Naya Diganta

বাংলাদেশ রাজনীতির বিদেশ নির্ভরতা

বাংলাদেশ রাজনীতির বিদেশ নির্ভরতা

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিদেশীদের কাছে নয়, দেশের জনগণের কাছে নালিশ করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২৫ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি কথায় কথায় বিভিন্ন দূতাবাসে নালিশ করে। আর রাতের আঁধারে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে। বিএনপির প্রতি আওয়ামী লীগের এমন আহ্বান নতুন নয়। খবর নিলে বিগত এক দশকে এমন আহ্বানের অনেক নমুনা মিলবে।

আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায়। তাদের আর বিদেশীদের তোয়াজ-তোষামোদের দরকার নেই। বরং বিদেশীরা এখন ব্যবসাবাণিজ্য, সম্পদ আহরণ ও নানাবিধ সুবিধা পাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের মুখাপেক্ষী হবে এটা স্বাভাবিক। আবার আওয়ামী লীগও এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সম্ভাবনা মসৃণ করতে চাইবে- এটাও স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক হচ্ছে স্ববিরোধিতা। ক্ষমতার বাইরে এবং ক্ষমতার ভিতর থেকে যদি একই কথা ও একই কাজ না করা যায়- সেটাই স্ববিরোধিতা। এই স্ববিরোধিতার জন্য একা আওয়ামী লীগকে দায়ী করা যাবে না। বিএনপিও একই দোষে দুষ্ট। একটি জনপ্রিয় দৈনিক তথ্য প্রমাণ ও পরিসংখ্যান দিয়ে সম্প্রতি দেখিয়েছে যে, এই স্ববিরোধিতা কত হাস্যকর ও তীব্র। সহজ-সরল উদাহরণ হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কথা বলা যায়। যারা এর জন্য আন্দোলন করল ক্ষমতার জন্য তারাই তা বাতিল করল। আইন-কানুন, রীতি-রেওয়াজ, ভদ্রতা-সভ্যতা, নিয়ম-কানুন- কিছুরই তোয়াক্কা করতে চায় না তারা। তা না হলে স্ববিরোধী বিপরীত কথা ও কাজ কী করে ধারণ করে!

১৯৭২-১৯৯০ এই সময়কালটি নানা দোষে দুষ্ট। এই সময়েও স্বদেশ-বিদেশ নির্ভরতারও গল্প আছে। গণতান্ত্রিক সময়কালটিকে বলা হয় রাজনীতিকদের যুগ। তাই ১৯৯০-২০২০ পর্যন্ত তাদের আচার-আচরণ বিশেষত বিদেশ নির্ভরতা পর্যালোচনা করতে চাই আমরা। ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি এই দুই দলের জেদাজেদির রাজনীতিতে মধ্যস্থতার চেষ্টায় কমনওয়েলথের মহাসচিব এমেকা আনইয়াকু মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ঢাকায় এসেছিলেন। নির্বাচনের একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবিতে অনড় আওয়ামী লীগের দেশ অচল করা আন্দোলনের মুখে অচলাবস্থা নিরসনে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। ১৯৯৫ সালে কমনওয়েলথ মহাসচিবের দূত হিসেবে মধ্যস্থতা করতে এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গভর্নর জেনারেল স্যার নিনিয়েন স্টিফেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে এসেছিলেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ওয়াসকার ফারন্দাদেস তারানকো। এভাবে বিভিন্ন সময়ে বিদেশী দূতরা দূতিয়ালি করতে এসেছেন। কিন্তু দুই পক্ষ যে যার অবস্থানে শক্ত থেকেছে। আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। বারবার প্রমাণিত হয়েছে, আমরা পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ। সমাধান হবে যার যার ইচ্ছে মতো। বেপথে-কুপথে। সে সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুটির রাজনৈতিক সমাধান হলে এই জাতি এই আপদ-বিপদে পড়ত না। যে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, ‘সেই তো নথ খসালি তবে কেন লোক হাসালি!’

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দলগুলো যে জনগণের ওপর নির্ভরশীল নয়, জনগণের রায়ের ওপর শ্রদ্ধাশীল নয় এবং তারা যে ক্ষমতার সোনার হরিণের জন্য আকুল-ব্যাকুল তার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পরপরই। দেশের প্রথম নির্ভেজাল, নিরঙ্কুশ ও নিরপেক্ষ এই নির্বাচন সম্পর্কে আশাবাদী ছিল আওয়ামী লীগ। আশা-আশঙ্কার দোলাচলে আওয়ামী লীগ হোঁচট খেল। সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগের আড়ালে আত্মতুষ্টির ব্যর্থ চেষ্টা হলো। জনগণের মত মেনে নিতে পারল না তারা। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরাও পালাবদলের হাওয়া সইতে পারলেন না। তারা ভীত হলেন মৌলবাদী উত্থানে।

বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই আওয়ামী সেকুলার বুদ্ধিজীবীরা ‘নাগরিক কমিটি’ গঠন করলেন। শহীদ মিনারে জমায়েত হলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসে ‘স্মারকলিপি’ পৌঁছালেন। রাষ্ট্রদূতদের সাথে দেনদরবার করলেন। গণতন্ত্রের নামে স্বীয় ধ্বজাধারীদের ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনায় বিষোদগার করলেন বিদেশে। জনগণের রায় আর তাদের সমর্থিত মধ্যপন্থার নীতিও তারা মেনে নিতে পারলেন না। এর পরের ঘটনাবলি আরো বিব্রতকর ও বিপজ্জনক। বিরোধীদলীয় নেত্রী দাতা দেশ ও সহযোগিতা সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, বাংলাদেশকে কোনো সহায়তা না দেয়ার জন্য। দুর্নীতির অভিযোগের আড়ালে তিনি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন। ১৯৯২-১৯৯৬ সময়কালে গোটা বিশ্বে আওয়ামী লবি ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদী, ব্যর্থ ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র প্রমাণ করার জন্য তারা হেন চেষ্টা নেই, করেননি। এসবের মধ্যে ছিল লবিস্ট নিয়োগ, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, গবেষণাকর্ম, বুদ্ধিজীবীদের বিবৃতি সংগ্রহ এবং শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগ। এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ এশিয়া ডেস্ক এর সাথে যোগাযোগ ত্বরান্বিত করা হয়। কামাল হোসেন, তোফায়েল আহমেদ ও আরো একজন সশরীরে সাউথ এশিয়া ডেস্কে হাজির হন। এক পর্যায়ে আবুল মাল আবদুল মুহিত সেখানে বিএনপির বিপক্ষে বক্তব্য রাখেন। মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের সহানুভূতি সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশে ইসলাম ও ইসলামন্থীদের উত্থানকে রূপ-রস-গন্ধ দিয়ে এমনভাবে পরিবেশিত হয় যে, পাশ্চাত্য আফগানিস্তানের পরপরই বাংলাদেশকে বিপজ্জনক মনে করে। আওয়ামী লীগকে পরবর্তী সরকারে স্থাপনের জন্য এসব করা হয়। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি গৌণ হয়ে পড়ে। তারা সফল হয়। ঘরে-বাইরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কুশলতা ও জনতুষ্টিমূলক বক্তব্য ও প্রচার ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে। পরবর্তী নির্বাচনটিও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার ফলে আওয়ামী লীগ ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত হয়। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ আগের মতোই ক্ষমতাসীন বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

২০০১ সালে ১/১১-এর ঘটনাবলি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ঘোষিত ওয়ার অন টেরর বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ- এই নীতির আওতায় পররাষ্ট্রনীতি পুনর্গঠিত হয়। আফগানিস্তান ও ইরাকে দখলদারির পর আরো যেসব রাষ্ট্র ইসলামী জঙ্গিবাদীদের আশ্রয়স্থল হতে পারে তা চিহ্নিত করা হয়। এই সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগ তথা সেকুলার শক্তিগুলোর প্রচারণা এতই গ্রহণযোগ্যতা পায় যে, দৃশ্যত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রচ্ছন্নভাবে বাংলাদেশে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা হাতে নেয়। ক্ষমতাসীন বিএনপির সাথেও তারা সমীকরণের চেষ্টা করে। প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক, সেকুলার গোষ্ঠী ও তাদের আন্তর্জাতিক লবিস্টরা তা ব্যর্থ করে দেয়। এ সময়ের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক পরিবর্তন হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুসৃত নীতিতে পাকিস্তানবিরোধী অবস্থান এবং ভারতের সাথে কৌশলগত মৈত্রী স্থাপন। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ভারতকে দক্ষিণ এশিয়ার কর্তৃত্বে স্থাপন করেন। তার মানে হলো, বাংলাদেশের প্রশ্নেও ভারতের মতামতই যথার্থ। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এই সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দু-একটি ঘটনার প্রকারান্তরে সরকার পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রচারণায় বাংলা ভাই পেপার টাইগার থেকে রিয়েল টাইগারে পরিণত হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, ৬৪ জেলায় পটকা ফোটানোকে বোমা বিস্ফোরণ বানিয়ে ইঙ্গ-মার্কিন লবি আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন ও সহানুভূতি অর্জন করে। এ ক্ষেত্রে স্নায়ুযুদ্ধকালে পরিচালিত ‘এ রেড ফ্লাগ টু অপোজিট এ রেড ফ্লাগ’ কৌশল অনুসরণে ‘এ গ্রিন ফ্লাগ টু অপোজ এ গ্রিন ফ্লাগ’ নীতি অনুসৃত হয়। নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, ইসলামী রাজনীতির বিপরীতে হত্যা ও সন্ত্রাসের কূটকৌশল দ্বারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়।

