Naya Diganta

ঘরে ফিরল ক্রিকেট, জিম্বাবুয়েকে ২৬ রানে হারালো পাকিস্তান

ঘরে ফিরল ক্রিকেট, জিম্বাবুয়েকে ২৬ রানে হারালো পাকিস্তান

২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা টিম বাসে বন্দুকধারীদের হামলার পর একপ্রকার নির্বাসনে গিয়েছিল পাকিস্তানের ক্রিকেট। দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০১৫ সালে প্রথম দল হিসেবে পাকিস্তান সফর করেছিল জিম্বাবুয়ে। এরপর আবার বিরতি পাঁচ বছর। আবার পাকিস্তানকে ঘরের মাটিতে ক্রিকেট ফেরাতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সেই জিম্বাবুয়েই। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে দুই দলের মধ্যে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ২৬ রানে হারিয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান।

আগে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৮১ রান করে পাকিস্তান। জবাবে জিম্বাবুয়ের হয়ে টেইলর সেঞ্চুরি করলেও হার এড়াতে পারেনি দলটি। দুই বল বাকি থাকতে দলটি অল আউট হয় ২৫৫ রানে। তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে লিড পাকিস্তানের। তিন নভেম্বর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে রাওয়ালপিন্ডিতে।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের হয়ে প্রায় সবাই রান পেয়েছেন। সেরকমভাবে পাক ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিতে পারেনি জিম্বাবুয়েন বোলাররা। উইকেট আটটি পড়লেও সেটি ছিল স্কোর সমৃদ্ধ করার তাগিদে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রানের ইনিংস আসে হ্যারিস সোহেলের ব্যাট থেকে। ৮২ বলের ইনিংসে তিনি হাঁকিয়েছেন ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা।

ফিফটির দেখা পেয়েছেন আরও একজন। ওপেনার ইমাম উল হক ৭৫ বলে করেন ৫৮ রান। ছক্কা না হাকালেও তিনি মেরেছেন ছয়টি চার। অধিনায়ক বাবর আজম মাত্র ২১ রানেই ফেরেন। ইমাদ ওয়াসিম ২৬ বলে থাকেন ৩৪ রানে অপরাজিত। এছাড়া ফাহিম আশরাফ ২৩, আবিদ আলী ২১ রান করেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে মুজারবানি ও চিসোরো দুটি করে উইকেট নেন।

২৮২ রানের বড় টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না জিম্বাবুয়ের। ২৮ রানের মধ্যে হারায় দুই ওপেনারকে। শাহিন আফ্রিদির বলে বোর্ড ব্রায়ান চারি (২) ও অধিনায়ক চিভাভা (১৩)।
শুরুর ধাক্কা বেশ ভালোমতো সামাল দেন পরের দুই ব্যাটসম্যান শন আরভিন ও ব্রেন্ডন টেইলর। পাক বোলারদের বেশ বুঝে শুনে রানের চাকা সচল রাখেন দুজন। ৯৯ রানে পড়ে তৃতীয় উইকেট। ৪১ রান করে ফেরেন আরভিন। এরপর দ্রুত বিদায় নেন শন উইলিয়ামসও (৪)।

মিডল অর্ডারের ওয়েজলি মাদেভেরের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েন টেইলর। এই জুটি একটা সময় জয়ের স্বপ্ন দেখাাচ্ছিল জিম্বাবুয়েকে। এই জুটি দলকে টেনে নিয়ে যান ২৩৪ রান অবধি। ৫৫ রান করে মাদেভেরে আউট হন ওয়াহাব রিয়াজের বলে। দলীয় স্কোরে ছয় রান যোগ হওয়ার পর ব্রেন্ডন টেইলর আউট হলে নিভে যায় জিম্বাবুয়ের জয়ের স্বপ্ন। কারণ বাকি ব্যাটসম্যানদের কেউই দাঁড়াতে পারেনি শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ওয়াহাব রিয়াজের আগুনমুখো বোলিংয়ের মুখে। ৪৯.৪ ওভারে ২৫৫ রানে অল আউট জিম্বাবুয়ে। শেষ ২১ রানে দলটি হারায় ছয় উইকেট।

বিদায় নেয়ার আগে জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্যাট হাতে ঝলমলে ইনিংস খেলেছেন টেইলর। করেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। ১১৭ বলে তিনি করেন ১১২ রান। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও তিনটি ছক্কার মার। ম্যাচ পাকিস্তান জিতলেও ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন ব্রেন্ডন টেইলর।
বল হাতে বলতে গেলে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ওয়াহাব রিয়াজই গুঁড়িয়ে দেন জিম্বাবুয়ের ইনিংস। আফ্রিদি ৫টি, ওয়াহাব ৪টি উইকেট নেন। বাকি এক উইকেট পান ইমাদ ওয়াসিম।