Naya Diganta
প্রতিটির দাম হবে ২ ডলারের কম

গ্যাভি থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে

প্রতিটির দাম হবে ২ ডলারের কম

টিকা সংগ্রহের জোট গ্যাভির কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ করোনার টিকা (ভ্যাকসিন) পাচ্ছে। এই ভ্যাকসিন তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষকে দেয়া যাবে। প্রত্যেককে দুই ডোজ করে টিকা নিতে হবে। টিকার এই ডোজগুলো এক সাথে নয়, ধাপে ধাপে পাওয়া যাবে। তবে উল্লিখিত ভ্যাকসিনের সব ডোজ ২০২১ সালের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মা, শিশু ও কৈশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা: মো: শামসুল হক গতকাল বুধবার অনলাইন মিটিংয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: এ বি এম খুরশীদ আলম, দ্ইু অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা ও অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা: শামসুল হক বলেন, করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে অনেকগুলো গবেষণা হচ্ছে। কেউ ভ্যাকসিন উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে আছে। তবে যে ভ্যাকসিনই আসুক আমরা যেন পেতে পারি সে লক্ষ্যে কাজ করছি। ডা: শামসুল হক বলেন, গ্যাভিতে যারা আগে জাতীয় ভ্যাকসিন বিতরণ পরিকল্পনা জমা দেবে তারাই আগে পাবে। গ্যাভি যখন থেকে পরিকল্পনা জমা নেয়া শুরু করবে, আশা করছি আমরা প্রথম দিনই আমাদের পরিকল্পনা জমা দিতে পারবো।’ ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিয়ে তিনি জানান, গত জুলাই মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ কোভ্যাক্সে আবেদন করে এবং গ্যাভি সেটি গ্রহণ করে গত ১৪ জুলাই। বাংলাদেশের ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠী গ্যাভির কাছ থেকে প্রথম ধাপে ছয় কোটি ৮০ লাখ ভ্যাকসিন পাবে। তবে গ্যাভি এটা বিনা পয়সায় দেবে না। এ জন্য কোয়ে ফিন্যান্সিংয়ে যেতে হবে সরকারকে। প্রতিটি ভ্যাকসিন এটা ১.৬ ডলার থেকে দুই ডলারের মধ্যে কেনা যাবে। তবে ভ্যাকসিন প্রাপ্তির জন্য জরুরি হচ্ছে ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান নিয়ে কাজ করা। যেটা একেবারেই শেষ পর্যায়ে বলে জানান ডা: শামসুল হক।
‘গ্যাভির ভ্যাকসিন ছাড়াও বাংলাদেশ সরকার বেক্সিমকোর মাধ্যমে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনার জন্য চুক্তি করেছে। সিরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন ভারতে তৈরি করে বিক্রি করবে। অক্সফোর্ডের ওই ভ্যাকসিন চার ডলারে কেনা যাবে। এরপর পরিবহন খরচসহ আরো এক ডলার অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের সাথে যোগ হবে। এই ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউরোপীয় কমিশনের ল্যাবে গুণগত মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ডা: শামসুল হক বলেন, এটা ছাড়াও সিনোভ্যাকের সাথে যোগাযোগ চলছে, রাশিয়ার স্পুৎনিক ভ্যাকসিনের সাথেও যোগাযোগ রয়েছে।
একই সাথে জেএসকের সানোফি এবং ফাইজারের সাথেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন প্রাপ্তির চেষ্টাও হচ্ছে। ফাইজারের ভ্যাকসিনের জন্য মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার প্রয়োজন। এ নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তাভাবনা করছে। এ বিষয়ে কোভিড ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করেছে সরকার।