অবশেষে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ব্যবহার করে হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করা হয়। সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। তাদের দুই বছরের কার্যাবলি বিশেষত পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষণ করলে আমাদের উপরিউক্ত প্রস্তাবনার সপক্ষে প্রমাণ্য প্রতিবেদন উপস্থাপন করা যায়। অবশেষে লন্ডন ইকোনমিস্টের ভাষায় ‘একটি প্যাকেজ ডিলের আওতায় বস্তা বস্তা টাকার বিনিময়ে’ ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে।

১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত সরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগ ও এর নেতৃত্ব সংযোগ ও সতর্কতার সাথে অগ্রসর হয়। ২০০১ সালের নির্বাচন তাদের এই উপলব্ধি দেয় যে, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা তাদের জন্য সম্ভব নয়। বাংলাদেশের শাসন কাঠামো এ দ্বিদলীয় ব্যবস্থার যে সুন্দর বিবর্তনটি ঘটে তা তাদের হতাশ করে। ক্ষমতার আপেক্ষিকতায় নির্ভর না করে তারা পূর্ব প্যাকেজ ডিলের আওতায় বাংলাদেশকে কথিত লবির হাতে সমর্পণ করে। ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বহির্বিশে^ ‘বশ্যতা ও অধীনতা’র পররাষ্ট্রনীতি বলে সমালোচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন গবেষক ইসাম সোহাইল তার পর্যালোচনায় অভিমত ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ দৃশ্যত বৃহৎ প্রতিবেশীর প্রযত্নে পরিচালিত হচ্ছে।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের উল্লেখ করে তিনি দেখাতে চান যে, দেশটি মূলত র’ এবং মোসাদের মতো এজেন্সির খপ্পড়ে পড়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মাঝে মধ্যে বিকল্প চিন্তা ও চেষ্টা করেও অবশেষে বশীভূত হচ্ছে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উদাহরণ দিতে গিয়ে ইসাম সোহাইল ২০১৬ সালের সার্ক সামিটের কথা উল্লেখ করেন। ভারত এতে যোগদান না করার পরপরই বাংলাদেশও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে যেতে অপারগতা প্রকাশ করে। সার্কের বিপরীতে বিমসটেককে জোরালো করার ক্ষেত্রে ভারত প্রকাশ্যে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিচ্ছে। ভারত তার পূর্বাঞ্চলের সাথে বাংলাদেশকে উপ-আঞ্চলিক জোট করতেও সহযোগিতা দিচ্ছে। চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে সংবেদনশীল বিবেচনা করছে ভারত। দু-এক মাস আগে আকস্মিকভাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার আকস্মিক বাংলাদেশ সফরকেও পর্যবেক্ষক মহল একই ধারায় বিবেচনা করছে। সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর বাতিলের কথা উল্লেখ করা যায়। গত মঙ্গলবার ১ ডিসেম্বর ২০২০ নির্ধারিত ছিল চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ওয়েই ফেঙ্গহির ঢাকা সফর।

ইতোমধ্যে একটি কূটনৈতিক সূত্র তার সফর স্থগিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে শেষ মুহূর্তে কেন সফরটি হচ্ছে না তা নিয়ে কূটনৈতিক সূত্রে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত রোববার বেইজিং থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু পৌঁছান। সেখান থেকেই তার ঢাকা আসার কথা। প্রতিবেশী দেশ ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার কাঠমান্ডু সফর শেষ হওয়ার পরপরই চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নেপাল সফর করলেন। কূটনৈতিক মহল মনে করেন, বাংলাদেশ সফরে না আসা তাৎপর্যপূর্ণ। ইসাম সোহাইলের মতো পর্যবেক্ষক হয়তো এখানে প্রযত্নের পররাষ্ট্রনীতির কথা বলতে চাইবেন।

বাংলাদেশের বিগত ৫০ বছরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিশেষত বিগত ’৯০ সালের পরের ঘটনাবলি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করলে আমাদের হতাশ হতে হয়। যেখানে জাতীয় গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব দেশ তথা দেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা হওয়ার কথা ছিল স্বকীয়, স্বাধীন এবং বাধা বন্ধনহীন, সেখানে আমরা দেখলাম উভয় রাজনৈতিক দল পদে পদে শৃঙ্খলিত। এই প্রযত্নের রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে উভয় দলের আপেক্ষিকতা থাকতে পারে। কিন্তু মৌলিক বৈশিষ্ট্য একই ধরনের। ব্যতিক্রমী বুদ্ধিজীবী আবুল কাশেম ফজলুল হক মনে করেন, এ ধরনের বিদেশী হস্তক্ষেপ আমাদের হীনম্মন্যতার বহিঃপ্রকাশ। এটিকে তিনি পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিবর্গের ‘নিরাজনীতিকরণ’এর ও ‘নিরাষ্ট্রকরণ’এর অঘোষিত পরিকল্পনা মনে করেন। তাহলে আমরা কি বুঝব যে, বাংলাদেশের রাজনীতি স্বদেশের নয়, বিদেশের। আর তার অনুঘটক আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এ অবস্থার পরিবর্তন কাম্য। শুধু জনগণের দৃঢ় সদিচ্ছাই এই পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]