Naya Diganta

বগুড়ায় চামড়ার দাম নেই : হতাশ দুস্থরা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো

বগুড়ায় কোরবানিদাতাদের গত কয়েক বছরের মতো এবারো পানির দামে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। এতে ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গরীব, দুস্থ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো।

জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনছেন। তাই তারা এবার কোরবানির চামড়া সাবধানে পাড়া-মহল্লা থেকে কিনেন। সরকার গত বছরের চেয়ে চামড়ার দাম এবার বেশি নির্ধারণ করে দিলেও মৌসুমী বা ফড়িয়ারা পানির দামে চামড়া কিনেছেন। তারা আড়তদারদের বেঁধে দেয়া দামের মধ্যেই চামড়া কিনছেন বলে দাবি করেন।

বুধবার সকাল থেকে পশু কোরবানি শুরুর পর থেকেই পাড়া-মহল্লায় চামড়া কেনা শুরু করেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, শহরে কোরবানির সংখ্যা বেশি হলেও এবছর গ্রামে কোরবানির সংখ্যা কম। কিন্তু তারপরেও চামড়ার দাম বাড়ছে না।

বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়ার আব্দুর রশিদ বলেন, ৭৯ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৪০০ টাকা। আর ছাগলের চামড়ার কেউ দামই বলেনি। অপরদিকে জলেশ্বরীতলার শিশির মোস্তাফিজের ৬৭ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৪০০ টাকা। তিনি আরো বলেন, গরুর চামড়া বিক্রির করলেও দুটি ভেড়ার চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিয়েছেন।

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল হক জানান, গত কয়েক বছর ধরে তারা চামড়া ব্যবসায় লোকসান করেছি। অনেকে পুঁজিও হারিয়েছেন। একারণে এবার তারা আড়ত থেকে বেঁধে দেয়া দামে চামড়া কিনেছেন। তবে গ্রাম এলাকায় আরো দাম কম। সেখানে গরুর চামড়া ২০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ছাগলের চামড়া ১০ থেকে ২০ টাকা এবং ভেড়ার চামড়া ৫ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। তাই অনেক কোরবানিদাতা পানির দামে চামড়া বিক্রি না করে স্থানীয় এতিমখানা, মাদরাসা ও মসজিদে দান করেছেন। তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো চামড়া পেলেও তারা হতাশ ন্যায্য দাম না পেয়ে।