্ধ করে উলুখাগড়া পড়ে মরে। স্বাভাবিকভাবে ২০২৩ সালকে কেন্দ্র করে রোডম্যাপ কষছে উভয়পক্ষ। গণমাধ্যমে একজনের মন্তব্য- মরণকামড় দেবে তারা। সরকারি দলকে উদ্দেশ্য করেই এ মন্তব্য। পাল্টা প্রশ্ন হতে পারে- বিরোধী দলের রোডম্যাপও স্বাভাবিকভাবেই হতে পারে অনুরূপ- মৃত্যু অথবা মুক্তি! সুতরাং রোডম্যাপ বা কার্যপরিকল্পনা যাদের বাস্তবানুগ হবে, বিজয়মাল্য তাদেরই হবে। নির্বাচনে তারাই বিজয় অর্জন করবে।

অবশ্য ভুক্তভোগীরা এ মন্তব্যের সাথে একমত নন। তারা প্রশ্ন করছেন, নির্বাচন হলে তো সে বিষয় আসবে! আদৌ নির্বাচন হবে না। অতীত ঘেঁটে তারা এ মন্তব্য করছে। বিশেষত বিগত এক যুগে এই করুণ অভিজ্ঞতার উদ্রেক করেছে। মূলত ২০০৯ সাল থেকে এ দেশে জাতীয়পর্যায় থেকে গ্রামপর্যায় পর্যন্ত কোথাও কোনো নির্বাচন সত্যিকার অর্থে ‘নির্বাচন’ পদবাচ্য হয়নি। ২০১৪ সালে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির জয়জয়কার দেখল যখন ক্ষমতাসীনরা, তখনই তাদের শীর্ষপর্যায়ে সিদ্ধান্ত ছিল ‘নো মোর রিয়েল ইলেকশন’। তারা বুঝতে পেরেছিল বাংলাদেশের মাটিতে অন্তত ভোটের মাধ্যমে তাদের জেতার সম্ভাবনা নেই। তাই নির্বাচন প্রকৌশলই তাদের ভরসা। ২০১৪ সালে কাগজপত্রে নির্বাচন হলো, বাস্তবে নয়। ১৫৩ জন একক প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী ঘোষণার পর এই প্রহসনে লজ্জাশরমের কোনো বালাই ছিল না। দেশ-বিদেশে যখন এই বোগাস নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলো- সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব থেকে বলা হলো- এটি ছিল নিয়মরক্ষার নির্বাচন। শিগগিরই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার কোনো প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়নি।

২০১৮ সালে ড. কামাল হোসেনের সাথে সংলাপের সাথে গোটা জাতির সামনে ‘আমাকে বিশ্বাস করুন’ বলে প্রতিশ্রুতি- তা কিভাবে পুলিশ আর প্রশাসনের যৌথ প্রযোজনায় নিশীথ রাতের নাটকে পরিণত হয়েছিল তা নাগরিক সাধারণের জানা কথা। এই দু’টি নির্বাচনী প্রতারণা কিভাবে ঘটতে পারল? বিরোধীপক্ষের এমন কি কেউ ছিল না যে, তারা এসব আঁচ করতে পারে! সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে! এর জবাবে বিরোধী দলের একজন সাফাই গেয়েছেন গণমাধ্যমে। তিনি স্বাভাবিক-অস্বাভাবিকতার প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, যা স্বাভাবিক তা কল্পনা করা যায়। ব্যবস্থা নেয়া যায়। কিন্তু কেউ যদি জনসমক্ষে ল্যাংটা হয়ে যায় তা তো মানুষের স্বাভাবিক কল্পনাশক্তিকে হার মানায়। আর একটি জাতির নেতা হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর মতো অমর্যাদাকর বিষয় আর কী হতে পারে!

নির্বাচন এলেই বাংলাদেশের মতো দেশে কারচুপির আশঙ্কা করা হয়। আর এ কারচুপি রোধে আওয়ামী লীগ যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা করেছিল নিজেদের কারচুপি জায়েজ করার জন্য, তারাই তা বাতিল করে দিলো। আগে কারচুপির একটি লেভেল ছিল। জাল ভোট দেয়া, ভোট কেনা, ভীতি প্রদর্শন করা এবং অবশেষে ভোটকেন্দ্র দখল করা। এর বাইরে এরশাদ আমলে তিন প্রকারের ইলেকশন দেখা গেছে। প্রথমত, ইলেকশন বাই ইলেকশন। প্রকৃত সত্যিকার নির্বাচন। দ্বিতীয়ত, ইলেকশন বাই কালেকশন। মাস্তানবাহিনী দিয়ে ভোট সংগ্রহ। তৃতীয়ত, ইলেকশন বাই ডিকলারেশন। ভোট প্রকৃত বা অপ্রকৃত হোক, মাস্তানবাহিনী ভোট যাই সংগ্রহ করুক- কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করে সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী ডিসি বা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক শুধু ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনী রায় দেয়া। এই ত্রিবিধ নির্বাচনী কারসাজিও বর্তমান সরকারের কাছে হার মেনেছে। এখন গোটা নির্বাচন ব্যবস্থাই উল্টে গেছে। সিস্টেম হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। ২০১৪, ২০১৮ এবং এ যাবৎ অনুষ্ঠিত বড়-ছোট, শহর-গ্রাম কোনোটিতেই ওই ছকে নির্বাচন করা যায়নি। বোগাস, প্রকৌশল, কারসাজি কোনো বিশেষণই এই নির্বাচনী বিপর্যয়কে বিশেষিত করার জন্য যথেষ্ট বিবেচিত হচ্ছে না।

আগামী ২০২৩ সালের নির্বাচন কেমন হবে? এই প্রশ্নে ঘুম হারাম ভুক্তভোগী মানুষের। পত্রপত্রিকা, টকশো, দেশ-বিদেশে রাজনৈতিক ভাষ্যে জানা যাচ্ছে, আওয়ামী কুশিলবরা রামদায়ে শাণ দিচ্ছে। অর্থাৎ ২০১৪ এবং ২০১৮ অতিক্রম নতুন অপকৌশল বের করার ফন্দিফিকিরে ব্যস্ত রয়েছে। ওই সব কলাকৌশল পত্রিকায় প্রকাশিত না হলেও যা প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে- ক. নির্বাচনী এলাকা পুনর্গঠনের জন্য ইতোমধ্যে সংসদে আইন পাস করেছে। তাদের প্রার্থীদের সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী এলাকা যোগ-বিয়োগ প্রতিযোগিতা হয়তো দৃশ্যমান হবে। আর দুর্নীতি নীতি হিসেবে গৃহীত হবে- এটাই বিগত এক যুগের বাস্তবতা। খ. কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের তোড়জোড় চলছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে- বিরোধী ভোটগুলো চিহ্নিত করা। শক্তি প্রয়োগের জন্য লাঠিয়াল নয়- অস্ত্রধারী স্বেচ্ছাচারবাহিনী গোপন প্রক্রিয়া চলছে। গ. প্রার্থী নির্বাচনের ব্যাপারে ক্ষমতাসীন দল তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে থাকে, এটিকে কেউ কেউ থ্রি এম বলে থাকেন- ১. মানি অর্থাৎ টাকাওয়ালা প্রার্থী; ২. মাসল অর্থাৎ সন্ত্রাসের মাধ্যমে জিততে পারে এমন প্রার্থী ও ৩. মিডিয়া অর্থাৎ গণমাধ্যমে যাদের মালিকানা বা অংশীদারিত্ব রয়েছে। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের অভিজ্ঞতার আলোকে ওই তিন দফা কার্যক্রমের প্রয়োগ নাও হতে পারে। তবে দেশে একটি ইলেকশন ইলেকশন খেলা দেখানোর জন্য ওই সব প্রাক-নির্বাচনী মহড়া প্রয়োজন। জনসভা, মিটিং, মিছিল ইত্যাদি হবে। তবে সবকিছুই আইওয়াশ অর্থাৎ বিদেশীদের প্রদর্শনের জন্য। প্রকৃতপক্ষে অনুসরণের জন্য নয়। ঘ. নির্বাচন করা অসম্ভব হয়ে পড়লে এমনও হতে পারে, বর্তমান সংসদ অধিবেশনে বসে তাদের মেয়াদ আরো চার বছরের জন্য বাড়িয়ে নিতে পারে।

উল্লেখ্য, পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী এই সংসদ বহাল রেখেই নির্বাচন হচ্ছে। মধ্য এশিয়ায় কতিপয় কর্তৃত্ববাদী দেশে এ প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ঙ. বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ নির্বাচনের প্রাক্কালে যদি সত্যিকার গণ-আন্দোলনের সূচনা ঘটে, তাহলে ক্ষমতাসীনরা তিনটি বিকল্পের একটি বেছে নিতে পারে। ১. জাতীয় সরকারের নামে নিজেদের প্রাধান্য বজায় রেখে সরকার পরিচালনা করতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হিসেবে এ ফর্মুলা অনুসরণ করা হতে পারে। ২. জরুরি অবস্থা জারি করে তাদের দলীয় প্রেসিডেন্টের অধীনে ওয়ান-ইলেভেন টাইপ সরকার গঠন করতে পারে। ২০০৬ সালে বিএনপি যে ভুলটি করেছিল তারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। ৩. সামরিকবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে।

