Naya Diganta
সৈয়দ আবুল মকসুদের অপ্রকাশিত শেষ সাক্ষাৎকার

যা জাতির জন্য ক্ষতিকর মানুষের জন্য ক্ষতিকর, তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করি

সৈয়দ আবুল মকসুদের অপ্রকাশিত শেষ সাক্ষাৎকার

আপনার শৈশবের বাংলাদেশ ও আজকের বাংলাদেশের মধ্যে কতটা পার্থক্য দেখতে পান?
আকাশ পাতাল পার্থক্য বলব না, তবে আমার শৈশবের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য বলতে গেলে বলতে হয় যেন সম্পূর্ণ দুটি দেশ। চল্লিশের দশকের শেষ এবং পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিকের বাংলাদেশ আজকের থেকে একেবারেই আলাদা। সেই প্রকৃতিও নেই, সেই সমাজও নেই। আমার জন্ম পদ্মাপাড়ে আরিচার কাছে এক গ্রামে। সেই পদ্মাও নেই, সেই গ্রামও নেই। পদ্মা ছিল উত্তাল, সমুদ্রের মতো। আমাদের বাড়ি থেকে পদ্মার দূরত্ব ছিল দুই শ’ গজ। পালতোলা জেলে ডিঙি ও পণ্য এবং যাত্রীবাহী শত শত নৌকা পদ্মায় সারা দিন চলাচল করত। মাঝে মাঝে দু’একটি স্টিমার। খুব বড় স্টিমার। গোয়ালন্দ ও সিরাজগঞ্জ থেকে আরিচা বা শিবালয় আসত। শিবালয় থেকে ভাগ্যকুল হয়ে ঢাকা। সেই শিবালয় এখন পদ্মার গর্ভে এবং ভাগ্যকুলও নদীর মধ্যে।
প্রথম এসে ঢাকাকে যেভাবে দেখেন আর বর্তমানে যেভাবে দেখছেন তাতে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
১৯৫২ সালে আমি প্রথম ঢাকা আসি। আমার মনে আছে, স্টিমারে এসেছি। শিবালয় থেকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকা। পদ্মা-মেঘনা ছাড়া আমার দেখা শৈশবের সব নদী আজ হারিয়ে গেছে অথবা মৃতপ্রায়। বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, ইছামতি প্রভৃতি মরণাপন্ন। তারপর দখল ও দূষণের অত্যাচারে নদী ধ্বংস হচ্ছে। তার ফলে নদীতীরের যে জীবন ও জনপদ, ফসলের মাঠ, গবাদি পশুর বিচরণ, গাছপালা সবই হারিয়ে গেছে। বর্তমান অবস্থা যে আগের তুলনায় খুব ভালো তা বলব না। কারণ বড় বড় দালান গড়ে ওঠার নাম ভালো নয়। আগের চেয়ে ঢাকার বর্তমান পরিবেশে অনেক সমস্যা রয়েছে। প্রতি নিয়ত আমরা খবরের কাগজে এবং টেলিভিশন সংবাদে তা দেখতে পাই।
পরিবেশ আন্দোলনের নেতা হিসেবে আপনি সারা দেশ সফর করছেন। নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। সুন্দরবন রক্ষায় লং মার্চসহ নানা রকম আন্দোলন করছেন। সাফল্য কতটা বলে মনে করেন?
যা জাতির জন্য ক্ষতিকর, মানুষের জন্য ক্ষতিকর, তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। আমি একা নই। আমরা অনেকে। সারা দেশে আমরা শত শত। সবাই পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছেন। স্কুল-কলেজের ছাত্ররাও আছেন। এই আন্দোলনে সাফল্য-ব্যর্থতা বলে কিছু নেই। এই আন্দোলন কারো বিরুদ্ধে নয়। সরকারের বিরুদ্ধে তো নয়ই। সরকারকে দিয়েই আমরা পরিবেশ রক্ষার কাজটা করিয়ে নিতে চাই। সরকার ভুল বোঝে। আমাদের বাধা দেয়। আমাদের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় করে। ভীতি প্রদর্শন করে। ফুলবাড়ী আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের কয়েকজন নিহত হয়েছেন। সুতরাং সাফল্যের কথা চিন্তা করে পরিবেশ আন্দোলন করি। সুন্দরবনের কাছে কয়লাভিত্তিক তাপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা আমরা ঠেকাতে পারিনি। এটা কি আমাদের ব্যর্থতা? নাকি সরকারের ব্যর্থতা, সরকার জাতির স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছে। সুন্দরবনের ক্ষতি হচ্ছে কিন্তু আমরা আমাদের প্রতিবাদ করেই যাবো।
মূলত সাহিত্য, কবিতা, গল্প প্রবন্ধ গবেষণা প্রভৃতি বই রয়েছে আপনার। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক। সামাজিক আন্দোলনে কিভাবে এলেন?
