Naya Diganta

ভালোবাসা

ভালোবাসা

‘ভালোবাসা’ শব্দটি ব্যপক অর্থে এবং বিভিন্ন প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়। সার কথা- এর ব্যবহার বহুমাত্রিক। আমাদের তেজগাঁও টেকনিক্যাল হাই স্কুলের (স্কুলটি এখন সরকারি বিজ্ঞান কলেজ) সুদর্শন হেড স্যার আবদুর রাজ্জাক স্কুলের নিয়ম-শৃঙ্খলার ব্যাপারে বেশ সজাগ ছিলেন। পোশাক পরিচ্ছদেও ছিলেন কেতাদুরস্ত। বিলেতে তার ট্রেনিংও ছিল। যে ছাত্র স্কুলের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে, ছাত্র হিসেবে যত মেধাবীই হোক তার কোনো ছাড় ছিল না।

১৯৬০ সালে ক্লাস টেনে পড়ি এবং ক্লাসের ফার্স্ট বয়। আমার একটা অভ্যাস ছিল প্রতিদিন স্কুলের পথে বাসা থেকে আধ ঘণ্টা আগে বের হতাম। আমাদের বাসা হাতিরপুলের প্রায় ৪০০ গজ উত্তরে রেললাইনের পুবে পরিবাগ। এই আধ ঘণ্টা কারওয়ান বাজারের কাছে একটি আমগাছ তলায় মলিন লুঙ্গি-পাজামা পরা মধ্যবয়সী এক কৃমির ওষুধ বিক্রেতার দোতারা গান শুনতাম। সে কালের, যেটাকে ‘বাংলা গানের স্বর্ণযুগ’ বলা হয়, সব নামীদামি বিখ্যাত গায়কের গান শুনেছি। কিন্তু কী জাদু এই কৃমির ওষুধ বিক্রেতার দোতারার মেঠো গানে তা প্রকাশ করার ভাষা আমার নেই।

একদিন কী কারণে দোতারাবাদক সেখানে আসেননি। দোতারা বাদকই বলব, কারণ ওষুধ বিক্রিটা ছিল তার ছল। তাকে ঘিরে লোকে গোল হয়ে বসে তার সুললিত কণ্ঠের গান শুনত কিন্তু কোনোদিন কাউকে কৃমির ওষুধ কিনতে দেখিনি। সে দিকে গায়কেরও কোনো মনোযোগ ছিল না। আপন মনে বিভোর হয়ে তিনি গান গাইতেন। সেদিন সকাল ৯টার আগে স্কুলে চলে এলাম। আমার জানা ছিল না যে, ৯টার আগে স্কুলে আসা বারণ। আমার মেটাল ওয়ার্কসের শিক্ষক গাজী স্যারের নজরে পড়ে গেলাম। স্যার বারান্দায় আমাকে পেয়ে বললেন, ‘জানো না ৯টার আগে স্কুলে আসা বারণ?’ সবিনয়ে বললাম, ‘না স্যার’। তিনি আমাকে হেড স্যারের রুমে নিয়ে গেলেন। হেড স্যার সভাবসুলভ নম্র অথচ গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, ‘৯টার আগে স্কুলে এসেছ কেন?’ বললাম, ‘জানতাম না স্যার’। তিনি কান ধরে তিনবার উঠবস করালেন। অপমানে মুখ লাল হয়ে গেল। স্কুলের সবচেয়ে উঁচু ক্লাসের ফার্স্ট বয় কান ধরে উঠবস করছে। এরপর বললেন, যেন আর কোনোদিন ৯টার আগে স্কুলে না আসি। তবে আর কোনোদিন দোতারা বাদকও মিস করেননি।

আমি ইস্ট পাকিস্তান সেকেন্ডারি এডুকেশন বোর্ডে ম্যাট্রিকুলেশনে (টেকনিক্যাল) প্রথম হয়েছি। আমাকে একদিন আমার বাবা বললেন, দুপুর ১২টায় হাতিরপুলে গিয়ে বসে থাকতে। হেড স্যারকে তিনি দাওয়াত করেছেন। বাসা চিনিয়ে নিয়ে আসতে হবে। কড়া রোদের মধ্যে দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত বসে রইলাম। স্যার এলেন। আমাকে দেখে স্যার খুশি। স্যারকে এর আগে কোনোদিন হাসতে দেখিনি। খাবার পর আবার হাতিরপুল গিয়ে স্যারকে রিকশায় তুলে দিয়ে এলাম। আমি খুশি।

