Naya Diganta

বিশ্বজুড়ে ইসলামী সঙ্গীত এবং আমরা

বিশ্বজুড়ে ইসলামী সঙ্গীত এবং আমরা

একটি টিভি চ্যানেলের জনপ্রিয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হয় চমৎকার একটি গান দিয়ে। ‘আল্লাহ আমার রব, এই রবই আমার সব/দমে দমে তনুমনে তারই অনুভব।’ গানটির বাণী খুব যে মানোত্তীর্ণ এমন নয়, কিন্তু গায়কের সুমিষ্ট কণ্ঠ এবং সুরমাধুর্য এটিকে রসোত্তীর্ণ করেছে। অনেকেই এটি পছন্দ করেন। ধর্মীয় গান পছন্দ করার মতো মানুষ এ দেশে অসংখ্য। সেজন্যই এখানে ইসলামী গানের বিরাট সম্ভাবনা আছে। কিন্তু ইসলামী গান দেশের রেডিও টিভিতে খুব একটা শুনতে পাওয়া যায় না। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেয়ে ভালো ইসলামী গান আর কেউ এখন পর্যন্ত লিখতে পারেননি। ফিরোজা বেগম, সোহরাব হোসেন, খালিদ হোসেন, আবদুল মান্নান প্রমুখ শিল্পীর পর নতুনরা সেভাবে নজরুলের ইসলামী গানগুলো মঞ্চে বা রেডিও টিভিতে গান না। হয়তো এগুলো গাওয়ার অনুমতিও নেই অনেক মিডিয়ায়। কেবল বিশেষ ধর্মীয় দিবসে দু’চারটে ইসলামী গান গাওয়ার নিয়ম বেঁধে দেয়া হয়েছে। রোজার ঈদের সময়, ‘রজমানের ওই রোজার শেষে’ ধুমসে বাজানো হয়। কারণ এর চেয়ে যুৎসই ঈদের গান গত প্রায় শত বছরেও আর হয়নি।

দেশে ইসলামী গানের চর্চা করেন এমন লোকের সংখ্যা খুব কম নয়। ইসলামী গানের অনেক গ্রুপ আছে। এসব গ্রুপের সার্বিক সাফল্যের একটি হলো, কোনো কোনো গ্রুপ কালেভদ্রে বিটিভির মতো সরকারি এবং দু-একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে শবে বরাত বা কোনো ধর্মীয় দিবসের গানের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পায়। এ পর্যন্তই। তারা গান লেখে, সুর করে, গায়, ক্যাসেটবন্দী করে প্রকাশ করে এবং ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানাভাবে সেগুলোর সম্প্রচার ও বিপণন করে। জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে। কারণ ১৮ কোটি মানুষের বিরাট বাজার এ দেশে আছে। মুষ্টিমেয় তথাকথিত নাস্তিক প্রগতিশীল ছাড়া সবাই ধর্মীয় সঙ্গীতের অনুরাগী। সুতরাং তাদের গানের বাজার নগর বাউলের জেমস বা মরহুম আইয়ুব বাচ্চুর চেয়ে পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ নেই। বরং আমার বিবেচনায় ইসলামী গানের বিক্রি তাদের চেয়ে হাজার গুণ বেশি হওয়ার কথা। সেটা কেন হচ্ছে না? কেন ইসলামী গ্রুপগুলো সমাজে কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না? এ বিষয়েই দু’চারটি কথা বলতে এই লেখা।

ইসলামী গ্রুপগুলোর মূল লক্ষ্য হলো, সঙ্গীতের মাধ্যমে দ্বীনের খেদমত করা। তারা পরিপূর্ণ ইসলামী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ধারণ করেই কাজটি করতে চান। উদ্দেশ্য মহৎ। কিন্তু ইসলামী সংস্কৃতির রূপ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা আছে। অনেকে ইসলামে গান-বাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ মনে করেন। অনেকে গান গাওয়া নিষিদ্ধ মনে করেন না, কিন্তু বাজনা বা বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ মনে করেন। অনেকে গান ও বাজনা কোনোটাই নিষিদ্ধ মনে করেন না। আমাদের দেশের ইসলামী গানের গ্রুপগুলোর বেশির ভাগই গান সিদ্ধ এবং বাজনা নিষিদ্ধ মনে করেন। এ জন্য তারা বাদ্যযন্ত্র ছাড়া খালি গলায় গান করেন। অনেকে কঠোরভাবে কেবল আল্লাহর প্রশস্তিমূলক গান বা হামদ এবং রাসূল সা:-এর প্রশস্তিমূলক গান না’ত গেয়ে থাকেন। আবার কেউ কেউ কেবলই ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরে এমন বাণীসহযোগে গান রচনা ও পরিবেশন করেন। ইসলামের মূল শিক্ষার ভেতরে থেকে কোনো গ্রুপ যদি ভক্তিমূলক, প্রকৃতির সৌন্দর্য, মানবিক বোধ ইত্যাদি বিষয়ভিত্তিক গান করতে যায় তাহলে নিষ্ঠাবান ইসলামী গানের গ্রুপগুলো সেটা পছন্দ করে না। তবে বেশির ভাগ গ্রুপই বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত থাকে।