সামাজিক আন্দোলনে কোনো হিসাব-নিকাশ করে আসিনি। সমাজের প্রতি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকে কিছু কিছু কাজ করতে করতে নানা বিষয়ে জড়িয়ে পড়ি। ষাটের দশকের প্রথম দিকে, ’৬২-এর ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকে বাম ছাত্ররাজনীতির একজন কর্মী ছিলাম। আমাদের সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন আমরা পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বিরোধিতা করেছি। আমরা সাম্রাজ্যবাদিতার বিরোধিতা করেছি, তখন ভিয়েতনামে মার্কিন ফরাসি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মুক্তির সংগ্রাম চলছিল, বিশ্বব্যাপী যুবসমাজ পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। সমাজতন্ত্রের জন্য আন্দোলন হচ্ছিল দেশে দেশে। সেগুলো থেকে আমরা উদ্বুদ্ধ হয়েছি ভিয়েতনামের মুক্তির সংগ্রামীদের সমর্থনে ঢাকার রাজপথে সভা-সমাবেশ করেছি। প্রত্যেক দেশেই নিজস্ব কিছু সমস্যা থাকে। আমাদের উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িকতা একটি বড় সমস্যা। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হয়েছে, সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াতে হয়েছে। এর মধ্যে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। তখন এদেশের মানুষের সামনে পথ ছিল দুটি। পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা অথবা পাকিস্তানি সামরিকজান্তাকে সমর্থন করা। আমরা প্রথমটি বেছে নিই। ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সামরিকজান্তার পতন ঘটে। অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশের কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশ ও রাজনৈতিক সামাজিক সমস্যা থেকে মুক্তি পায়নি। যে লক্ষ্যে একটি শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুক্ত হয়েছিলাম তা অর্জনের পথে নানারকম বাধা দেখা দেয় সুতরাং আবারও নানা রকম সামাজিক রাজনৈতিক ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে হয়। গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম। সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। সমাজকে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত করার প্রত্যয় ছিল আমাদের। যেসবের জন্য সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পড়ি।
বর্তমানে বাংলাদেশের সামাজিক আন্দোলনের অবস্থা কেমন?
সামাজিক আন্দোলন খুবই দুর্বল নষ্ট রাজনীতির কারণের গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় সুবিধাবাদীর দিকে শিক্ষিত শ্রেণী ঝুঁকে পড়েছে। এর ফলে প্রতিবাদী কণ্ঠ খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে থাকাকেই শিক্ষিতশ্রেণী বড় প্রাপ্তি মনে করছে। রাজনীতি বলে কিছু নেই। রাজনৈতিক দল আছে তাদের কর্মী বা ক্যাডারে আছে কিন্তু রাজনীতি নেই। সরকারি দল বিরোধী দল কারো সঙ্গেই জনগণের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই, সরকারি দল রাষ্ট্র চালাচ্ছে-প্রশাসন চলছে। আদালত চলছে কিন্তু গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বলতে যা বোঝায় সে জিনিসটি বাংলাদেশ থেকে উধাও হয়ে গেছে। সরকার ভিন্নপথের প্রতি অতি অসহিষ্ণু। যার ফলে অনেকেই সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখছেন, বিরোধী দলগুলো জনগণের কাছে না গিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বসে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। জনগণের অধিকার আদায় করতে গেলে যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয় সেটা করতে আজ বিরোধী দলের নেতারাও অনিচ্ছুক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা, জেলজুলুম আছে বটে কিন্তু সেগুলোকে স্বীকার করেই তারা জনগণের পাশে থাকবেন এই কাজটি করছেন না। রাজনীতিবিদরা শুধু নির্বাচন করাকে রাজনীতি মনে করছেন। গণতন্ত্রের জন্য যে পরিবেশ সৃষ্টি করা দরকার তার জন্যও যে সংগ্রাম করতে হয় ওই কথাটা তারা ভুলে গেছেন। সুতরাং সরকারি দল এবং বিরোধী দল কেউই রাজনীতিতে নেই। এই অবস্থাটা একটি জাতির অগ্রগতির পথে খুব বড় রকমের বাধা।
আপনারা সুশাসনের জন্য আন্দোলন করেন। বর্তমান ব্যবসায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব কি না?