১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পরপরই করাচির পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্সে (পিআইডিই) স্টাফ ইকোনমিক্স পদে যোগদান করতে চলে যাই। থাকি করাচি ম্যাকলয়েড রোডের উপরে দক্ষিণমুখী হোসেন আলী হলে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু পাকিস্তান সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট সার্ভিসের প্রশিক্ষণার্থী আবু সালেহ ও তার সহকর্মী হোসেন আহমদের সাথে। উভয়েই চট্টগ্রামের। এক শনিবার সন্ধ্যায় সালেহ বলল, ‘কাল আমরা হায়দ্রাবাদ যাবো। আমাদের সাথে চলুন’। বললাম, ‘হায়দ্রাবাদ আমি দেখেছি। আমার যাওয়ার ইচ্ছে নেই’। তাদের অনুরোধে যেতে রাজি হলাম।

একটি ক্রিম কালারের ভক্সওয়াগন গাড়িতে করে তিনজনে যাব। চালক হোসেনের চাচাত শ্যালক। ১৮-১৯ বছরের যুবক। গাড়িটি তাদেরই। সকাল ৮টায় হোসেন এসে আমাকে ডাকাডাকি করছে। আমি উঠলাম। বললাম, ‘পাঁচ মিনিট লাগবে, একটু বসুন’। বলে লুঙ্গি তোয়ালে নিয়ে বাথরুমে ঢুকলাম। হঠাৎ মনটা পাল্টে গেল। এর মধ্যে এক মগ পানি মাথায় ঢেলেও ফেলেছি। এ অবস্থায়ই বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে বললাম, ‘আমার ভালো লাগছে না, আমি যাব না; আপনারা চলে যান’। তারা চলে গেল। সন্ধ্যার আগেই তাদের ফেরার কথা। রাত হয়ে গেল। ৯টার দিকে বাবুর্চি আমাকে খেতে সাধল। বললাম, ‘আরেকটু দেখি’। ১০টার দিকে বাবুর্চি আবার খাওয়ার জন্য তাগাদা দিলো। আমি বললাম, ‘দাও’। খেয়ে এসে আবার জানালার সামনে রাতের ম্যাকলয়েড রোডের দিকে মুখ করে বসলাম। একটু পর বাবুর্চি এসে বলল, ‘স্যার আমি খাইয়া লাই?’ আমি বললাম, ‘খাও’। ১১টার দিকে চিন্তিত হয়ে পড়লাম। হায়দ্রাবাদ তাদের থাকার কথা নয়। কাল একাডেমিতে তাদের ক্লাস আছে। বাবুর্চির খাওয়া হলে এক কাপ চা খেলাম। রাত ১২টার দিকে বাবুর্চি বলল, ‘স্যার ঘুমান, আমি এই রুমে থাহি’। তারা আইয়া ডাক দিলে টের পামু’। ঘুমোতে গেলাম।

আমার ঘুম প্রায় পেকে গেছে। অস্পষ্ট শুনতে পেলাম খাটের পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে কেউ ডাকছে। ঘুম ভাঙলে চোখ মেলে দেখি আমাদের বাবুর্চি। আমি জানতে চাইলাম, ‘কী হয়েছে’? সে আতঙ্কিত। চাপা স্বরে বলল, ‘কে জানি দরজা ঠেলতাছে, গলার আওয়াজ চিনি না’। রাত সাড়ে ৩টা। বললাম, ‘দরজা খোলো’।

আমি হলরুমের খোলা জানালা বরাবর মেঝের উপর দরজার দিকে মুখ করে দাঁড়ানো। হোসেনের সেই শ্যালক। গায়ের জামায় রক্তের দাগ। এর সাথে মধ্যবয়সী এক কালো মোটাসোটা ভদ্রলোক। ভেতরে ডুকেই ছেলেটি বলল, ‘উই হ্যাড এ ফ্যাটাল এক্সিডেন্ট অন আওয়ার ওয়ে টু হায়দ্রাবাদ নিয়ার থাট্টা। হোসেন আহমেদ হ্যাজ এক্সপায়ার্ড। সালেহ সাফার্ড এ হেড ইঞ্জুরি। দ্য ডেড বডি অ্যান্ড সালেহ আর ইন দ্য থাট্টা হসপিটাল’। এটা শোনার পর নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। সাথে সাথে বসে পড়লাম। তারা চলে গেল। সম্বিত ফিরে পেয়ে উঠে দাঁড়ালাম। বাবুর্চিকে বললাম, ‘এক কাপ চা দাও, আর শোবো না’। চা খেয়ে খোলা জানালায় বসে রইলাম। বুঝলাম যে-ভার যে সইতে পারবে না মহান আল্লাহ তাকে সে ভার দেন না। আর তাই বুঝি আমার যাওয়া হলো না।