ইসলামে গানবাজনা হারাম নাকি সিদ্ধ, আমরা এখানে সে বিষয়ে কোনো বিতর্কের অবতারণা করতে চাই না। আমরা শুধু দেখতে চাই, বর্তমান বিশ্বে ইসলামী সঙ্গীতের অবস্থান কী এবং এ নিয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ কী বলে।

বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে ইসলামী সঙ্গীতকে যারা জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছেন তাদের নামের তালিকা কিন্তু দীর্ঘ। তাদের মধ্যে আছেন মেসুত কুর্তিস, মেহের জাইন, সামি ইউসুফ, জেইন ভিখা, দাউদ হর্নসবি, ইরফান মাক্কি, আহমেদ বুখাতির, হামযা নামিরা, সাইফ আদম এবং এ রকম অগুনতি শিল্পী, গীতিকার ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তাদের কারো কারো জনপ্রিয়তা বিশ্বের মূলধারার সঙ্গীত শিল্পীদের চেয়ে মোটেই কম নয়। কারণ কী? কারণ এই যে, এদের গান বিশ্বমানের। তাদের গানে আধুনিক সব বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার আছে এবং সুরে বৈশ্বিক সঙ্গীত ট্রেন্ডের প্রতিফলন আছে। ফল হয়েছে এই যে, তাদের গানের বাণী যখন যন্ত্রের অনুষঙ্গে মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে তখন সব বিভাজন নির্বিশেষে সব মুসলিম এমনকি অমুসলিমরাও সেসব গান গ্রহণ করছে, ভালোবাসছে এবং এই গায়কদেরকে কেবল ‘ইসলামী গানের শিল্পী’ এই সঙ্কীর্ণ অভিধার মধ্যে ব্রাকেটবন্দী করছে না। তাদের কারো কারো ভক্তের সংখ্যা লাখ লাখ।

ইউটিউবে কারো কারো একেকটি গানের ভিউয়ার এমনকি কোটি ছাড়িয়ে। সুইডেন প্রবাসী লেবাননী মুসলিম মেহের জাইন মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় অসম্ভব জনপ্রিয়। এতটাই যে, ২০১০ সালে মালয়েশিয়ার মানুষ গুগলে সবচেয়ে বেশি সার্চ করেছে যে নামটি সেটি ‘মেহের জাইন’। ওই বছর দেশটিতে মেহেরের ‘থ্যাঙ্ক ইউ আল্লাহ’ অ্যালবামটি ছিল সর্বাধিক বিক্রীত। এদের গান থেকে কিছুই কি শেখার নেই আমাদের ইসলামী গানের গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের?