সামরিকবাহিনীকে ক্ষমতা গ্রহণের ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে পারে আওয়ামী লীগ সরকার। তবে সামরিকবাহিনীতে এখন যে পেশাদারিত্বের অবস্থান দৃশ্যমান হচ্ছে এটি না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনটি ক্ষেত্রেই লক্ষ্য হবে আওয়ামী কর্মীবাহিনীকে রক্ষাকবচ দেয়া। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যাপক প্রাণহানির কথা সবসময় বলে আসছে।

এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগের একটি বিশ্বস্ত নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন হবে। সে লক্ষ্যে বর্তমান হুদা কমিশনের মতো বশংবদ নির্বাচন কমিশন গঠনের তোড়জোড় ইতোমধ্যে দলের অভ্যন্তরে লক্ষ করা যাচ্ছে বলে তথ্যভিজ্ঞ মহল সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বর্তমান কমিশনের মেয়াদ ফুরাচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে। আইন অনুযায়ী বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করবেন।

নতুন কমিশন পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হবে। নতুন কমিশনই ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিগত দুই কমিশনের মতো সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিশন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। আর দেশের বৃহত্তম বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি আদৌ এই সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে কি না তা ভাববার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। বিএনপিকে যদি আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ করাতে হয় তাহলে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় তাদের কৌশলগত এবং প্রক্রিয়াগত ভূমিকা থাকতে হবে। যেহেতু নির্বাচন কমিশন গঠনের মেয়াদ খুব দূরে নয়, সে জন্য বিএনপিকে তার কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। আগেকার মতো রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটির মাধ্যমে যদি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয় তাহলে বিএনপির প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা সমধিক।

স্মরণ করা যেতে পারে, এই হুদা কমিশন গঠনে আওয়ামী লীগ যথেষ্ট ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয়। যেমন- জনাব হুদার নাম আওয়ামী লীগের প্রস্তাবে ছিল না। অন্য একটি নাম নেহাত দলের ব্যক্তিকে তারা গ্রহণ করে জাতিকে বিভ্রান্ত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞরা নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য আইনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা মনে করেন, আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হবে। এরশাদ বেঁচে থাকা অবস্থায় কৌশলগত কারণে জাতীয় পার্টি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও ২০২৩ সালের নির্বাচনে তাদের অবস্থান ভিন্নতর হবে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে। দলের প্রধান জি এম কাদের বর্তমানে সত্যিকার বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টিকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত ভাষ্যে প্রতীয়মান হচ্ছে। ২০২৩ সালের নির্বাচনে জোয়ার দেখে পাল তুলতে পারেন এই অভিজ্ঞ নেতা।

নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে সিভিল সোসাইটির উদ্যোগ ও উদ্বেগ লক্ষণীয়। মাস দুয়েক আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় ৪২ জন নাগরিক নির্বাচন কমিশন নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ রাষ্ট্রপতি বরাবর পেশ করেন। সেখানে কমিশনের দুর্নীতি, অসদাচরণ ও অনিয়মের উদাহরণ তুলে ধরেন তারা। এরা নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধান বর্ণিত আইন প্রণয়নেরও দাবি জানান। উল্লেখ্য, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলি-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।’ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, বিগত ৫০ বছরে কোনো ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়নি। আইনটি প্রণীত হলে রাজনৈতিক সরকারের ভ‚মিকা গৌণ হয়ে আসবে।

বিএনপির তরফ থেকে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দৃশ্যমান নয়। বিএনপির শুভার্থীরা মনে করেন, সব বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাথে বিশেষত জোটভুক্ত দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা করে তাদের একটি অভিন্ন রোডম্যাপ বা কার্যপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। মনে রাখতে হবে, নির্বাচন কমিশন গঠন হচ্ছে দ্বাদশ নির্বাচন-২০২৩ সালের জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার প্রথম শর্ত। দৃশ্যমান কনভেনশন এবং আওয়ামী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ভবিষ্যৎ নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সুতরাং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠিত হতে হবে। এই সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে হুদা কমিশনের মতো একটি আজ্ঞাবহ কমিশন তৈরি হবে- যা জাতির জন্য কাক্সিক্ষত নয়। সেই সাথে এটি একটি অপ্রিয় সত্য যে, কমিশন যদি আইন এবং আদর্শ দ্বারা স্বাধীন না হয় তাহলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ মনে করেন, ‘সে জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন, সৎ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিও দরকার। কারণ স্বাধীনভাবে কাজ করার মানসিকতা ও যোগ্যতাও থাকতে হয়।’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিধ্বস্ত নির্বাচন ব্যবস্থাকে তার পূর্ণ কার্যকারিতায় প্রতিস্থাপন। পদ্ধতিগতভাবে এবং গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে যে বিপর্যয় ঘটেছে তাকে যেকোনো মূল্যে ফিরিয়ে আনতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Mal55ju@yahoo.com