ভোর হওয়ার আগেই দাঁত মাজা, শেভ করা, গোসল করা সেরে নিলাম। সাড়ে ৫টার দিকে বাসা থেকে রাস্তায় নেমে একটি টেক্সিতে উঠলাম, করাচি গভর্র্নমেন্ট হোস্টেলে যাব। সেখানে সালেহ এবং হোসেনের সহকর্মীরা থাকেন। মকবুল আহমেদ গিল নামে সালেহর এক সহকর্মীর সাথে আগেই পরিচয় হয়েছিল। তাকেই যেয়ে ধরতে হবে। বাকিটা তার দায়িত্ব। গিলকে পাওয়া গেল। সেখান থেকে তাদের ট্রেনিং একাডেমির ডাইরেক্টরের বাসায় গেলাম।

এর মধ্যে আমার ডাইরেক্টরের অনুমতি নিয়ে নিলাম। দুপুর ১২টা নাগাদ থাট্টা পৌঁছলাম। থাট্টা হাসপাতালে পৌঁছে আমরা প্রথমে হোসেনের লাশ শনাক্ত করলাম। এরপর হাসপাতালের ওয়ার্ডে আহত সালেহকে দেখতে গেলাম। সালের মাথায় আঘাত লেগেছে। আঘাত তেমন গুরুতর নয়। ডেড বডি এবং সালেহকে জিন্নাহ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল করাচিতে পাঠিয়ে দেয়া হলো। এ কলেজ ও হাসপাতালের ডাইরেক্টর ডা: মোহাম্মদ ইবরাহিম। পরবর্তীতে ঢাকা বারডেমের প্রতিষ্ঠাতা। আহত সালেহ এবং হোসেনের ডেড বডি তাদের ডাইরেক্টরের কাছে হস্তান্তর করা হলো।

সেদিনই সন্ধ্যায় হোসেনের লাশ কফিনবন্দী করা হলো। একাডেমির প্রায় সবাই উপস্থিত। স্থান জিন্নাহ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাশঘরের তরুলতা আচ্ছাদিত সামনের দিকটা। কফিনটি তার পেশোয়ারি স্ত্রীর কাছে পেশোয়ার যাবে। কফিনের সাথে কিছু ফুল আর তার সদ্যোজাত মেয়ের জন্য কেনা জামাকাপড়গুলো পাঠিয়ে দিলাম। দেখতে যাওয়র কথা ছিল। বাবা নবজাত মেয়েকে দেখতে পেলো না। অবুঝ শিশুকন্যা বাবার লাশ দেখে শোকে মুহ্যমান মায়ের কোলে বসে শূন্যে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত-পা ছুড়বে। চট্টগ্রামে হোসেনের আত্মীয় পরিজন কেউ আর তাকে দেখতে পাবে না।

১৯৯০ সালে আমার এক জ্যেষ্ঠ সহকর্মী কুমিল্লা শিক্ষা বের্ডের কম্পট্রোলার। আমার এক সমসাময়িক সহকর্মী সেলফোনে আলাপ করতে গিয়ে বললেন- তিনি কী বলেছেন, ‘জানেন? আজকালের মেধাবী ছেলেরা শকুন। যেমন অনেক উপরে উঠে শকুন চোখ মেলে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখে, কোথায় গরু মরল। এরাও তেমনি অনেক উপরে উঠে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখে কোন দেশে গেলে বেশি টাকা রোজগার করা যাবে’। বড় দুঃখে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। তার স্ত্রী মারা গেলে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী ছেলেটি মাকে দেখতে আসেনি। এর চেয়ে বেদনাদায়ক আক্ষেপ আর কী হতে পারে!

