Naya Diganta

মির্জাপুরে চলছে শেষ মুহূর্তে প্রচার-প্রচারণা, ব্যস্ত মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা

মির্জাপুরে চলছে শেষ মুহূর্তে প্রচার-প্রচারণা, ব্যস্ত মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভা নির্বাচন। প্রথম শ্রেণীর এ পৌরসভায় মেয়র পদে এবার দু’জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ধাপে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ভোট গ্রহণ। ভোট নিয়ে সব বয়সের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা গেছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। সব মিলিয়ে সরগম মির্জাপুর তৃণমূলের রাজনীতি।

মির্জাপুর পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা উম্মে তানিয়া জানান, পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে দু’জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মির্জাপুর পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৬৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ১৯১ জন এবং নারী ভোটার ১১ হাজার ৪৭৮ জন।

সরেজমিনে মির্জাপুর পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌর এলাকায় এখন নির্বাচনি হওয়া বইছে। প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ, পোস্টার সাঁটিয়ে, ব্যানার টানিয়ে ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনি মাঠে নিজেদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলাচ্ছেন জোর প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা ডিজিটাল রেকডিং প্রচারণায় মাইকিং চালিয়ে যাচ্ছে দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

মির্জাপুর পৌর এলাকর ৩ নম্বর ওয়ার্ড মির্জাপুর বাজার এলাকার ভোটার মুসলিম জুয়েলার্স স্বত্বাধিকারী মো. মকবুল হোসেন জানান, এবার মেয়র নির্বাচনের চেয়ে বড় ফ্যাক্টর কাউন্সিলর নির্বাচন। যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে আমরা ব্যবসা বান্ধব মেয়র, কাউন্সিলদের ভোট দিব।

নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দু’জন হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মির্জাপুর পৌর আওয়ামী লীগের নারী বিষয়ক সম্পাদক ও পৌর মেয়র শাহাদত হোসেনের স্ত্রী সালমা আক্তার শিমুল (নৌকা) ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক এজিএস, মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ (ধানের শীষ) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, মির্জাপুর স্থানীয় রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকলেও পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগে মতবিরোধ এখন আর চোখে পড়ছে না। কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য সবাই এক সাথে সবাই কাজ করছেন বলে দাবি নেতাকর্মীদের।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সালমা আক্তার শিমুল নয়া দিগন্তকে বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে আমি মির্জাপুর পৌরসভার প্রয়াত মেয়র আমার স্বামী শাহাদত হোসেন সুমনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার দায়িত্ব পালন করব।

মির্জাপুর পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী বলেন, বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকলেও পৌর নির্বাচনে সবাই মতবিরোধ ভুলে দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। তারা দেশে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ নয়া দিগন্তকে বলেন, ২০ বছরের পৌরসভা মির্জাপুর। তিনবার আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচিত হওয়ার পরও মির্জাপুর পৌরসভায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। যারা নির্বাচিত হয়েছে তারা শুধু সাধারণ মানুষকে আশার কথা শুনিয়েছেন। আমি নির্বাচিত হলে মির্জাপুর পৌরসভা হবে দেশের অন্যতম একটি মডেল পৌরসভা। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট হয় তাহলে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত বলে জানান তিনি।

মির্জাপুর পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকতা এ এস এম কামরুজ্জামান বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং প্রভাবমুক্ত করার জন্য সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। আগামী ৩০ জানুয়ারি ৯টি ওয়ার্ডে ১০টি ভোট কেন্দ্র ও ৬৪টি বুথে ভোট গ্রহণ চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মির্জাপুর পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৬৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ১৯১ জন এবং নারী ভোটার ১১ হাজার ৪৭৮ জন। মির্জাপুর পৌরসভায় পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার সংখ্যা বেশি এক হাজার দু’ শ ৮৭ জন।