মোটেই সম্ভব না। সবার গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে গেলে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অবশ্যই প্রয়োজন। মতামত প্রকাশের কোনো বাধা চলবে না। সমাজে ভয়ের পরিবেশ থাকবে না। আইনের শাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ন্যায়বিচার থেকে দেশের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তিটি যেন বঞ্চিত না হয় তার ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাংলাদেশে এখন দুর্বল জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং অন্যান্য দুর্বল জনগোষ্ঠী ন্যায়বিচার পাবে কি না সে ব্যাপারে সন্ধিহান। আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত প্রভাবশালীরা রাষ্ট্রের আনুকূল্য পাচ্ছেন। দুর্নীতি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। দুর্নীতি দমনের উদ্যোগগুলো দুদক প্রভৃতি সংগঠন নিলেও তা পর্যাপ্ত নয়।
নারী নির্যাতন এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। আপনারাও আন্দোলন করছেন। এটা কমছে না কেন এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয় কী?
নারী নির্যাতন সমাজের অন্যান্য অনাচার থেকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সমাজ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে সেখান থেকে অপরাধের জন্ম নেয় আমাদের সমাজ কখনোই নারী নির্যাতনমুক্ত ছিল না। ৫০ বছর আগের নারী নির্যাতনের ধরন ছিল একরকম স্ত্রীকে শারীরিকভাবে অত্যাচার করা বাংলাদেশে পুরুষদের হাজার বছরের অভ্যাস। এখন নির্যাতনের ধরন হয়েছে অন্যরকম। মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে, নারী কর্মক্ষেত্রে যাচ্ছে। লাখ লাখ নারী আজ তৈরি পোশাক শিল্পে ও অফিসে আদালতে কাজ করছেন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন নারীর নিরাপত্তা দিতে সচেষ্ট নয়। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে এক শ্রেণীর লম্পট। যৌননিপীড়ন প্রতিরোধে শুধু পুলিশ ও প্রশাসনই যথেষ্ট নয়। জনপ্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। ছোটবেলায় দেখেছি ইউনিয়ন ভোটে চেয়ারম্যান মেম্বার তার এলাকায় কোনো যৌননিপীড়নের ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নিতেন। এখন স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান মেম্বাররা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পুরোমাত্রায় ভোগ করছেন। কিন্তু সামাজিক দায়িত্ব পালন করছেন না। জনপ্রতিনিধিরা এখন শুরুতে অনেকে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত তা-ই নয়Ñ অফিসের কাজ ফেলে তারা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অন্যান্য ব্যাপারে বেশি ব্যস্ত। অনেকেই এলাকাতেই থাকেন না। তার ফলে সমাজ নেতৃত্বহীন, অসহায় নির্যাতিত মানুষ তাদের পাশে কাউকে পাচ্ছেন না। সমাজে যে শূন্যতা তার ফলে নারীর ওপর যৌননির্যাতনসহ নানারকম অত্যাচার হয়ে থাকে। দু’একটি ঘটনা মিডিয়ার কারণে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তাতে সমস্যার সমাধান নয় হাজার হাজার নারী আজ একশ্রেণীর লম্পটের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যেতে পারছেন না। রাষ্ট্রকে কিছু কিছু ব্যাপারে অতি কঠোর হতে হবে। পরিস্থিতি এখন প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
একশ্রেণীর মাদকাসক্ত ছেলে-ছোকরা, স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা ছাড়া এই ধরনের মাদকাসক্ত লম্পটদের দমন সম্ভব নয়।
মাদক একটি বড় সমস্যাÑ এ সমস্যার সমাধান কিভাবে?
