Naya Diganta

দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, এমপি লাঞ্ছিত

আহত একজনকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতিতে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দু’টি গ্রুপের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাকিয়া তাবাসসুম জুঁই লাঞ্ছিত হয়েছেন। সংঘর্ষে বারের সম্পাদক হাজী মো: সাইফুল ইসলামসহ ২০ আইনজীবী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে বর্তমান ও সাবেক কমিটির সদস্যদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

আহতদের মধ্যে অ্যাডভোকেট সারওয়ার আহমেদ বাবু ও অ্যাডভোকেট হাবিবুল্লাহকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার ছিল দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভা। সভায় চলমান কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হবে বলে আগেই গুঞ্জন ছিল। সে জন্য এই সাধারণ সভা অবৈধ আখ্যা দিয়ে দিনাজপুর আগের কমিটির আইনজীবী সদস্যরা সাধারণ সভাস্থলে অনশন শুরু করে।

বেলা ১১টায় দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কার্যালয়ে আসেন। এরপর তিনি সাধারণ সভাস্থলে যাবার সময় সমিতির আগের কমিটির নেতারা তাকে বাধা দেন। এ ঘটনায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে বহিরাগতরাও অংশ নেয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জেলা জজ কোটের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শামসুর রহমান পারভেজ জানান, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি বছর চৈত্র মাসের প্রথম শনিবার আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পহেলা বৈশাখ থেকে নতুন কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই বর্তমান কমিটির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো ও সাবেক কমিটির ৬ কোটি টাকার দুর্নীতিসহ ৯টি এজেন্ডা নিয়ে বৃহস্পতিবার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভা হয়। কিন্তু সাবেক কমিটির নেতারা সাধারণ সভায় এসে বাধা দেন।’

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক তহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চৈত্র মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। গত বছর করোনার কারণে নির্বাচনে পাঁচ মাস পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান কমিটি তাদের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো এখতিয়ার রাখে না। তাই এই অবৈধ সাধারণ সভা আমরা মানি না। আমরা এর প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা করে।’

আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাজী মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজয় হওয়ার পর থেকে তারা মিটিং করতে বাধা দিয়ে আসছেন। যাতে করে তাদের দুর্নীতির বিষয়গুলো আমরা তুলে না নিয়ে আসতে পারি। বৃহস্পতিবার আইনজীবী সমিতির সভা চলছিল। সাধারণ সভায় ৬ কোটি টাকার দুর্নীতিসহ ৯টি এজেন্ডা উত্থাপন করা হয়। সাধারণ সভা চলাকালে সাবেক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান জাহানী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তহিদুল হক সরকার এসে হামলা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।’

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও আইনজীবী সমিতির সদস্য জাকিয়া তাবাসসুম জুঁই বলেন, ‘দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে আমাকেও ধাক্কা দেয়া হয়েছে। দিনাজপুরের ফিজার ভাই ও ইকবাল ভাই দু’গ্রুপের কারণে মানুষ আজ অতিষ্ঠ।’

তিনি বলেন, ‘আমার অথবা বারের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট মাজহার যদি মারা যান তাহলে ভাইয়া গ্রুপ দায়ী থাকবে।’