Naya Diganta

ইরানি তেল আমদানিতে চীনকে বাধা দিবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানি তেল আমদানি করার ক্ষেত্রে চীনকে বাধা দেয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে যে ইরান তাদের সাথে আর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবে না। এছাড়া ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরো কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা।

ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনকে এ বছরের শুরুর দিকে বলা হয়েছে যে তাদের প্রধান লক্ষ্য ইরানের সাথে করা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিটিকে আবারো চালু করা। যদি ইরান আবারো সঠিক সময়ের মধ্যে আগের পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরে আসে তাহলে ওই দেশ থেকে তেল আমদানি করার ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানিগুলো কোনো নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তির মুখোমুখি হবে না। কারণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ইরান থেকে তেল আমদানি করছে চীনের কোম্পানিগুলো।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুসারে, চীনের রিফাইনারি (তেল পরিশোধনের কাজ করে) কোম্পানিগুলো ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে কখন অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে ইরান তাদের পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরু করবে।
ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি যেখানে আলোচনা শেষ হয়েছে ওই জায়গা থেকেই আবার শুরু করবেন অথবা আবারো নতুন করে আলোচনার দাবি করবেন।

ওই মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো বলেছেন, ইরান বলছে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত আলোচনা শুরু করবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না ইব্রাহিম রাইসি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন। ইরান আসলে কি করতে চায় তা খুবই অস্পষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের এ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইরান যদি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ফেরত যায় তাহলে ইরান থেকে তেল আমদানিতে বাধা নেই। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি অনুসারে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ রেখেছিল। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ রাখার বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ব্রুকিং ইন্সটিটিউশনের বিশ্লেষক রবার্ট এইনহর্ন বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা এখন ইরান থেকে তেল আমদানি করা চীনা কোম্পানিগুলোকে নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখাচ্ছেন। যাতে করে ইরানি তেল রফতানি বাধাগ্রস্ত হয় এবং ইরান পুরনায় পরমাণু আলোচনায় ফিরে আসে।

সূত্র : আরব নিউজ