মাদক একটি বৈশ্বিক সমস্যা। প্রতিটি দেশ এখন কমবেশি মাদকের ব্যবসায়ীদের দ্বারা আক্রান্ত। আমাদের দেশে মাদকের ব্যবসার সঙ্গে সরকারি দলের লোকদের সম্পর্ক রয়েছে। তারা রাজনৈতিক প্রশ্রয় না পেলে মাদক ব্যবসা চালাতে পারবে না। যুবসমাজকে নষ্ট রাজনীতি, মাদকসহ বিভিন্ন অনাচারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। মাদকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুবসমাজ। এর বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী হবে। সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সুতরাং জাতির টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুবসমাজের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?
যুবসমাজই সমাজের বড় শক্তি। যুবসমাজের একটি অংশের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। শিক্ষিত যুবসমাজের একটি বড় অংশ। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছে না। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। তার অর্থ এই নয় যে সরকার এসব শিক্ষিত যুবককে চাকরি দিতে বাধ্য। শিক্ষিত যুবকরা যাতে নিজেরাই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব। আমাদের যুবসমাজের একটি অংশ রাজনীতির কারণে ধ্বংস হওয়ার পথে। কারণ অনেকেই সরকারি দলের ক্যাডার হয়ে কিছু সুবিধা পাচ্ছেন। সেটা খুবই সাময়িক। তারা বুঝতে পারছে না তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে দল তাদের ছুড়ে ফেলে দেবে। যুবসমাজই যুগে যুগে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আজকে আমাদের যুবসমাজের একটি বড় অংশ কোনো রকম গঠনমূলক ও প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডে নেই এই রকম একটি যুবসমাজ যদি ৭১-এ থাকত তাহলে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে প্রতিহত করা অসম্ভব হতো। ষাটের দশকের যুবসমাজ ও আজকের যুবসমাজের মধ্যে বিরাট পার্থক্য।
এবার আপনার সাহিত্যকর্ম নিয়ে কিছু কথাÑ গত বইমেলায় আপনার কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে একটি ‘বিকেলবেলা’ কবিতার বইÑ ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবার আরো কবিতা যুক্ত হয়ে বেরিয়েছে আপনার আরো কয়েকটি বই আছে, আবার কি কবিতা চর্চা শুরু করেছেন?
কবিতা চর্চা সব সময়ই করি তবে খুব কম। গবেষণামূলক রচনা দায়িত্ববোধ থেকে লিখি। কলাম ও অন্যান্য গদ্য রচনা সেগুলোও প্রয়োজনবোধ থেকে লিখি। কবিতা আমার ব্যক্তিগত আবেগ অনুভূতির প্রকাশ।
আপনি সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আন্দোলন করছেন। তারেক মিশুক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর ঈদের দিন শহীদ মিনারে আপনি যে সমাবেশ করেন সেখান থেকেই সড়ক নিয়ে আলোচনার সূচনা। তারপর গত কয়েক বছরে ছাত্রজনতার সাথেও আন্দোলন করেছেন। সড়ক দুর্ঘটনা কি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন?
গত ১০ বছরের আন্দোলন থেকে আমি যে বুঝতে পারছি তাতে এই ক্ষেত্রের উন্নতি ঘটানো সম্ভব নয়। মালিক-শ্রমিকদের শক্তির কাছে সাধারণ মানুষ শুধু নয় সরকারও অসহায়। জাতীয় জীবনের একটি বড় সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না একটি কায়েমি গোষ্ঠীর স্বার্থের কারণে। তাদের কাছে মানুষের জীবন, মানুষের নিরাপত্তা কোনো কিছুর মূল্য নেই। তারা জানেন মুনাফা ও ব্যবসা। সড়কে সুশৃঙ্খলা যদি না আনা যায় তাহলে অর্থনৈতিক উন্নতি চরমভাবে ব্যাহত হবে। আমি আশা দেখছি না কোনো।