Naya Diganta

ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে মাঝ নদীতে ফেরিতে আগুন

ভোলার মেঘনা নদীতে ইলিশা-লক্ষ্মীপুর রুটের চলন্ত ফেরি কলমিলতায় আগুন লেগেছে। এতে মালবাহী অন্তত ৯টি গাড়ি পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট টানা দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনে ফেরির কোনো ক্ষতি হয়নি। এতে অন্তত ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ইলিশা ফেরিঘাটের নৌপুলিশ ইনচার্জ সুজন চন্দ্র পাল জানান, গত বুধবার রাত ২টায় কলমিলতা ফেরিটি লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাট থেকে ভোলার ইলিশা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। রাত আনুমানিক ৪টার দিকে মেঘনার ভোলার চর এলাকায় এলে ফেরিতে থাকা একটি পিকআপ ভ্যান থেকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফেরি কিষাণীতে করে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ সময় স্টাফসহ যাত্রীরা ফেরির ক্যান্টিন ও চালকের রুমে আশ্রয় নেয়। অন্য দিকে ১৫-২০ জনের একটি গ্রুপ ফেরির অপরপ্রান্তে আগুনের কারণে আটকা পড়ে। এ সময় তাদের চিৎকার শুনে মাছ ধারার দু’টি ট্রলার এসে তাদেরকে উদ্ধার করে ভোলার ইলিশা ঘাটে নিয়ে আসে।
ফেরিতে থাকা যাত্রী ইব্রাহিম বলেন, রাত আনুমানিক ৪টার দিকে আমি ফেরির কেন্টিনে ছিলাম। তখন হঠাৎ করেই ফেরির সামনের অংশে আগুন দেখতে পাই। পরে ৯৯৯ ফোন করলে ভোলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ধারণা করা যাচ্ছে সিগারেটের আগুনে ফেরিতে থাকা ককসিটের গাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
আরেক যাত্রী নাছির বলেন, আমার গাড়িতে বেঙ্গল প্লাস্টিকের মালামাল ছিল। আগুন লাগার সাথে সাথে আমার গাড়িটি পুড়ে যায়। আগুনে গাড়িতে থাকা সয়াবিন তেল, পিস, ফ্রিজ, প্লাস্টিক সামগ্রী, ইলেকট্রিক সামগ্রীসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে যায়। এতে অন্তত ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। বাকি ৮টি ট্রাক মালামাল অক্ষত রয়েছে। ফেরিতে কোনো যাত্রীবাহী বাস বা প্রাইভেট কার ছিল না।
বিআইডব্লিউটিসির ভোলার ম্যানেজার পারভেজ জানান, ফেরিতে ১৬টি গাড়ি ছিল। এর মধ্যে ৯টি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বর্তমানে ফেরিটি মেঘনা নদীর ভোলার চর নামক এলাকায় নোঙর করা আছে।
ভোলা সদর মডেল থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সিগারেট বা মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। বিস্তারিত জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।