২০২০ সাল। অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বিগত ১৭-১৮ বছর যাবত অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোথাও যেতে পারি না। প্রথম প্রথম সিএনজি বা টেক্সিতে উঠতে পারতাম। বিগত ৮-৯ বছর ধরে একেবারেই না। তাই আমার প্রিয় বন্ধু ড. আবদুল কাদির ভূঁইয়া যখন মাস চারেক আগে ঢাকার বাড্ডায় নিজ ফ্ল্যাটে মারা গেল, আমি তাকে দেখতে যেতে পারিনি। নীরবে অশ্র“পাতও করিনি। আমাদের এই ৭৮ বছর বয়সে ব্যাপারটিকে একরকম স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছি। আবদুল কাদির আমার সহপাঠী ছিল না তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে দুজনেই একই ইয়ারে ইস্ট হাউজের আবাসিক ছাত্র।

সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেছে। এরপর সেলফোনে যখন যোগাযোগ হলো তখন ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে সে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক টার্ম উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছে। প্রথম কলে আমি তাকে ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করলে সে বলল, ‘খালেদ! আমরা তো তুমি বলেই পরস্পরকে সম্বোধন করতাম’। লজ্জা পেলাম। ছাত্রজীবনে আবদুল কাদির আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কেউ ছিল না। তবে অবসর জীবনে দু’জনের ঘনিষ্ঠতা এতটাই বাড়ল যে, একে অপরকে সপ্তাহে তিন-চার দিন সেলফোনে ডাকতাম। ঘনিষ্ঠতার দু’টি কারণ। একটি- নয়া দিগন্তে আমার লেখা এবং আরেকটি হলো- হঠাৎ করে আবিষ্কার করলাম সে ঢাকা কলেজে ১৯৬০ সালের গোড়ার দিকে আমার প্রিয় স্যার, পদার্থবিদ্যার তরুণ জহিরুল হক ভূঁইয়ার বড় বোনের ছেলে।

আবদুল কাদিরের সাথে আমার সেলফোন সম্পর্ক বছর সাতেক স্থায়ী হয়েছে। এর মধ্যে সে চলে গেল। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, বাংলা কোন পত্রিকায় লিখব। ‘নয়া দিগন্তে লিখো’। নয়া দিগন্তে আমার লেখা কিছুদিন চলার পর একদিন আমার একটি লেখা পড়ে সকালে টেলিফোনে বলল, ‘তুমি একজন অসাধারণ লেখক’। উত্তরে বললাম, ‘আবদুল কাদির, আমি প্রশংসা পছন্দ করি না’। এরপর থেকে সে আর কোনোদিন আমার লেখার প্রশংসা করেনি; তবে একবার একটি লেখা পড়ে টেলিফোন করে বলেছিল, ‘একটু সফট হওয়াই ভালো’। সে আমাকে সহ্য করত এবং আমিও তাকে। আমি জানতাম নয়া দিগন্তের লেখা তার ভাবাদর্শের সাথে মানায় না। একবার বলেছিলাম, ‘আবদুল কাদির, তোমাকে যতদূর জানি, নয়া দিগন্ত তোমার পত্রিকা নয়। তুমি এটা রেখো না’। সত্যি সত্যি সে পত্রিকাটি বন্ধ করে দিলো। এর সপ্তাহ দু’য়েক পর এক দুপুরে আমাকে টেলিফোনে বলল, ‘আবদুল হাকিম সরকার বলেছে, নয়া দিগন্ত নাকি তোমাকে প্রমোশন দিয়েছে’।

আবদুল হাকিম সরকার তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসমেট এবং এডওয়ার্ড কলেজে আমার সহকর্মী। সে সিরাজগঞ্জের নিজ গ্রামে থাকে। নিয়মিত নয়া দিগন্ত পড়ে। ব্যাপারটা হয়েছে কী, সেদিন নয়া দিগন্ত আমার লেখা লিড দিয়েছে। আমি আবদুল কাদিরকে বললাম, ‘আমার ইচ্ছা ছিল তুমি লেখাটা পড়ো। আচ্ছা ঠিক আছে, এখন থেকে তুমি আবার নয়া দিগন্ত রাখা শুরু করো’। সে তা-ই করল। এখন যেদিন নয়া দিগন্তে আমার লেখা বেরোয় তাকে স্মরণ করে ইমোশনাল হয়ে পড়ি।

লেখক : অর্থনীতির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং ভাইস প্রিন্সিপাল, মহিলা সরকারি কলেজ, কুমিল্লা