Naya Diganta

এক দিনের সফরে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এক দিনের সফরে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর চূড়ান্ত করতে এক দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় আসেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

দুপুর সোয়া ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে জয়শঙ্করের।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৬ মার্চ ঢাকা আসবেন। এ সময় তিনি ঢাকা-জলপাইগুড়ি রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস, বাপু (মহাত্মা গান্ধী)-বঙ্গবন্ধু জাদুঘর এবং বাংলাদেশের রামগড় ও ত্রিপুরার সাবব্রুমকে সংযোগকারী ফেনী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর উদ্বোধন করবেন। ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী জানিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদির সফরে জ্বালানি, জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততা ও বৃহত্তর রাজনৈতিক অংশীদারিত্বের বিষয়গুলোতে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। সফরের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী ৫০ বছরকে সামনে রেখে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মজবুত করা। এর বাইরে ১৯৭১ এর দুই দেশের বন্ধুত্বের চেতনাকে সমুজ্জ্বল রাখতে কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হবে।

নরেন্দ্র মোদির সফরে ট্রানজিট ইস্যুটির ওপর বেশ গুরুত্ব দেবে ভারত। ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হলেও কয়েকটি কারণে তা কার্যকর হতে পারছে না। বিষয়টি নিয়ে জয়শঙ্করও আলোচনা করে একটি সুরাহা বের করতে চাইবেন। এ ব্যাপারে দোরাইস্বামী বলেছেন, বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিউর (এসওপি) ২০১৯ সালে চূড়ান্ত হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি শেষ। এখন আমরা মূলত দুইটি পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছি। একটি হলো ভারতের পণ্য নিয়মিতভাবে পরিবহনের জন্য বিধিবদ্ধ আদেশ (এসআরও) জারি। অন্যটি হলো ভারতীয় পণ্য পরিবহনের খরচ নির্ধারণ। এই খরচ বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েরই জন্যই লাভজনক হতে হবে। অর্থ সাশ্রয় করতে না পারলে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্য পরিবহন আমরা কেন করব? এই দর নির্ধারণের কাজ এখনো চলছে।

অন্য দিকে তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যুটি বরাবরের মতোই বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে রয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিলতায় তিস্তা ইস্যুটি ঝুলে থাকলেও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় দুই দেশ। মনু, মুহুরি, দুধকুমার, ধরলা, গোমতি ও খোয়াই নদীর পানি বণ্টন নিয়ে একটি খসড়া চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। এটি দ্রুত শেষ করতে চায় ঢাকা। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য রহিমপুর খাল খননে আপত্তি করছে ভারত। এ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আলোচনা করবে ঢাকা। মোদির সফরের আগে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) সচিব ও মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকগুলো যথাসময়ে হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখতে ভারতের সাথে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সই করতে চায় বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে একটি যৌথ সমীক্ষা করার জন্য দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সমীক্ষাটি দ্রুততার সাথে করার জন্য জয়শঙ্করকে তাগাদা দেবে বাংলাদেশ। আগামী ৭ ও ৮ মার্চ দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ে বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। জয়শঙ্করের সফরে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আবারো তোলা হবে। বাংলাদেশ মনে করে, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড দুই দেশের বন্ধুপ্রতীম সম্পর্কের প্রতিফলন নয়।

জয়শঙ্করের সাথে বৈঠকে সম্প্রতি আন্দামান থেকে উদ্ধার করা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া, করোনা মহামারী মোকাবেলায় সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে।