Naya Diganta

কমেছে লেনদেন বেড়েছে সূচক

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস গতকাল বুধবার দেশের শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে বীমা খাত। অপর দিকে আগের দিন দাপট দেখানো মিউচুয়াল ফান্ড পতনের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডের পতন হলেও বীমার ওপর ভর করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে শেয়ারবাজারে।
এ দিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে দুই বাজারেই কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
প্রায় সবক’টি বীমার পাশাপাশি বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে গতকাল বুধবার লেনদেন শুরু হয়। দিনের লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে দিনের লেনদেন শেষে তালিকাভুক্ত ৪৮টি বীমা কোম্পানির মধ্যে ৪১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে চারটির এবং তিনটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অপর দিকে লেনদেনের শুরু থেকেই পতনের তালিকায় নাম লেখাতে থাকে একের পর এক মিউচুয়াল ফান্ড। লেনদেনের শেষদিকে পতনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে দিনের লেনদেন শেষে একটি মিউচুয়াল ফান্ডও দাম বৃদ্ধির তালিকায় নাম লেখাতে পারেনি। তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৬টিরই দরপতন হয়েছে। একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অথচ আগেরদিন সবক’টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছিল।
এক দিনের ব্যবধানে মিউচুয়াল ফান্ড বিপরীত আচরণ করলেও একের পর এক বীমা কোম্পানির শেয়ার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্য খাতের ওপর তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে দিনভর ডিএসই লেনদেনে অংশ নেয়া ১৪১ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বৃদ্ধির তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ১০৯টি এবং ৯২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়ে যাওয়ায় দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৫ পয়েন্ট বেড়ে চার হাজার ৮৬১ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৬৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬০২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬৭১ কোটি তিন লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৬৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে নিটল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের ১২ কোটি ৯৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ১২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑ নর্দান ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, এডিএন টেলিকম, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, বিবি ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফিড এবং কাশেম ইন্ডাস্ট্রি।
আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৫০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮০টির এবং ৫৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ব্লক মার্কেট : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বুধবার ব্লক মার্কেটে মোট ২২ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মোট ২৪ লাখ ৫৭ হাজারটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ১২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল বুধবার ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি টাকার লেনদেন হয়েছে এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের শেয়ার। কোম্পানিটি তিন কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে। ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স তিন কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক দুই কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
ব্লক মার্কেটে লেনদেন করা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছেÑ আমান কটন ফাইবার্স, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুাল ফান্ড, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, জিকিউ বলপেন, গ্রামীণ স্কিম-২ মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি ইম্পোলয়েজ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, জনতা ইন্স্যুরেন্স, কোহিনুর কেমিক্যাল, ন্যাশনাল ফিড, নিটল ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম কটন, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড ও এসকে ট্রিমস লিমিটেড।
পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানির বোর্ড পুনর্গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্ত : আইন অনুযায়ী সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হলে কোম্পানির বোর্ড পুনর্গঠনের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই সাথে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার বন্ডও অনুমোদন করেছে বিএসইসি। গতকাল বুধবার বিএসইসির ৭৫০তম সভায় এ দুই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকগণ আইন অনুযায়ী সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হবেন সেসব কোম্পানির বোর্ড পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা বিএসইসির গতকালের সভায় চূড়ান্ত করা হয়।
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা বন্ড অনুমোদন : বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা বন্ড অনুমোদন করার তথ্য জানা গেছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক আনসিকিউর্ড, কন্টিজেন্ট-কনভার্টেবল, ফ্লোটিং রেট, মুদারাবা পারপেচুয়াল বন্ড ইস্যু করবে।
স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, বিভিন্ন ফান্ড, করপোরেটসহ অন্যান্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদেরকে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে বন্ডটি ইস্যু করা হবে।
উল্লেখ্য, এই বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ উত্তোলন করে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এর টায়ার-ও ক্যাপিটাল বেজ শক্তিশালী করবে।এই বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা। বন্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে ইবিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ম্যাডাটেড লিড অ্যারেঞ্জার হিসেবে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্স লিমিটেড এবং প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেনস্ট লিমিটেড কাজ করছে।