Naya Diganta

কালুখালীতে যুবককে অমানুষিক নির্যাতন : ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

রাজবাড়ীর কালুখালীতে গ্রাম্য সালিসের সাজা হিসেবে এক যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে কালুখালী থানা পুলিশ। আটকরা হলেনÑ কালুখালী উপজেলার ৭ নম্বর সাওরাইল ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী ও একই ইউনিয়নের বড়বিলা গ্রামের শফিউদ্দিন শুটকি মণ্ডলের ছেলে রায়াহন।
কালুখালী থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে সাওরাইল ইউপির চর পাতুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি গ্রাম্য সালিসের আয়োজন করা হয়। সালিসে চর পাতুরিয়া গ্রামের ইমান আলী শেখের ছেলে রাশেদুল শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০০ জুতার বাড়ি ও জরিমানা করা হয়। এতেও চেয়ারম্যানের মনের তুষ্টি না মেটায় আরো শাস্তি হিসেবে মধ্যযুগীয় কায়দায় তার পুরুষাঙ্গে রশি দিয়ে ইট বেঁধে তাকে স্কুল মাঠে প্রদক্ষিণ করানো হয় এবং বেধড়ক মারধর করা হয়। এর ফলে রাশেদের পুরুষাঙ্গে রক্তপাত হতে থাকে। এ সময় চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করেন এবং এ ঘটনা পুলিশকে না জানানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। পরে রাশেদুলকে তার নিজ বাড়িতে চেয়ারম্যানের লোকজন অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তাকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেন। রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে কালুখালী থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে রাশেদুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
কালুখালী থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, এটি একটি অমানবিক ঘটনা। মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী ও রায়হানকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।