উল্লিখিত শিল্পীদের কেউ কেউ এতই জনপ্রিয় যে, মানবিক কারণে তারা কখনো সাহায্যের আবেদন করলে তাতে সাড়া দিয়ে পাশ্চাত্যের মুসলমান ও অমুসলমান মিলে লাখ লাখ ডলার দান করেছে। সেই সব অর্থ মুসলিম বিশ্বের আর্ত মানুষের সেবায় কাজে লেগেছে। কখনো ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আর কত মানুষ যে, এসব গানের প্রতি অনুরাগ থেকে পরে ইসলাম গ্রহণ করেছে তার তো লেখাজোখা নেই। সঙ্গীতের মাধ্যমে দ্বীনের সেবার এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে? একটি উদাহরণ দিচ্ছি। উপরে বিশিষ্ট শিল্পীদের যে ক’টি নাম উল্লেখ করেছি তার মধ্যে একটি হলো দাউদ হর্নসবি (Wharnsby)। কানাডার অন্টারিওতে ১৯৭২ সালে জন্ম গ্রহণকারী এই খ্রিষ্টান শিল্পীর নাম ছিল ডেভিড হর্নসবি। তিনি একজন গায়ক, গীতিকার, কবি, অভিনেতা, শিক্ষাবিদ এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। ইসলামী গানের শিল্পীদের সাথে কাজ করতে এসে এবং তাদের গান শুনে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন। একপর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। নাম পাল্টে ‘ডেভিড’ হয়ে যান ‘দাউদ’। বর্তমানে তিনি ইসলামী গানের অন্যতম সেরা শিল্পী। অধ্যাত্মবাদী গান ‘নাশিদ’-এর শিল্পীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। নাশিদের ১০টিরও বেশি অ্যালবাম আছে তার, যেগুলো বিশ্বজনীন আবেদন সৃষ্টি করেছে। উল্লেখযোগ্য অ্যালবাম, ‘হুইস্পার অব পিস’, ‘কালারস অব ইসলাম’, রোড টু মদিনা’, ‘সানশাইন ডাস্ট অ্যান্ড দ্য মেসেঞ্জার’। সব অ্যালবামই বেরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। একজন মুসলমান হিসেবে তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ করেন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের একজন নেতাকে হত্যার কারণে। প্রতিবাদ করেন গাজায় ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার। আর একজন শিল্পী হিসাবে এগুলোই তার দ্বীনের খেদমত।

এ শিল্পীদের প্রায় সবাই পাশ্চাত্য জগতের সর্বাধুনিক সব বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করেন। শুধু তাই নয়, তারা ব্যান্ড সঙ্গীতের যে তীব্রতাসম্পন্ন গায়নভঙ্গি সেটিও গ্রহণ করেন এবং সেভাবেই তাদের গানে সুরারোপ করেন। কেউ কেউ র‌্যাপ, জাজ-এর মতো হিপহপ শৈলী এনেছেন ইসলামী গানে। ছন্দ, তাল ও সুরের নিপুণ সুসঙ্গতির কারণে তাদের গান বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়েছে। তারা কেউ পরিচয়ে ব্রিটিশ, কেউ কানাডীয়, কেউ মিসরীয়, কেউ মেসিডোনীয়, কেউ বা লেবাননী-সুইডিশ, কেউ পাকিস্তানি, কেউ আফ্রিকান, কেউ মার্কিন। কিন্তু একটি পরিচয়ই তাদের জন্য সঙ্গত, তা হলো, এরা সবাই ইসলামের খেদমতে একজোট। এখানে আমরা বিশ্বখ্যাত শিল্পী ক্যাট ইভান্স বা ইউসুফ ইসলামের (মূল নাম ছিল স্টিভেন দিমিত্রি জর্জিও) নামোল্লেখ করিনি। কারণ তিনি তাদের সবার ঊর্ধ্বে একজন ‘দায়ী’। ইসলামের জন্য তিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছেন। নিজের নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে তার মাধ্যমে দ্বীনের প্রচার প্রসার, মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এখনকার শিল্পীদের মদদ দিচ্ছেন নানাভাবে। আর এভাবেই তারা পাশ্চাত্যের মতো একটি বৈরী সমাজে ইসলামের মর্মবাণী ছড়িয়ে দিচ্ছেন। মানুষের কাছে ইসলামের তথা শান্তির দাওয়াত পৌঁছে দিচ্ছেন। বিশ্বখ্যাত এসব শিল্পী গান করেন প্রধানত ইংরেজি ভাষায়। এর বাইরে আরবি, ফার্সি, ফরাসি, উর্দু এবং নিজ নিজ মাতৃভাষায় তো করেনই। আর তাদের প্রায় কেউই খালিগলায় গান করেন না। দু-একজনের কথা আলাদা। যেমন- সংযুক্ত আরব আমিরাতের গায়ক আহমদ বুখাতির। বাল্যে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জীবন শুরু করেন। তার খালি গলায় গাওয়া ‘হাসানাত’, ‘দা’নি’, ‘সামতান’ ইত্যাদি অ্যালবাম দেড় দুই লাখ কপি বিক্রির রেকর্ড করেছে। এ ছাড়া কুয়েতি ইমাম, ধর্ম প্রচারক এবং বিখ্যাত কারি শেখ মিশারি আলাফাসির নাম বলা যায় যারা ব্যতিক্রমী। আলাফাসির কেরাতের ভক্ত বিপুল।

বৈরী বিশ্বে ইসলামী সঙ্গীত যখন সুদূরপ্রসারী প্রভাবকের ভূমিকায় এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমাদের ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামী সঙ্গীতের গ্রæপগুলো কোনো মঞ্চে অনুষ্ঠান করে সব শ্রেণীর শ্রোতাকে আকৃষ্ট করার যোগ্যতা এখনো অর্জন করতে পারেনি। শিল্পকলা একাডেমি বা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের হল ভাড়া করে, টিকিট বিক্রি করে কবে তারা স্টেজশো করবে বা খোলা মঞ্চে অনুষ্ঠান করবে, একমাত্র আল্লাহ জানেন। ইসলামী গ্রুপগুলোর ইউটিউব চ্যানেল বা অনলাইন প্লাটফরমে যেসব গান কিছু কিছু দেখেছি সেগুলোর মান শুধু হতাশাজনক বললেও কম বলা হয়। তরুণদের আকৃষ্ট করার মতো কোনো উপাদানই তাতে নেই।

আমাদের আলোচনা থেকে এটি কি স্পষ্ট হয়নি যে, গানের মাধ্যমে ইসলামের খেদমত করতে হলে সমাজের অন্যসব শিল্পীদের টেক্কা দিতে হবে? ইসলামী ভাবধারা ভিত্তি করে কেবল আধ্যাত্মবাদী নয়, শালীনতার সীমার মধ্য থেকে সব ধরনের গান আনতে হবে বাজারে। খোলা মঞ্চে অনুষ্ঠান করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস, বছরের পর বছর ওয়াজ করে যে ফল পাওয়া যায়, তার চেয়ে একটি গানের মাহফিল বেশি কার্যকর হতে পারে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে। যদি সে গানের বাণী, তার সুর, গায়কী সেরা মানের হয়। সাংস্কৃতিক অঙ্গন দখল করতে না পারলে কোনো আদর্শ, তা যত মহৎই হোক, সমাজে দাঁড়াবার জায়গা করে নিতে পারে না। মৃত সমাজতন্ত্র এখনো বিশ্বের বিপুল মানুষের চেতনায় বেঁচে আছে, কারণ এক সময় এই দর্শনটি বৃহত্তর যুবসমাজের মন, মনন ও চিন্তায় আলোড়ন তুলেছিল মূলত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই। সুতরাং দাওয়াতের কাজে সঙ্গীতকে কাজে লাগাতে হবে এবং তা করতে হবে সঙ্গীতের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই। বর্তমান সময়ে বিশ্বে প্রচলিত যাবতীয় গানের সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ থাকতে হবে, যেমনটা করছেন মেহের জাইন, মেসুত কুর্তিসরা। কারণ সঙ্গীতের যেকোনো সাধারণ শিক্ষার্থীও জানেন, বাদ্যযন্ত্র ছাড়া সত্যিকার অর্থে গান করা অসম্ভব। গানের ছন্দ, তাল, লয়, মীড় কোনো কিছুই বাদ্য ছাড়া যথাযথ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তার পরও যারা বাদ্য ছাড়া গান করছেন তারা আসলে ভিত বা ফাউন্ডেশন তৈরি না করেই বহুতল ভবন তৈরি করার ব্যর্থ কোশেশ করছেন মাত্র। ইসলামী সংস্কৃতি নিয়ে যারা কাজ করেন তারাও এই সত্য জানেন না, তা নয়।

এ প্রসঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি মনে করছি। সর্বকালের সেরা পপ শিল্পী মাইকেল জ্যাকসন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন জীবনের শেষ পর্যায়ে। ইউটিউবে সার্চ দিলে তার বেশ কিছু ইসলামী গান পাওয়া যায়। সেগুলো দেখে বা শুনে যেকোনো মুসলিম অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত বোধ করবেন, সন্দেহ নেই। কিন্তু এগুলোর সত্যতা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। বিশেষ করে তার ‘গিভ থ্যাঙ্কস টু আল্লাহ’ গানটি যে নকল তা নিশ্চিত। একই গানের আরেকটি ভার্সন আছে যেটি গেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত নাশিদ শিল্পী জেইন ভিখা। জেইন ভিখার সেই গানটি মাইকেল জ্যাকসনের ভিডিওর ওপর সুপার ইম্পোজ করে বসানো হয়েছে। এতে করে কোটি কোটি মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রতারণার মাধ্যমে আর যাই হোক ইসলামের সম্মান বাড়বে না।
mujta42@gmail.com